বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার: প্রায় দেড় যুগ পর উৎসবমুখর পরিবেশে চালু হলো পবা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দামকুড়া পশুহাট। বুধবার সকালে দামকুড়া পশুহাট প্রাঙ্গণে হাট কমিটির আয়োজনে গরু ও খাসি ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে পশুহাটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সদস্য, দামকুড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও পশুহাটের ইজারাদার সাহজাহান আলী। তিনি দামকুড়া পশুহাটটি এক কোটি ১১ লাখ ১১ হাজার ১১১ টাকায় সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে এক বছরের জন্য ইজারা নিয়েছেন। প্রথম গরু ও ছাগল ক্রেতাকে উৎসাহিত করা জন্য এক হাজার টাকা ও একটি ছাতা উপহার দেয়া হয়েছে।
তাছাড়াও অন্যান্য পশুহাটের তুলনায় খাসি ও গরুর ছাড় কম ধরা হচ্ছে। গরু প্রতি ৪০০ টাকা এবং ছাগল প্রতি ২০০ টাকা টোল মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও বিক্রেতাকে কোন টোল মূল্য দিতে হবে না বলে জানিয়েছেন পশুহাটের ইজারাদার শাহজাহান আলী। তাছাড়া হাটে প্রবেশে কোন মূল্য দিতে হয় না।
জানা যায়, একই হাটবারে বসলেও পাশের সিটি পশুহাটের কোন পেরিফেরি নাই। অর্থাৎ হাটের কোন জায়গা নির্ধারিত নাই। সেই হেতু সরকারের খাতায় সিটি পশুহাট কোন বৈধ পশু হাট নহে। উত্তরবঙ্গের মধ্যে সবচেয়ে বড় পশুহাট এটি। এই বাৎসরিক ইজারা মূল্য অনেক থাকে। এবারো এই হাটের ইজারামূল্য ১৬ কোটি টাকা বলে জানা গেছে। এতে করে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। আবার এই হাটে গরুর ছাড়ে গুনতে হয় ৮০০ টাকা এবং বিক্রেতাকেও ২০০ টাকা দিতে হয়।
এবিষয়ে জানতে চাইলে সাহজাহান আলী জানান, ১৯৮৯ সালে সর্বপ্রথম দামকুড়া পশুহাটটি চালু হয়। কিন্তু স্বৈরাচার সরকারের আমলে ২০০৮ সালের পর থেকে কৌশলে দামকুড়া পশুহাটটি বন্ধ রাখা হয়েছিল। সপ্তাহে বুধবার ও রবিবার এই দুইদিন নগরীর সিটি হাট ও দামকুড়া পশুহাট বসে। এই দুই হাটের বার একই হওয়ায় কৌশলে ইজারা নিয়ে দীর্ঘ ১৬ বছর বন্ধ রাখা হয়েছিল দামকুড়া পশুহাটটি। ফলে বিগত স্বৈরাচার সরকারের সময় কাগজ কলমে সবকিছু ঠিক থাকলেও কৌশলে বঞ্চিত করা হয়েছিল প্রায় কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে। এক্ষেত্রে হাটবাজারের মূল্য যত বেশি হবে সরকার রাজস্ব তত বেশি পাবে। সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে হাটটি এবার আমি ইজারা নিয়েছি। এর ফলে দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবার চালু হলো পবার ঐতিহ্যবাহী দামকুড়া পশুহাট।
দামকুড়া ইউনিয়নের আলোকছত্র গ্রামের নূর আলমের ছেলে আশিক দামকুড়া পশুহাটে প্রথম বিক্রেতা হিসেবে ২২ হাজার ৪০০ টাকায় একটি ছাগল বিক্রি করেছেন। ক্রেতা ছিলেন দামকুড়া গ্রামের মনসুর আলী। ক্রেতা বিক্রেতা উভয় পুরস্কার পেয়েছেন এক হাজার টাকা ও ছাতা।
ছাগল ক্রেতা মনসুর আলী জানান, আমি এই হাটের প্রথম ক্রেতা। ২২ হাজার ৪০০ টাকা দিয়ে একটি খাসি কিনে ছাতা ও এক হাজার টাকা পুরস্কার পেয়েছি। আমি অনেক আনন্দিত হয়েছি, তাই প্রচন্ড গরমে ছাতা মাথায় দিয়ে খাসি কিনে বাড়ি যাচ্ছি। এছাড়াও সাড়ে ৭৪ হাজার টাকায় একটি এঁড়ে গরু ক্রয় করেন তোতা নামের এক ক্রেতা। তিনিও এক হাজার টাকা পুরস্কার পেয়েছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মোনাজাত পরিচালনা করেন দামকুড়া হাট জমে মসজিদের পেস ইমাম আব্দুল্লাহ। এসময় উপস্থিত ছিলেন, দামকুড়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক এনামুল হক কিরণ, সদস্য সচিব নওশাদ আলী, হাট ইজারা কমিটির সদস্য ফিরোজ কবিরসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত গরু ও ছাগল ক্রেতা-বিক্রেতাগণ।