সর্বশেষ সংবাদ :

বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের দশম গ্রেডে সুযোগ দেয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীতে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের দশম গ্রেডে সুযোগ দেয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার নগরীতে অভিযাত এক কমিটিনিটি সেন্টারে “রাজশাহী পলিটেকনিক এলামনাই এসোসিয়েশনের উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, সম্প্রতি দশম গ্রেড বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি তোলা হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা “রাজশাহী পলিটেকনিক এলামনাই এসোসিয়েশন” তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
বাংলাদেশে প্রকৌশল শিক্ষার ইতিহাস শুরু হয়েছিল ১৮৭৬ সালে আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল (বর্তমান বুয়েট) এ তিন বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা কোর্স চালুর মাধ্যমে। টানা ৭৩ বছর (১৮৭৬-১৯৪৯) দেশে কোনো বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষা চালু ছিল না। তখনকার শিল্প, নির্মাণ ও অবকাঠামো খাত পুরোপুরি পরিচালিত হতো ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের হাত ধরে। ১৯৪৯ সালে প্রথম বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং চালু হলেও ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের ভূমিকা কমেনি, বরং দেশের শিল্প, বিদ্যুৎ, পানি, সড়ক, সেচ ও কারিগরি খাতের মেরুদণ্ড হিসেবে তারা কাজ করে গেছেন।
তবে শুরু থেকেই ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের মর্যাদা খর্ব করার নানা চেষ্টা হয়েছে-পদবী পরিবর্তন, অবনমন, ফোরম্যান/সুপারভাইজার বানানোর প্রচেষ্টা। এসব ষড়যন্ত্র ঠেকাতে ১৯৫১, ১৯৬৭, ১৯৭৮সহ নানা সময়ে তারা আন্দোলন করেছেন, রক্ত দিয়েছেন, চাকরি হারিয়েছেন। অবশেষে ১৯৭৮ ও ১৯৯৪ সালে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে উপ-সহকারী প্রকৌশলী হতে সহকারী প্রকৌশলী পদে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য ৩৩শতাংশ পদোন্নতি, ১০ম গ্রেডভুক্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও অন্যান্য সমমানের পদে শুধুমাত্র ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়োগ এবং প্রকৌশলী পদবী নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে ডিপ্লোমা শিক্ষা চার বছর মেয়াদে উন্নীত হয়ে আন্তর্জাতিক মানে আধুনিকায়িত হয়।
আজও দেশের প্রতিটি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড-বিদ্যুৎ উৎপাদন, পানি উন্নয়ন, সড়ক ও সেতু নির্মাণ, শিল্পকারখানা, তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজে মাঠ পর্যায়ে সর্বাধিক অবদান রাখছেন ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা। বিদেশেও হাজার হাজার ডিপ্লোমা প্রকৌশলী বাংলাদেশের সুনাম বয়ে আনছেন।
অতএব, উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের বাদ দিয়ে দশম গ্রেড বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য উন্মুক্ত করা অবিচার, সরকারি আদেশ অমান্য করা, ইতিহাসবিরোধী এবং বাস্তবতাকে অস্বীকার করার শামিল। আমরা বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের অযৌক্তিক দাবির তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং নিম্ন বর্ণিত দাবি সমূহ মেনে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আকুল আবেদন জনাচ্ছি। সেইসাথে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের অধিকার সংরক্ষণের আন্দোলনে আন্দোলনরত ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র শিক্ষক পেশাজীবি সংগ্রাম পরিষদের সকল সুষ্ঠু কর্মসূচির প্রতি সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সমর্থন জানাচ্ছি।
তাদের দাবি হচ্ছে-১৯৭৮ ও ১৯৯৪ সালে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে উপ-সহকারী প্রকৌশলী হতে সহকারী প্রকৌশলী পদে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য ৩৩% পদোন্নতি, ১০ম গ্রেডভুক্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও অন্যান্য সমমানের পদে শুধুমাত্র ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়োগ এবং প্রকৌশলী পদবী নির্ধারণ করা হয়েছে তা বহাল রাখতে হবে।
চাকুরীক্ষেত্রে প্রকৌশল বিভাগ ডেস্ক ইঞ্জিনিয়ারিং ও ফিল্ড ইঞ্জিনিয়ারিং দুটি ধারায় বিভক্ত করতে হবে। (যেন ফিল্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ধারায় ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররা যোগদানকৃত পদ হতে সর্বোচ্চ পদে পদোন্নতি পেয়ে চাকুরী করার সুযোগ পায় অপর দিকে ডেস্ক ইঞ্জিনিয়ারিং ধারায় বি.এস.সি ইঞ্জিনিয়াররা যোগদানকৃত পদ হতে সর্বোচ্চ পদে পদোন্নতি পেয়ে চাকুরী করার সুযোগ পায়। একমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু-ডিপ্লোমা থেকে বাধ্যতামূলকভাবে বিএসসি ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। আন্তর্জাতিক মানে ডিপ্লোমা কারিকুলাম হালনাগাদ ও উচ্চশিক্ষার আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদকে ফোরম্যান/সুপারভাইজার/টেকনিশিয়ান পদে রূপান্তরের ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে।
রাজশাহী পলিটেকনিক এলামনাই এসোসিয়েশন এর সভাপতি মাহমুদ হোসেনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইডিইবি’র কেন্দ্রীয় কাউন্সিলর জিয়া উদ্দিন আহমেদ, সভাপতি এ আর জামিল ইদি ও সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব।
এছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন এলামনাই এসোসিয়েশন এর যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মোজাম্মেল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম সজল, শিক্ষক প্রতিনিধি সোহানুর রহমান সবুজ, ছাত্র প্রতিনিধি সোহানুর রহমান সোহান ও জাকির হোসেন প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে আরিফুল ইসলাম আরিফ এর সঞ্চালনায় উপস্থিত সকলের পরিচিতি পর্ব হয় এবং পরে মাহমুদ হোসেন দাবীসমূহ সকলের সামনে পাঠ করে শোনান। এর পরে প্রশ্নউত্তর পর্বের মাধ্যমে সংবাদ সম্মেলন শেষ হয়।


প্রকাশিত: August 20, 2025 | সময়: 2:36 am | সুমন শেখ