বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
তৌফিক হাসান, বরিশাল :
বছর ঘুরে আবার ও এসেছে রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের মাস মাহে রমজান। পবিত্র মাসটি এলেই দেশ জুড়ে এক অন্য রকম আবহের সৃষ্টি হয়। ব্যতিক্রম নয় দক্ষিণবঙ্গের সেরা বিদ্যাপিঠ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও।
রমজান মাস আসতেই ক্যাম্পাস জুড়ে বিরাজ করে এক ধর্মীয় আবহ। পবিত্র মাহে রমজানের তেরোটি রোজা শেষ হলো আজ চৌদ্দ তম রোজা। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থীদের পরিবার ছাড়া সেহরি এবং ইফতারের মুহূর্তগুলো কেমন কাটছে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের সেই অনুভূতি তুলে ধরেছেন ববি প্রতিনিধি তৌফিক হাসান তপু।
আমার নরম কণ্ঠ মায়ের কাছে ধরা পড়ে যায়
পরিবার ছাড়া সেহেরি, ইফতার, রোজা থাকা খুবই বেদনাদায়ক যা বলে বোঝানো যায় না। সেহেরিতে কিছু খেতে মন চায় না বাড়িতে থাকতে বলতাম মা সেহেরিতে আমার জন্য এটা রান্না করিও আমি এটা খাবো ওটা খাবো কিন্তু দূরে এসে বুঝেছি মেস এ যেটা রান্না হচ্ছে সেটাই খেতে হচ্ছে। ফোন দিয়ে যখন মা জিগ্যেস করে বাবা কি দিয়ে ইফতার করলি ? কি দিয়ে সেহেরি খাইলি ? তখন নরম কন্ঠে জবাব দিয়ে বলি মা আমি এত এত আইটেম দিয়ে ইফতার করেছি আমি আজ এই খাবার দিয়ে সেহেরি খেয়েছি। তখন আমার নরম কন্ঠ মায়ের কাছে ধরা পড়ে যায় তখন আর সত্যিটা লুকিয়ে রাখতে পারি না।
নাবিল আহমেদ নাহিদ
মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ।
ছুটি পেলেই ছুটে যাব বাড়ির টানে।
লেখাপড়ার জন্য বাড়ির বাহিরে থাকার কারনে পরিবারকে সবসময়ই মিস করি।রোজার মাসে পরিবারের মানুষগুলোকে যেন আরো বেশি মিস করি।সেহেরি ও ইফতারের মূল উপকরণই হচ্ছে পরিবার। সেহেরিতে আম্মুর ডেকে উঠানো থেকে ইফতারে আম্মুর হাতের মজার মজার রান্না আর সবার সাথে কাটানো মুহূর্তগুলো খুব বেশি মিস করি।রুমমেট, বন্ধু-বান্ধবীদের সাথে ইফতার করলেও দিনশেষে শূন্যতাটা থেকেই যায়।প্রতিনিয়ত বাড়িতে যাওয়ার দিন গুনতে থাকি।আমার বাড়িটাতেই আমার শান্তি মেলে এবং বাড়ির মানুষগুলোর মাঝে আমার আমিকে খুঁজে পাই।
সুমাইয়া ইসলাম সামিরা
বাংলা বিভাগ।
পরিবারের শূন্যতা মলিন হয় বন্ধুদের সাথে ইফতার করে
রমজান মাস হলো রহমতের মাস এবং আল্লাহর নিকট অধিক নৈকট্য লাভের মাস।রমজান মাসের কথা শুনলেই প্রথমেই মনে পরে পরিবারের সঙ্গে ইফতারি এবং সেহরি করার আনন্দদায়ক মুহূর্ত।সারাদিন রোজা রাখার ক্লান্তির পর পরিবারের সাথে একসাথে বসে ইফতারি করা মানসিক প্রশান্তি ও আনন্দ দেয়।এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমের জন্য পরিবার থেকে দূরে থেকে ইফতারি করা কষ্টদায়ক।তবে পরিবারের শূন্যতা অনেকটাই মলিন হয়ে যায় নিজের পরিবারের মতো বন্ধু- বান্ধব ,ভাইদের সাথে বসে একসাথে ইফতারি করে।
রাফি
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ।
নাড়ির টানে দ্রুতই বাসায় ফিরব
লেখাপড়ার উদ্দেশ্যে একবার ঘর ছাড়লে আর কখনোই সেভাবে বাড়ি ফেরা হয় না। ফেরা হয় অল্প সময়ের জন্য। অথচ মনটা সেই বাড়িতেই পড়ে থাকে অনন্তকাল মায়ের আঁচলের ছায়াতলে, তাইতো প্রতিদিন সেহেরি ও ইফতারের হল রুম ভর্তি ভাই-বন্ধু থাকার পরেও নিজেকে লাগে বড্ড নিঃসঙ্গ। সুযোগ পেলেই মন উড়াল দিতে চায় নাড়ির টানে সেই গ্রামে। তাই তো ক্যাম্পাসে কোলাহল পেরিয়ে খুব শীঘ্রই বাসায় ফিরব।
মিরাজ
বাংলা বিভাগ।
কোনোমতে কেটে যাচ্ছে রমজানের দিনগুলো
পরিবারের সাথে ইফতার করার অন্তরশীতল করা মুহূর্তের জন্য অপেক্ষমাণ প্রতিটি শিক্ষার্থী। আপন দু’চোখে মা-বাবা,ভাই-বোনদের দেখা, একসাথে বসে সেহেরী করা, ইফতার করা- সে যেন এক জান্নাতী সুখ। অনেক পরিকল্পনা থাকলেও পরিবার থেকে দূরে থাকায় তা অবাস্তবায়িত থেকে যাচ্ছে। কোনোমতে কেটে যাচ্ছে রমজানের দিনগুলো! কল্পনার মহারাজ্যে শুধু একটি কথাই ভেসে বেরায় কখন দূরে থাকা খুব কাছের অতি প্রিয়জনদের সাথে দেখা হবে?
মোঃ বিপ্লব
ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ।
সান/তৌফিক/শামি