বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
সানশাইন ডেস্ক: ঝরে গেলেন বাংলার সংগীত আকাশের উজ্জ্বলতম এক নক্ষত্র। নাম তার ফরিদা পারভীন। তার কণ্ঠ শুধু কণ্ঠ ছিল না, ছিল যেন কোনো অলৌকিক আশীর্বাদ—এক অদৃশ্য স্পর্শ, যা লালন সাঁইয়ের অমর বাণীকে বাংলার প্রতিটি পথ-প্রান্তরে ছড়িয়ে দিয়েছে, মানুষের হৃদয়ের গভীরে অমোঘ ছাপ এঁকে দিয়েছে। তাই যখন তার বিদায়ের খবর কানে এলো, তখন হৃদয়ের ভেতর নেমে এলো সীমাহীন শূন্যতা, এক অদ্ভুত হাহাকার। মনে হলো যেন শুধু একজন শিল্পী নয়, বিদায় নিলেন এক যুগ, থেমে গেল এক সুরের নদীর অনন্ত স্রোতধারা। পৃথিবীর অমোঘ নিয়মে আমাদের চিরচেনা হাসি, প্রাণোচ্ছল কণ্ঠ আর অনন্ত সুর চিরতরে স্তব্ধ হয়ে গেল।
ফরিদা পারভীনের গান বাংলার আত্মার সুর হয়ে যুগে যুগে ধ্বনিত হয়েছে। এই কিংবদন্তি শিল্পী শুধু একজন গায়িকা ছিলেন না, তিনি ছিলেন জীবন্ত ইতিহাস, বাউল ফকিরদের গভীর দর্শনের নিবেদিতপ্রাণ দূত। তার কণ্ঠে লালন সাঁইয়ের গান যেন নতুন প্রাণ পেত, সহজ-সরল বাণী হয়ে যেত মানুষের অন্তরের দিকনির্দেশ। যে-ই তার গান শুনেছে, অনুভব করেছে—এ কণ্ঠ কেবল সংগীত পরিবেশন করছে না, বরং হৃদয়ের অন্তর্লোক উজ্জ্বল করে দিচ্ছে আধ্যাত্মিক আলোর দীপশিখা।
১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাটোর জেলার সিংড়া থানার শাঔঁল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ফরিদা পারভীন। শৈশবের স্মৃতিময় দিনগুলো কেটেছে কুষ্টিয়া ও মাগুরার প্রকৃতির কোলে। গ্রামীণ জীবনের সরলতা, নদীর স্রোত, বিলের শাপলা আর পাখির ডাক তার অন্তরে সুরের বীজ বপন করেছিল খুব অল্প বয়সেই। চঞ্চল আর কৌতূহলী ফরিদা ছোটবেলা থেকেই গান শুনতে ভীষণ ভালোবাসতেন। রেডিওতে যখন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের বা সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের গান বাজত, তখন ছোট্ট ফরিদা মন দিয়ে শুনতেন, কখনো আবেগে কেঁদেও ফেলতেন। গান ধীরে ধীরে তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেই এসব কথা বলেছেন।
মাত্র চার-পাঁচ বছর বয়সে তার গানের হাতেখড়ি হয় মাগুরায় ওস্তাদ কমল চক্রবর্তীর কাছে। বাবা সরকারি চাকরিজীবী ছিলেন, ফলে বিভিন্ন জায়গায় বদলি হতে হতো, আর এরই কারণে ফরিদা পড়েছেন একাধিক স্কুলে। কুষ্টিয়ার মীর মশাররফ হোসেন বালিকা বিদ্যালয় থেকে তিনি ম্যাট্রিক, কুষ্টিয়া গার্লস কলেজ থেকে এইচএসসি এবং পরবর্তীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনার্স সম্পন্ন করেন। শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি চলেছে সংগীত শিক্ষা। ওস্তাদ ইব্রাহিম তাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন ক্ল্যাসিক্যাল সংগীতে মনোযোগী হতে, এরপর তিনি নিয়মিত তালিম নেন রবীন্দ্রনাথ রায়, মোতালেব বিশ্বাস, ওসমান গণি, আবদুল কাদের ও মীর মোজাফফর আলীর কাছে। ১৯৬৮ সালে রাজশাহী বেতারে নজরুলসঙ্গীত শিল্পী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন তিনি। শুরুতে তার গানের দুনিয়া ছিল ক্ল্যাসিক্যাল আর নজরুলসংগীতের ভুবনে, তবে ভাগ্য তাকে টেনে নিয়ে যায় আরও গভীর আর আধ্যাত্মিক এক জগতে—লালন গানের ভুবনে।
