, , ।
মাহফুজুর রহমান প্রিন্স, বাগমারা: আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সারা দেশে ২৩৭ টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষনা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। সম্প্রতি এই মনোনয়ন তালিকা ঘোষণা করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর। ঘোষণাকৃত এই তালিকা অনুযায়ী রাজশাহী-৪ বাগমারা আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়া।
প্রত্যাশা অনুয়ায়ী এই মনোনয়নের খবর প্রকাশ হতেই উল্লাসে ফেটে পড়েছেন বাগমারা উপজেলার তৃণমূল বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তাদের প্রত্যাশা ডিএম জিয়ার হাত ধরেই এক সময়ের বিএনপির ঘাটি বাগমারা আসনটিতে আবার বিএনপি বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে।
স্থানীয় তৃণমূল নেতা কর্মীদের মতে, ডিএম জিয়া দলের জন্য একজন নিবেদিত প্রাণ নেতা। তিনি দুর্দিনে দলকে সংগঠিত করেছেন। জেল জুলুম ও নির্যাতন সহ্য করেছেন। বিগত ফ্যাসিবাদ হাসিনার ১৭ বছরের শাসনামলে শত শত বিএনপির নেতা কর্মীর নামে মিথ্যা ভিত্তিহীন মামলা দিয়ে তাদেরকে যখন বাড়ি ছাড়া করা হয়।
ডিএম জিয়া সে সময় এসব নির্যাতিত নেতা কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদেরকে বিভিন্ন ভাবে সাহায্য সহযোগিতা করেছেন এবং আদালতে মামলা পরিচালনা সহ তাদের জামিন করার ব্যাপারে অবিরাম ভাবে সাহায্য সহযোগিতা করেছেন।
স্থানীয় নেতা কর্মীরা জানান, ডিএম জিয়া একজন দক্ষ রাজনীতিবিদ। বিএনপির হাইকমান্ড যথাযত এবং সার্বিক তদন্ত করেই তাঁর মতো একজন যোগ্য নেতাকেই বেছে নিয়ে মনোনয়ন দিয়েছেন বলে আমরা দলের হাই কমান্ডকে সাদুবাদ জানাই। তাদের মতে, ডিএম জিয়া ইউনিয়নের রাজনীতি থেকে ওঠে এসেছেন।
তাঁর পিতা মরহুম ডিএম মজিবুর রহমান ছিলেন একজন দক্ষ রাজনীতিবিদ সমাজ সেবক। তিনি বৃটিশ আমল থেকেই ইউনিয়নের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। তিন তিন বার ইউপি সদস্য পরবর্তীতে একাধিকবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন মজিবুর রহমান। পারিবারিক ভাবেই ডিএম জিয়া বাবার কাছেই রাজনীতিতে হাতেখড়ি পান। ডিএম জিয়াও ইউনিয়নের রাজনীতি থেকে ওঠে আসেন।
একাধিকবার ইউপি চেয়ারম্যান ও পরবর্তীতে এক চান্সেই বিপুল ভোটে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ডিএম জিয়া। বিগত আওয়ামী লীগের শাসনামলে আওয়ামী লীগের হেভি ওয়েট প্রার্থী রাজশাহী জজ কোর্টের তৎকালীন পিপি এ্যাড ইব্রাহীম হোসেনকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তার ছেড়ে দেওয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদে তার ছোট ভাই ডিএম শাফি বিপুল ভোটে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বর্তমানে আউসপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে আসীন আসেন ডিএম শাফিকুর রহমান শাফি।
দলীয় একাধিক সূত্র মতে আওয়ামী লীগের সময়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে তৎকালীন ফ্যাসিবাদ সরকারের দোসর তৎকালীন এমপি ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক ডিএম জিয়ার বিরুদ্ধে ওঠে পড়ে লাগেন। তাঁর নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়। ডিএম জিয়ার মিছিলে হামলা চালানো হয়। উল্টো তাদের বিরুদ্ধেই একাধিক মামলা দিয়ে পুলিশ লেলিয়ে দেওয়া হয় ডিএম জিয়া সহ শত শত বিএনপি নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে।
উপজেলা তাঁতি দলের আহবায়ক মামুনুর রশিদ মামুন জানান, ডিএম জিয়া ভাই একজন সৎ ও যোগ্য নেতা। দলীয় গ্রুপিং এর কারনে তার নামে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ভাবে নিন্দা বদনাম ও অপবাদ ছড়ানো হয়েছে। যা এখনও অব্যাহত আছে। এসবই য়ড়যন্ত্র। ভবানীগঞ্জ পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জয়নাল হাজারী জানান, ডিএম জিয়া এর আগে আওয়ামী লীগের জুলুম নির্যাতনের সময়ে উপজেলা চেয়ারম্যান হয়ে যোগ্য নেতৃত্ব দিয়েছেন। এবার তিনি এমপি হয়ে বাগমারা থেকে ঘুষ দুর্নীতি চাঁদাবাজি দখলবাজি মাদক দূর করে শান্তির বাগমারা প্রতিষ্ঠা করবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
ভবানীগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র আব্দুর রাজ্জাক জানান, ডিএম জিয়ার মনোনয়ন কোন টাকার বিনিময়ে হয়নি। তিনি যোগ্য দক্ষ এবং সৎ। আজ এটাই প্রমানিত হয়েছে। বাগমারা বিএনপির ঘাটি ছিল আছে আগামীতে থাকবে। এবারে ধানের শীষ নিয়ে ডিএম জিয়া সেটাই প্রমান করবেন।
তাহেরপুর পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র আবু নাইম সামছুর রহমান মিন্টু জানান, দুর্দিনে দলের হাল ধরেছেন ডিএম জিয়া, মামলা হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ডিএম জিয়া। দল তাঁর প্রতি সুবিচার করেছেন। তিনিই হবেন আগামীর এমপি বাগমারার গণমানুষের এমপি।
ডিএম জিয়াই একমাত্র নেতা যিনি দলের গ্রুপিং দ্বন্দ্ব হিংসা বিদ্বেষ অবসান করে দৃড় ঐক্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাগমারা বিএনপিকে সামনের দিকে নিয়ে যাবেন এবং আপামর বাগমারাবাসীর এমপি হয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন এটাই সবার প্রত্যাশা।