সর্বশেষ সংবাদ :

জমজমাট গরম কাপড়ের বাজার

সবুজ ইসলাম: গত কয়েকদিনের ব্যবধানে রাজশাহীতে বাড়ছে শীতের তীব্রতা। সকালের হিমেল বাতাস এবং সন্ধ্যার পরে কুয়াশার উপস্থিতি জানান দিচ্ছে নগরীতে এসেছে বছরের শীতলতম ঋতু শীত। আর শীতের আমেজ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নগরজুড়ে ফুটপাতে গরম কাপড়ের বাজারে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য। গত কয়েকদিনে বাড়তি শীত অনুভূত হওয়ায় সাধারণ মানুষ ঝুঁকছে শীতের পোশাকের দিকে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে নগরীর ফুটপাতের অস্থায়ী দোকানগুলোতে। প্রতিদিনই সোয়েটার, জ্যাকেট, শাল ও কম্বল বিক্রি হচ্ছে কয়েক লাখ টাকার।
সোমবার বিকেলে নগরীর সাহেববাজার, নিউমার্কেট, লক্ষ্মীপুর মোড়, ভদ্রা, কোর্ট চত্বর, রেলগেট ও শিরোইল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ফুটপাতজুড়ে সারি সারি গরম কাপড়ের দোকান বসেছে এবং কোথাও কোথাও ভ্যানে অস্থায়ী দোকান গড়ে তোলা হয়েছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিক্রেতারা।
বিপণী বিতানের তুলনায় দাম তুলনামূলক কম, তাই ফুটপাতেই ভরসা প্রান্তিক পর্যায়ের সাধারণ মানুষদের। দোকানগুলোতে বিভিন্ন মান ও দামের গরম কাপড় পাওয়া যাচ্ছে। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিশুদের সোয়েটার প্রকারভেদে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে, বড়দের সোয়েটার: ৫০০ থেকে ১,২০০ টাকা, মাঝারি জ্যাকেট: ৮০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা, ভারী জ্যাকেট ও হুডি: ৮০০ থেকে দুই হাজার টাকা, সাধারণ কম্বল: ৪০০ থেকে দেড় হাজার টাকা, ভারী ও ডাবল কম্বল: এক হাজার ২০০ থেকে তিন হাজার টাকা, শাল ও মাফলার: ২০০ থেকে ৮০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
বিক্রেতারা বলছেন, শপিংমলের তুলনায় এখানে একই ধরনের পোশাক ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম দামে পাওয়া যায়। সাহেববাজার এলাকার সোয়েটার ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, “গত দুদিন থেকে বিক্রি হঠাৎ বেড়ে গেছে। আমার প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার মতো বেচাকেনা হচ্ছে। শীত যদি আরও বাড়ে, তাহলে বিক্রি আরও বাড়বে।”
কোর্ট এলাকার আরেক বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন,“নিম্ন আয়ের মানুষ বেশি আসেন ফুটপাতে। আমরা চেষ্টা করি কম দামে ভালো জিনিস দিতে। এখন সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে কম্বল আর শিশুদের সোয়েটার।”
কয়েকজন ক্রেতার সাথে কথা বললে তারা জানান, মার্কেটের তুলনায় একই পণ্যে এখানে কম দামে পাওয়ায় তারা এখানে এসেছেন। ফুটপাত থেকে শীতের পোশাক কিনতে আসা নগরীর উপশহরের বাসিন্দা রেজাউল করিম বলেন,“পরিবারের সবার জন্য শীতের কাপড় কিনতে হলে শপিংমলে অনেক টাকা লাগে। ফুটপাতে তুলনামূলক কম দামে প্রয়োজন মেটানো যায়।”
সেলিনা বেগম নামের একজন গৃহিণী বলেন,“বাচ্চাদের কাপড় প্রতি বছর নতুন কিনতে হয়। তাই ফুটপাত থেকেই নিই। দামও কম, ডিজাইনও মন্দ না।”
স্থানীয় পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা জানান, শীত বাড়লে আরও চাঙা হবে বাজার। তারা আশা করছেন, জানুয়ারি মাসে শীতের তীব্রতা আরও বাড়লে গরম কাপড়ের বিক্রি দ্বিগুণ হতে পারে। একই সঙ্গে এই মৌসুমি ব্যবসা নগরীর অসংখ্য ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর আয়ের বড় উৎস হয়ে উঠেছে। সব মিলিয়ে শীতের আমেজে রাজশাহীর ফুটপাতের গরম কাপড়ের বাজার এখন বেশ জমজমাট। ক্রেতা-বিক্রেতার এই প্রাণবন্ত উপস্থিতি নগরজীবনের একটি পরিচিত ও গুরুত্বপূর্ণ চিত্র হয়ে উঠেছে।


প্রকাশিত: December 23, 2025 | সময়: 2:58 am | সুমন শেখ

আরও খবর