সর্বশেষ সংবাদ :

গণভোট নিয়ে এখনো অন্ধকারে গ্রামের মানুষ

নুরুজ্জামান, বাঘা: দেশে অর্থনীতির চালিকা শক্তি কৃষক। যারা রাষ্ট পরিচালনায় সরকার গঠনে ভোট দিয়ে সহায়তা করেন। কিন্তু তারা জানেন না, গণভোট কি? তাদের কাছে এ বিষয়ে সু-নির্দিষ্ট কোন তথ্য নেই। গণভোটের বিষয়ে সরকারী ভাবে নানা প্রচার-প্রচারনা চালানো হলেও এর প্রতীক (হ্যাঁ-না) অক্ষর চেনেন-না গ্রামের অধিকাংশ খেটে খাওয়া নিরক্ষর মানুষ। ফলে তারা এই ভোট নিয়ে অনেকটাই শঙ্কিত রয়েছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হ্যাঁ-না শব্দ দুটি যদি রঙ্গিন কোন বৃত্তের মধ্যে লেখা হতো, তাহলে নিরক্ষর মানুষ গুলো বৃত্তের কালার দেখে জানতে পারতেন কোনটা হ্যাঁ’ আর কোনটা না’ ভোট।
সারাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২২.১ শতাংশ বা তার বেশি মানুষ এখনও নিরক্ষর। এই নিরক্ষর জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় পৌনে ৫ কোটি। তারা ছবি সম্বলিত বিভিন্ন প্রতীক এর সাথে পরিচিত। তবে পড়া-লেখা না জানার কারনে তারা অক্ষর জ্ঞানহীন। তাহলে কোন শব্দটির পাশে টিক চিহৃ দিবেন এ নিয়ে হতাশায় ভুগছেন সারাদেশসহ রাজশাহীর-৬ সীমান্তবর্তী (চারঘাট-বাঘা) উপজেলার মানুষ ।
জানতে চাইলে বাঘা উপজেলার আমোদপুর গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, শুনছি এবার নাকি দুটি ব্যালোটে ভোট নিবে সরকার। এরমধ্যে একটিতে প্রতীক দেয়া থাকবে, আর অন্যটিতে হা-না অক্ষর। আমি তো অক্ষর চিনিনা , তাহলে কি করে ভোট দিবো ? এ সময় তার সাথে সুর মিলিয়ে অনেকে একই মন্তব্য করেন। এ সময় রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন দু’জন ভিক্ষুক। এ প্রতিবেদক তাদের কাছে জানতে চাইলে, তারা গণভোট কি-তা জানেন-না, তাই একটি প্রতীকে ভোটে দিয়ে বাড়ি ফিরবেন বলে মত প্রকাশ করেন।
এ অঞ্চলের সুশীল সমাজের লোকজন বলছেন, এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। প্রতিটি নাগরিক একসঙ্গে দুটি করে দুই রুমে গিয়ে ভোট প্রদান করবেন। তবে গণভোটে হ্যাঁ বা না’ জিতলে কী হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা নেই অধিকাংশ ভোটারদের। তাদের মধ্যে এক ধরনের অজ্ঞতা কাজ করছে। আবার অনেকেই অক্ষর না চেনার কারনে বুঝতে পারছেন না কোথায় ভোট দিতে হবে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হা-না শব্দ দুটি যদি রঙ্গিন কোন বৃত্তের মধ্যে লেখা হতো তাহলে নিরক্ষর মানুষ গুলো বৃত্ত দেখে হলেও জানতে পারতেন , কোনটা হা আর কোনটা না’ভোট ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গণভোটের জন্য সরকার দেশের প্রত্যান্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে শহর কেন্দ্রিক বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভোটার-সচেতনতার জন্য বিভিন্ন ভিডিও কনন্টেট, ফটো কার্ড, ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড ও মোবাইলে খুদে বার্তা পাঠানো-সহ গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করছেন। এমনকি বিভিন্ন বে-সরকারি ব্যাংক-বীমা প্রতিষ্ঠানেও গণভোটে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এতে শেষ পর্যন্ত গ্রামঞ্চলের সাধারণ ভোটাররা গণভোট সম্পর্কে কতটুকু জানতে পারবে সেটিই এখন দেখার বাকি।


প্রকাশিত: February 1, 2026 | সময়: 5:06 am | সুমন শেখ