স্বাধীনতার পর কুষ্টিয়ায় অবস্থানকালে তার জীবনের বড় মোড় ঘোরে। গুরু মোকছেদ আলী সাঁইয়ের কাছে তিনি প্রথম লালনের গান শেখা শুরু করেন। তার শেখা প্রথম গান ছিল ‘সত্য বল সুপথে চল’। সেই শুরু, তারপর খোদা বক্স সাঁই, ব্রজেন দাস, বেহাল সাঁই, ইয়াছিন সাঁই ও করিম সাঁইয়ের কাছ থেকেও তিনি তালিম নেন। ধীরে ধীরে লালনের গানের গভীর দর্শন তাকে আলোড়িত করতে থাকে। শুরুতে কিছুটা অনীহা থাকলেও শীঘ্রই তিনি উপলব্ধি করেন, লালনের গান কেবল সংগীত নয়, এটি এক জীবনদর্শন। তার নিজের স্বীকারোক্তি, “লালনের গান আমার আত্মার খোরাক।” তাই তিনি এই গানের মধ্যেই খুঁজে পান জীবনের অর্থ, মানুষের প্রতি ভালোবাসার দীক্ষা আর মনুষ্যত্বের শিক্ষা।
ঢাকায় এসে তিনি বেতার ও টেলিভিশনে নিয়মিত গাইতে শুরু করেন। মোকছেদ আলী সাঁইয়ের অনুরোধে তিনি লালনের গান রেকর্ড করেন ট্রান্সক্রিপশন সার্ভিসে। আর সেখান থেকেই শুরু হয় এক অনন্য যাত্রা। ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’, ‘বাড়ির কাছে আরশি নগর’, ‘সময় গেলে সাধন হবে না’—এসব গান তার কণ্ঠে মানুষের অন্তরে গেঁথে যায়। মানুষ শুধু গান শোনেনি, অনুভব করেছে ভেতরের দার্শনিক আলো। ফরিদা পারভীনের গায়কীতে ছিল সহজ সরল আবেগ, আধ্যাত্মিক প্রকাশ আর মাটির গন্ধ। তার গানে লালনের দার্শনিক বাণী সাধারণ মানুষের জন্য সহজবোধ্য হয়ে উঠেছে।
তিনি সবসময় শুদ্ধ সংগীত পরিবেশনের উপর জোর দিতেন। লালনের গানের বিকৃতি তাকে কষ্ট দিত। তিনি বলতেন, “অনেক সময় এক গানের ভেতরে অন্য গানের কথা জুড়ে দেওয়া হয়, এতে আসল অর্থই হারিয়ে যায়।” তাই তিনি গুরুদের কাছ থেকে শেখার পরামর্শ দিতেন এবং বলতেন, লালনের গান পরিবেশনের ক্ষেত্রে এর আঞ্চলিক স্বরভঙ্গি ও মূল সুর অক্ষুণ্ণ রাখা জরুরি। ফিউশনের নামে বিভ্রান্তি সৃষ্টির প্রবণতাকে তিনি তীব্র সমালোচনা করতেন। তার মতে, লালনের গান কেবল সুর নয়, এটি আধ্যাত্মিকতার বাহক, তাই এ গান পরিবেশন করতে হলে দরকার শুদ্ধতা, দরকার আত্মনিবেদন।
ফরিদা পারভীন শুধু বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, তিনি লালনের গান পৌঁছে দিয়েছেন বিশ্বজুড়ে। জাপান, সুইডেন, ডেনমার্ক, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, ইংল্যান্ডসহ বহু দেশে তিনি অনুষ্ঠান করেছেন। বিদেশি শ্রোতারা তার কণ্ঠে লালনের গান শুনে মুগ্ধ হয়েছেন। তাঁরা লালনের দার্শনিকতা সম্পর্কে জানতে পেরেছেন, আর সেই পরিচয়ের সেতু হয়ে দাঁড়িয়েছেন ফরিদা পারভীন।
তার কণ্ঠে অমর হয়ে আছে অসংখ্য গান। ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’, ‘বাড়ির কাছে আরশি নগর’, ‘সময় গেলে সাধন হবে না’, ‘সত্য বল সুপথে চল’, ‘নিন্দার কাঁটা’, ‘তোমরা ভুলেই গেছো মল্লিকাদির নাম’, কিংবা দেশাত্মবোধক গান ‘এই পদ্মা, এই মেঘনা, এই যমুনা-সুরমা নদীর তটে’—সবই তার কণ্ঠে পেয়েছে এক নতুন জীবন। এ গানগুলো শুধু শিল্প নয়, মানুষের জীবনের অংশ হয়ে গেছে, মানুষের আনন্দ-দুঃখের সঙ্গী হয়ে উঠেছে।
