, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: টিউশনি করে শরিফুল ইসলাম হয়েছেন ৭ম বারের চেষ্টায় বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত। ৪৯তম বিশেষ বিসিএস এ দর্শন বিভাগে ৭ম হন তিনি। শুধু টিউশনি না সংসার চালাতে কখনো চা বানানোর কারিগর হিসেবে বাবার দোকানে কাজও করেছেন তিনি। নিজ হাতে চা বানিয়ে কাস্টমারদের দিতেন। কঠোর পরিশ্রম ও অক্লান্ত চেষ্টা তাকে আজ এনে দিয়েছে জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য। রাজশাহীর পবা উপজেলার ভুগরইল এলাকার বাসিন্দা শরিফুল এলাকার গর্ব হয়ে উঠেছেন।
শরিফুল ইসলাম ছোটবেলা থেকেই সংসারের অভাব-অনটনের সাথে লড়াই করে বড় হয়েছেন। পড়াশোনার খরচ চালাতে বাবার চায়ের দোকানে কাজ করা ছিল তার প্রতিদিনের দায়িত্ব। চায়ের কাপে কাপে মানুষের মুখে হাসি ফুটালেও নিজের স্বপ্নকে তিনি কখনও নষ্ট হতে দেননি।
এই বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, আমাদের এই এলাকায় এই প্রথম কেউ বিসিএস ক্যাডার হলো। শরিফুলকে নিয়ে আমরা সকলেই গর্ববোধ করছি। এই বিষয়ে জানতে চাইলে শরিফুল এর চাচী বলেন, শরিফুল ছোটবেলা থেকেই ভীষণ ভদ্র, পরিশ্রমী ও সংগ্রামী। তার সাফল্য প্রমাণ করেছে—সত্যিকারের ইচ্ছাশক্তি থাকলে সীমাবদ্ধতা মানুষকে থামাতে পারে না।”
শরিফুল এর চাচা জানান, আমরা প্রতিদিন দেখেছি শরিফুল সকালে দোকানে চা বানাচ্ছে, আবার দুপুরে বই নিয়ে বসছে। এত কষ্ট করে যারা এগোয়, তারা একদিন না একদিন জিতবেই। আমরা তার সাফল্যের জন্য খুব খুশি।
সুপারিশের খবর শোনার পর শরিফুলের মা কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলে ছোটকাল থেকে অনেক কষ্ট করে মানুষ হয়েছে। তাকে ঠিকমতো আমরা প্রাইভেট পড়াতে পারিনি। আল্লাহ আজ আমাদের দিকে তাকিয়েছেন। আমার ছেলের জন্য সবাই দোয়া করবেন।
এ বিষয়ে তার বাবা বলেন, ছেলের কষ্ট আমি নিজের চোখে দেখেছি। দোকানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সে স্বপ্ন দেখত। আজ সে সেই স্বপ্ন পূরণ করেছে—এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ।
অনুভূতি কথা জানতে চাইলে, বিসিএস-এ সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর শরিফুল বলেন, আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না, আল্লাহ আমাকে এত বড় সম্মান দিয়েছেন। বাবার দোকানে কাজ করতে করতে পড়াশোনা চালানো কঠিন ছিল, কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি। আমি চাই, তরুণরা জানুক “পরিশ্রম করলে কিছুই অসম্ভব নয়।”
তিনি জানান, আমার বই না থাকলেও আমি যখনই কারো কাছে সাহায্য চেয়েছি তারা আমাকে সাহায্য করেছে। আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। আমি আমার মেধা দিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার। তিনি দেশবাসীর কাছে একজন যোগ্য শিক্ষক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে দোয়া চেয়েছেন।