সর্বশেষ সংবাদ :

বানেশ্বরের হাটে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ

মেহেদী হাসান, পুঠিয়া: রাজশাহীর সবচেয়ে বড় ব্যবসা কেন্দ্র বানেশ্বর হাট। মৌসুমে এটি দেশের অন্যতম খেজুরের গুড়, পাট, আম কেনাবেচা ও চালানেরও বড় মোকাম। এছাড়া কলা, সবজি থেকে শুরু করে চাষিদের উৎপাদিত বিভিন্ন কৃষিপণ্য বিক্রিরও বড় আঞ্চলিক কেন্দ্র।
ক্রেতা-বিক্রেতাদের অভিযোগ, হাট ইজারাদারের অতিরিক্ত খাজনায় দীর্ঘদিন জর্জরিত তারা। এমনকি এ হাটে এশটি পায়রা (কবুতর), মুরগি বা হাঁস বিক্রি করলে ৫০ টাকা খাজনা আদায় করা হয়। তারা জিম্মি হয়ে থাকলেও জেলা বা উপজেলা প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এছাড়া নির্ধারিত সরকারি দরকে ইজারাদার আমলে না নিয়ে ইচ্ছেমতো খাজনা আদায় করছেন।
চলতি বাংলা ১৪৩১ বর্ষের জন্য বানেশ্বর হাট পুঠিয়া-দুর্গাপুর আসনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী এমপি প্রার্থী ওবাইদুর রহমানের ভাই জাহাঙ্গীর আলমকে ১১ দশমিক ৮৫ একর আয়তনের হাটটি ইজারা দেয় পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিস। তবে প্রশাসনের নীরবতায় হাটের অর্ধেক জায়গা দখলে নিয়ে কয়েকজন প্রাবশালী গোডাউনসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করেছেন।
এসব স্থাপনা ভাড়া দিয়ে তারা লাখ লাখ টাকা অবৈধভাবে কামাই করছেন। হাটের নির্ধারিত জায়গা বেদখল হওয়ায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের পণ্য নিয়ে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কের ওপর বসতে হচ্ছে। এতে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ এ মহাসড়কে। বানেশ্বর হাটটি সপ্তাহে দুদিন বসে। প্রতি হাটবারে ৫ থেকে ৭ হাজার কৃষক তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বিক্রির জন্য হাটে আসেন।
পেঁয়াজের চারা কেনার জন্য বানেশ্বর হাটে বাজারে গিয়েছিলেন, উপজেলার তারাপুর এলাকার চাষি রহুল আমিন। ২৫ কেজি চারা কেনার পর তাঁর কাছ থেকে ১০০ টাকা খাজনা আদায় করা হয়েছে।
বিক্রেতার কাছ থেকেও মণ প্রতি ১০০ থেকে ২০০ টাকা খাজনা নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি তাঁর। খাজনা আদায়ের রশিদে ১০০ টাকা লিখা থাকলেও আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। অথচ মান ভেদে এক মণ চারার দাম ৯০০ টাকা থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। এতে খাজনাই দিতে হচ্ছে ২০০ টাকা। গত মৌসুমে ২ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করেছিলেন। তাঁর ভাষ্য, দামের কারণে ও ভালো মানের বীজ সংগ্রহ করতে না পারায় এবার ১ বিঘা জমিতে আবাদ করছেন।
দেশের অন্যতম পেঁয়াজ উৎপাদনকারী এলাকা হিসেবে পরিচিত রাজশাহীর পুঠিয়া। এলাকায় জমে উঠেছে পেঁয়াজ চারার হাটও। গত মৌসুমের তুলনায় এবার চাষিরা কম দামে চারা কিনতে পারছেন। তবে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ করেছেন রহুল আমিনের মতো অনেক ক্রেতা-বিক্রেতা। তাদের অভিযোগ বিক্রি করতে আসা ও চারা ক্রয় করতে আসা সকলের কাছ থেকেই অতিরিক্ত খাজনা আদায় করা হচ্ছে।
চারা বিক্রি করতে আসা ভালুকগাছী চক দোমাদি গ্রামের আশরাফুল ইসলাম জানান, চারার দাম গত মৌসুম থেকে এবার কম। তবে কম দামে চারা বিক্রি করলেও অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ তাঁর। আরেক বিক্রেতা চক ধাদাশ গ্রামের মুকুল হোসেনের ভাষ্য, গত মৌসুমের তুলনায় প্রতি কেজি পেঁয়াজের চারা ২৫-৩০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি এবার ২৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছর ছিল ৬৫ থেকে ৮০ টাকা।
খাজনা আদায় নিয়ে প্রতি হাটে ইজারাদারের লোকদের সঙ্গে ঝামেলা বিবাদের ঘটনা ঘটছে। কখনো কখনো তা হামলা-পালটাহামলায় রূপ নিচ্ছে। জমসেদ আলী নামের এক কৃষক বলেন, সম্প্রতি এ হাটে একটি ছোট হাঁস বিক্রি করি। আমার কাছ থেকে জোর করে ৫০ টাকা খাজনা নেওয়া হয়। একটি মুরগি বিক্রি করলেও ৪০-৫০ টাকা খাজনা আদায় করা হচ্ছে।
বানেশ্বর হাটের ইজারাদার জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমি তো হাটে গিয়ে বসে থাকতে পারি না। তবে পেঁয়াজের চারার খাজনা সম্পর্কে আমার জানা নাই, আমাদের লিস্ট দেখতে হবে। এরকম কোন অভিযোগ থাকলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বানেশ্বর হাট বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) মতিউর রহমান (মতি) বলেন, পেঁয়াজের চারার অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের আমাদের কাছে কোন লিখিত অভিযোগ নেই।


প্রকাশিত: January 16, 2025 | সময়: 7:33 am | সুমন শেখ