তার অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার। ১৯৮৭ সালে একুশে পদক, ১৯৯৩ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ২০০৮ সালে জাপানের ফুকুওকা এশিয়ান কালচার প্রাইজসহ দেশ-বিদেশে বহু সম্মাননা অর্জন করেছেন তিনি। কিন্তু তার কাছে সবচেয়ে বড় পুরস্কার ছিল মানুষের ভালোবাসা। তিনি নিজেই বলেছিলেন, “মানুষের ভালোবাসার ডানায় ভর করে আমি আজীবন বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখি।”
একথা ঠিক যে, ফরিদা পারভীন তার জীবনে অর্জন করেছেন অসংখ্য পুরস্কার, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি আর কোটি মানুষের অগাধ ভালোবাসা। তবুও মনে হয়, আমরা কি তাকে সত্যিকার মর্যাদা দিতে পেরেছিলাম? শেষ জীবনে তার চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে সমাজমাধ্যমে নানা আলোচনা, নানা আক্ষেপ চোখে পড়েছে। প্রশ্ন জেগেছে—রাষ্ট্র কি চাইলে তাকে বিদেশে পাঠিয়ে আরও উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারত না? যে দেশ তার কণ্ঠে নিজের আত্মাকে খুঁজে পেয়েছে, সেই দেশই কি যথাসময়ে তার প্রতি দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়নি? এ আমাদের চিরচেনা বাস্তবতা—যেখানে গুণীজনকে প্রাপ্য সম্মান ও সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা সবসময়ই পিছিয়ে থাকি। তাই দিন শেষে দীর্ঘশ্বাস ছাড়া আর কিছুই থাকে না। ফরিদা পারভীনের চলে যাওয়া নিয়েও সেই দীর্ঘশ্বাস আমাদের বুকের ভেতর জমে রইল।
তার জীবন ছিল এক সংগ্রামের ইতিহাস। অসুস্থতা তাকে বহুবার কাবু করেছে, কিন্তু তিনি প্রতিবারই উঠে দাঁড়িয়েছেন গানের শক্তিতে। কিডনি জটিলতায় ভুগলেও শেষ সময় পর্যন্ত গান আর মানুষের ভালোবাসাই ছিল তার আশ্রয়। কিন্তু একসময় সব পথ বন্ধ হয়ে গেল। চিকিৎসকদের চেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি বিদায় নিলেন। তার প্রস্থান বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে এক অপূরণীয় ক্ষতি।
তিনি আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তার কণ্ঠ, তার গান, তার সাধনা অমর হয়ে আছে। তিনি প্রমাণ করেছেন, সংগীতের কোনো সীমানা নেই, কোনো ধর্ম নেই, কোনো বিভাজন নেই। সংগীত হলো মানবতার কণ্ঠস্বর। লালনের দর্শনকে তিনি কণ্ঠে বহন করে গেছেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। ফরিদা পারভীন কেবল একজন শিল্পী নন, তিনি বাংলার গানের পাখি। তার কণ্ঠে লালনের গান পেয়েছে নতুন ব্যাখ্যা, নতুন প্রাণ। গ্রামের এক সহজ সরল বালিকা থেকে তিনি হয়ে উঠেছিলেন এক জীবন্ত কিংবদন্তি। বাংলার গান তাকে স্মরণ করবে চিরকাল, আর তার কণ্ঠে বাংলার আত্মা বেঁচে থাকবে যুগে যুগে। এদেশের সংগীতপ্রেমী মানুষ তাকে স্মরণ করবে শুধু ইতিহাসের পাতায় নয়, জীবনের প্রতিটি উপলক্ষ্যে, প্রতিটি ব্যথা-বেদনা ও আনন্দ-উল্লাসে। তিনি আছেন, তিনি থাকবেন-প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।
