বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
সাইফুল ইসলাম, গোদাগাড়ী: আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার পাড়ায় পাড়ায় অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে মাংস সমিতি। ঈদের দিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে অনেকে গরু কিনেন, এতে ঈদের আগে থেকেই এর আমেজ শুরু হয়।
গোদাগাড়ী উপজেলার প্রতিটি পাড়া মহল্লায় স্থানীয় কয়েকজন মিলে সমিতি গড়ে ঈদের আগে গরুর মাংস কেনা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। শুধু গোদাগাডী নয় আশ-পাশের উপজেলা গুলোতেও এ সমিতির সদস্যরা মাসিক ভিত্তিতে বছরজুড়ে চাঁদা দেন। এরপর ঈদের কয়েকদিন আগে সমিতিতে জমা হওয়া অর্থ দিয়ে গরু কিনে মাংস সবাই মিলে ভাগ করে নেন।
এতে ওই এলাকার অসচ্ছল পরিবারগুলো ঈদে বাড়তি আনন্দ পায় এবং তাদের ওপর আর্থিক চাপও কমে যায়। পাড়া বা মহল্লায় সমিতিগুলো ‘মাংস সমিতি’ নামে পরিচিত।
গোশত সমিতির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন গ্রামের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম বা মহল্লায় ঈদুল ফিতর সামনে রেখে এ ধরনের গোশত সমিতি গঠন করা হয়। সমিতির মেয়াদ এক বছর। সমিতির অন্তর্ভুক্ত প্রতিজন সদস্য মাসে মাসে সমিতিতে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জমা রাখেন। বছর শেষে ঈদের আগে জমাকৃত অর্থ একত্র করে পশু কেনা হয়। ঈদের দু-চারদিন আগে থেকে এই পশু জবাই করে গোশত সমিতির প্রত্যেক সদস্যকে ভাগ করে দেওয়া হয়। এতে ঈদ উদযাপনের ক্ষেত্রে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর আর্থিক চাপ যেমন কমে, তেমনি ঈদের আগে সবাই বাড়তি আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে পারেন।
পৌরসভার মাংস সমিতির সাথে যুক্ত বিভিন্ন লোকজনের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, মূলত পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে এ ধরনের সমিতি গঠন করা হয়। প্রতিটি মাংস সমিতির সদস্য সংখ্যা ৩০ থেকে ৪০। প্রত্যেক সদস্য মাসে ২০০ থেকে ৬০০ টাকা করে চাঁদা দেন। ঈদের এক সপ্তাহ আগে জমা করা টাকায় গরু কিনে এনে জবাই করে সদস্যরা ওই মাংস ভাগ করে নেন।
সাগর পাড়া গ্রামের জিয়াউল মাষ্টার বলেন, তাঁদের সমিতিতে ৪০ জন সদস্য আছেন। তাঁরা প্রত্যেকে মাসে ৩০০ টাকা করে জমা রাখেন। বছর ঘুরে সমিতিতে জমা হয় এক লাখ ২০ হাজার টাকা। এ টাকা দিয়ে গরু কিনে সদস্যদের মধ্যে মাংস ভাগ করে দেওয়া হয়। প্রত্যেকের ভাগে পাঁচ কেজির বেশি করে মাংস পেয়েছি।
জিয়াউল আরও বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের এখানে গরুর মাংস সাড়ে ৭৭০ টাকা কেজি, সেক্ষেত্রে আমাদের সমিতির মাধ্যমে যে গরু কিনি, সেটার মাংস সাড়ে ৬শ থেকে ৭০০ টাকা কেজি পড়ে।
শুরুতে শুধু নিম্নবিত্ত মানুষ এ ধরনের সমিতি করলেও এখন মধ্যবিত্তরাও এসব সমিতির সদস্য হচ্ছেন। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও এ ধরনের সমিতি করেছেন।
গোদাগাড়ী পৌর এলাকার মহিশালবাড়ি বাজারের মাংস ব্যবসায়ী শহিদুল বলেন, ‘ঈদুল ফিতরে আমরা যে মাংস বিক্রির টার্গেট করেছি, সেটা হয়তো পূর্ণ হবে না। কারণ, অধিকাংশ পাড়ামহল্লায় মাংস সমিতি গড়ে উঠেছে।