, , ।
স্টাফ রিপোর্টার, বাঘা:
রাজশাহীর বাঘায় আহ্বায়ক কমিটিতে বন্দি হয়ে আছে উপজেলা বিএনপির রাজনীতি। এতে ভেঙ্গে পড়েছে সাংগঠনিক কার্যক্রম। জেলা বিএনপিতে পুর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় উপজেলাতেও একই সমস্যা বিরাজ করছে। নেই দলীয় কার্যালয়। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের শীর্ষ নেতারা দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ভুলে সবাইকে যখন এক কাতারে আনার নির্দেশনা দিচ্ছেন, তখন বাঘা উপজেলা বিএনপিতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে অভ্যন্তরীণ কোন্দল। তবে এই কোন্দল নিরসনের জোর দাবি রেখেছেন তৃণমুল বিএনপি ।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীর বাঘায় ৭ বছর যাবত একের পর এক আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে চলছে উপজেলা বিএনপির রাজনীতি। ২০০৯ সালে সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সম্মেলনে নির্বাচনের মাধ্যমে নুরুজ্জামান খান মানিক সভাপতি ও সাইফুল ইসলাম তিন বারের ন্যায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তাঁরা একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করেন। এই কমিটি সাড়ে ৭ বছর দায়িত্ব পালন করেন। এই কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর ২০১৭ সালের ৫ জুন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বয়েজুল ইসলাম খানকে আহ্বায়ক ও আশাফুদৌলাকে সদস্য সচিব করে ৩৩ সদস্য’র আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি ৬ মাস না যেতে ২০১৭ সালের ১১ অক্টোবর বয়েজুল ইসলাম খানকে বাদ দিয়ে অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেনকে আহ্বায়ক করা হয়। তিনি দুই বছর দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তীতে জাহাঙ্গীর হোসেনকে বাদ দিয়ে ২০১৯ সালে জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি গঠন হওয়ার পর ১০ সেপ্টেম্বর নতুন করে সাবেক পাকুড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান ফকরুল ইসলাম বাবলু-কে আহ্বায়ক ও আশরাফ আলী মলিনকে সদস্য সচিব করে আবারো আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি প্রায় চার বছর দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ প্রতিটি আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদ ছিল ৩ মাস। তিন মাসের মধ্যে কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেয়া হলেও অদ্যাবধি সম্পন্য হয়নি উপজেলা বিএনপির সম্মেলন। বরং যখন যারা দায়িত্ব পেয়েছেন, তখন তারা নিজেদের গ্রুপ শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছেন। এতে নানা মেরুতে বিভক্ত দলটির নেতাকর্মীরা। দলকে সুসংগঠিত, শক্তিশালী করার জন্য সম্মেলনের দাবি জানিয়ে আসলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি কবে, কখন হবে, সুনির্দিষ্ট কোনো ধারণা পাচ্ছেন না তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
বাঘা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরজ্জামান খান মানিক বলেন, আমরা দির্ঘ সময় আন্দোলন ও সংগ্রম করে ফ্যাসিবাদ আওয়ামীলীগ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেছি। এখন যদি আমাদের মধ্যে দলীয় কোন্দল থাকে এবং আমরা যদি সকলকে সাথে নিয়ে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করতে না পারি, তাহলে এই ব্যর্থতার মাসুল গুনতে হবে। তিনি অবিলম্বে দলীয় কার্যালয় স্থাপন-সহ সম্মেলনের মাধ্যমে উপজেলা বিএনপিতে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানান। অনুরুপ কথা বলেন সাবেক সভাপতি অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আব্দুল্লা আল মামুন।তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসনবুকেও এ নিয়ে একটি ট্যাটাস ছেড়েছেন। সেখানে লিখেছেন, বাঘা উপজেলা বিএনপি অভিভাবকহীন আর কতদিন ?
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে সম্মেলন না হওয়ার পেছনে সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতাদের আধিপত্যকে দায়ী করেছেন তৃণমুল বিএনপি। তারা অভিযোগ করে বলেন, এর আগে যাদেরকে উপজেলা বিএনপির আহবায় কমিটির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তারা তাদের ইচ্ছে মত দুই পৌর সভা এবং সাত ইউনিয়নের অধিকাংশ ওয়ার্ডে পকেট কমিটি উপহার দিয়েছেন।এর ফলে বাঘা উপজেলা বিএনপি এখন দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে আছে। তারা আগামী জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে দুই গ্রুপের নিরসন -সহ একটি সুষ্ঠ সম্মেলনের মাধ্যমে পুর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন ও উপজেলা সদরে দলীয় কার্যালয় স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।
সার্বিক বিষয়ে রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ বলেন, বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানির মামলা-মোকদ্দমা তো লেগেই ছিলো। যে কারণে জেলাতে পর্যন্ত পুর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি। তবে আ’লীগ সরকার পতনের পর থেকে আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। সঙ্গে আন্দোলন-সংগ্রামও চলমান রয়েছে। আশা করছি , জাতীয় নির্বাচনের আগে-পরে , যথা সময়ে সম্মেলন এর মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করা হবে।
সানশাইন/নুরুজ্জামান/রাজ