এদিকে লালনসংগীতের বরেণ্য শিল্পী ফরিদা পারভীন মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। শনিবার এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, “নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও গান থেকে দূরে থাকেননি ফরিদা পারভীন। সঙ্গীতের প্রতি তার এই অনুরাগ প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।’’ তিনি বলেন, “নজরুলগীতি, দেশাত্মবোধক নানা ধরনের গান করলেও শ্রোতাদের কাছে ফরিদা পারভীনের পরিচিতি ‘লালনকন্যা’ হিসেবে। পাঁচ দশক ধরে তার কণ্ঠে লালনের গান মানুষের হৃদয় ছুঁয়েছে। তার গান আমাদের সংস্কৃতির অন্তর্লীন দর্শন ও জীবনবোধকেও নতুন মাত্রায় তুলে ধরেছিল। ‘’একুশে পদকপ্রাপ্ত এই শিল্পী বাংলাদেশের সংগীত জগতে যে অবদান রেখেছেন, তা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে মন্তব্য করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘’দেশের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে নিত্যনতুন চিন্তা ও সৃষ্টির খোরাক জোগাবে।’’ ফরিদা পারভীনের আত্মার মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টা তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। শনিবার রাজধানীর মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাত সোয়া ১০টায় ফরিদা পারভীনের মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।
ফরিদা পারভীন বেশ কিছু দিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। কিডনি সমস্যা ও ডায়াবেটিসসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। কিডনি ডায়ালাইসিস চলছিল সপ্তাহে দুদিন করে। তবে মাঝেমধ্যে অবস্থার অবনতি হত তার। চলতি বছরে তিন দফায় হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে তাকে। রাজধানীর মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২ সেপ্টেম্বর ভর্তি করা হয় ফরিদা পারভীনকে।
অপরদিকে লালনশিল্পী ফরিদা পারভীনের মৃত্যু সংস্কৃতি ভুবনের এক বিশাল শূন্যতা বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বরেণ্য শিল্পী ফরিদা পারভীন শনিবার রাত সোয়া ১০টায় রাজধানীর মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।
তার মৃত্যুতে এক শোকবার্তায় মির্জা ফখরুল বলেন, “দেশের বরেণ্য লোকসংগীত শিল্পী ফরিদা পারভীনের ইহধাম ত্যাগে সংগীত জগতে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। এতে লোকসংগীত ও সংস্কৃতির ভুবনে এক বিশাল শুন্যতার সৃষ্টি হল।”তিনি বলেন, তার কণ্ঠে গাওয়া গানগুলো সংগীতপ্রিয় মানুষদের দীর্ঘকাল মুগ্ধ করবে। লালনগীতি ছাড়াও প্রয়াত ফরিদা পারভীন নানামাত্রিক গান গেয়ে অগণিত মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন। বিএনপি মহাসচিব শিল্পীর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।