নগরবাসীর বিশুদ্ধ পানির চাহিদা পূরণ হবে ২০৩৫ সালে

সবুজ ইসলাম: বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূ-গর্ভস্থ পানি দিন দিন কমে আসছে। চাষের জমি থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে এই পানি। গ্রীষ্মের খরতাপে এই অঞ্চলগুলোতে ভূ-গর্ভস্থ পানির নব্যতা নিচে চলে যায়। এর ফলে গভীরনলকূপ ছাড়া পানি পাওয়া যায় না। তখন সীমাহিন কষ্টে পড়তে হয় এলাকাবাসীদের।
এই লক্ষে ভূ-গর্ভস্থ পানি বাচাঁতে এবং রাজশাহীর মানুষের সুপেয় পানির চাহিদা মেটাতে পদ্মা নদীর পানি শোধন করে সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে রাজশাহী ওয়াসা। ৪ হাজার ৬২ কোটি ২২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা ব্যায়ে ‘ভূ-উপরিস্থিত পানি শোধানাগার প্রকল্প’ এর আওতায় রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সারেংপুরে স্থাপন হচ্ছে ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট। রাজশাহী ওয়াসা জানিয়েছে প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যে ২৮ শতাংশ শেষ হয়েছে।
চীনের হুনান কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেডের সহায়তায় রাজশাহী পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষের (ওয়াসা) অধীনে এই মেগা প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন হচ্ছে। রাজশাহীর জেলার পদ্মা নদীর পাশ্ববর্তী উপজেলার ভেতরে চারঘাটের ইউসূবপুর, পবা উপজেলার হরিপুর এবং গোদাগাড়ী উপজেলার সারেংপুর নদীর সম্ভাবতা যাচাই করা হয়েছিল। গোদাগাড়ী উপজেলা সারেংপুর এলাকায় পদ্মার শাখা নদী হিসেবে বেরিয়ে গেছে মহানন্দা।
দুই নদীর মোহনায় সারা বছর এখানে ৩০ ফুট গভীর পানি থাকে। প্রকল্প গ্রহণের আগে স্থানটির সারা বছরের পানির গভীরতা নিয়ে ৩০ বছরের পরিসংখ্যান পর্যবেক্ষণ করেছে ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম)। এরপরই সেখানে ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রাজশাহী ওয়াসা। পাইপলাইনে পানি পবা উপজেলার হরিপুরে বুস্টার প্লান্ট হয়ে ওয়াসার মাধ্যমে নগরবাসী পাবে এই পরিশোধিত পানি। পাশাপাশি এই প্রকল্পটির মাধ্যমে কাটাখালি, নওহাটা এবং গোদাগাড়ির ৩০টি ওয়ার্ডের বাসিন্দারা নিরাপদ সুপেয় পানির সুবিধা পাবেন। এতে ভূ-গর্ভস্থ পানির উপর চাপ কমবে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রকল্পের পানি শোধনাগার ও বুস্টার পাম্প স্টেশন পয়ন্টে কন্সট্রাকশন কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া গোদাগাড়ী থেকে কাশিয়াডাঙ্গা মহাসড়কের পাশ দিয়ে ট্রান্সমিশন প্রধান পাইপ লাইন স্থাপন কাজ চলছে।
‘ভূ-উপরিস্থিত পানি শোধানাগার প্রকল্প’ ওয়াসা কাজের অনুমোদন পায় ২০১৮ সালের জুন মাসে। কাজ শুরু হয়েছে ২০২৩ সালের জুলাই মাসে এবং কাজের মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত। এই ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমেই ২০৩৫ সালের মধ্যে রাজশাহী অঞ্চলে পানি সরবরাহ শতভাগ নিশ্চিত করা হবে বলে আশা ওয়াসা কর্তৃপক্ষের।
আয়রন ও ব্যকটেরিয়ামুক্ত,পানযোগ্য স্বচ্ছ পানি নগরবাসী পাবে জানিয়ে প্রকল্প পরিচালক ও রাজশাহী ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী পারভেজ মামুদ বলেন, ‘আমাদের ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের কাজ চলমান রয়েছে। এই কাজ শেষ হলে নগরবাসী প্রতিদিন ২০ কোটি লিটার আয়রন ও ব্যকটেরিয়ামুক্ত,পানযোগ্য স্বচ্ছ পানি পাবে। আমাদের পানির চাহিদা রয়েছে প্রতিদিন ১৩ কোটি লিটার। ২০৩৫ সাল নাগাদ আমরা নগরবাসীর পানির চাহিদা সম্পূর্ণ পূরণ করতে পারবো এই প্রকল্পের মাধ্যমে।’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক প্রকৌশলী এস এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘ভবিষ্যতে পানি সমস্য আমাদের জন্য একটি বড় সমস্য হবে। প্রাকৃতিক দূর্যোগে অনাবৃষ্টি ও তাপপ্রবাহে আমাদের ভূ-গর্ভস্থ পানির লেয়ার দিন দিন নিচে নেমে যাচ্ছে। পদ্মার পানি পরিশোধিত করে যদি তা ব্যবহারযোগ্য হয় তাহলে আমাদের ভূ-গর্ভস্থ পানির উপর চাপ কমবে। তাই এই প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করে জনকল্যাণে ব্যবহার করতে হবে।’


প্রকাশিত: জুন ৩০, ২০২৫ | সময়: ৪:০৫ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