সর্বশেষ সংবাদ :

চারঘাট-বাঘায় ভোট প্রাপ্তি নিয়ে চলছে স্থানীয় রাজনীতি

স্টাফ রিপোর্টার, বাঘা: আমাদের দেশে ক্ষমতার পালাবদল হয়। এই পালাবদলে পাল্টে যাই দেশের প্রক্ষাপট-সহ স্থানীয় রাজনীতি। এতদিন যারা ছিলো আলোচনায়, তারা এখন আত্মগোপনে। আর যারা দীর্ঘ সময় রাজনীতির মারপ্যাচে কোনঠাসা হয়ে ছিলো , তারা এখন ভোটের মাঠ গোছাতে সোচ্চার।

 

বৈষম্য-বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাপটে দেশত্যাগ করেছেন শেখ হাসিনা। এরপর থেকে নিমিষেই পাল্টে যাচ্ছে সবকিছু। রাজশাহীর চারঘাট-বাঘাতেও পড়েছে এর ব্যাপক প্রভাব। এই মুহুর্তে দফায়-দফায় মিটিং করে ভোট বাড়ানোর কৌশল অবলম্বন করছে জামাত-শিবির। অন্যদিকে নিজেদের মধ্যে দলীয় কন্দোল ও লবিং-গ্রুপিং-সহ আধিপত্ত বিস্তার নিরোসনে সময় পার করছে বিএনপি। আর একের-পর এক মামলার শিকার হয়ে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পালিয়ে বেড়াচ্ছে আওয়ামী লীগ।

 

স্থানীয় একধিক মানুষের সাথে কথা বলে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। লোকজন বলছেন, শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগের পর ঘুরে দাড়িয়েছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। বর্তমানে মসজিদ ভিত্তিক প্রকাশ্যে মিটিং করে জনমত বাড়ানো-সহ ভোট বাড়ানোর কৌশলে অবলম্বন করে ব্যস্ত সময় পার করছেন জামাত-শিবির। তাঁরা কোন সংঘাত নয়, দখল নয়, বরং সকল অতিত ভুলে কিভাবে ভোট বাড়ানো যায়, এমন একটি পথ অবলম্বন করে সাধারণ মানুষের মনজয় করার চেষ্টা করছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোন উপজেলায় কে প্রার্থী হবেন সেটি অ-প্রকাশিত।

 

চারঘাট-বাঘার কয়েকজন জামাত নেতা বলেন, আমাদের দল থেকে যাকে-যেখানে মনোনয়ন দিবেন, তাঁকে সেখানে নির্বাচন করতে হবে। পূর্ব থেকে প্রার্থী ঘোষনার কোন নিয়ম নেই। যা কিছু হবে সবই সময় মাফিক আলোচনার ভিত্তিতে।

 

এদিকে সরকার পতনের পর, গা-ঝাড়া দিয়ে উঠে বসেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি । প্রথম দিকে উপজেলা পর্যায়ে একসাথে আনন্দ মিছিল-সহ বিভিন্ন এলাকায় দু’একটি সভা-সমাবেশ করতে দেখা গেলেও বর্তমানে এ গুলো আর চোখে পড়ছে না। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব সারদীয় দুর্গা পূজোয় লক্ষ্য করা গেছে নিজ-নিজ কর্মী সমর্থকদের সাথে নিয়ে বড়-বড় পদধারী নেতারা পৃথক-পৃথক ভাবে পুজা মন্ডপ পরিদর্শন করেছেন। এদিক থেকে জনসমর্থনে আবুসাইদ চাঁদ এগিয়ে রয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে।

 

জাতীয় নির্বাচনের হিসাব অন্তে রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) ৫৭ নম্বর আসন। বিগত যে নির্বাচনে বিএনপি সর্বশেষ (২০১৪) অংশ গ্রহন করেছিল সেবার এই আসনে জেলখানা থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে ছিলেন বর্তমান রাজশাহী জেলা বিএনপির আহবায়ক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সদস্য আবু সাইদ চাঁদ । তাঁর বাড়ি চারঘাট উপজেলায়। তিনি সাবেক চারঘাট বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। সেইবার মনোনয়ন পত্র যাচাই-বাছাই-এ তাঁকে বাদ দেওয়ায় রাজনৈতিক মারপ্যাচে আ’লীগের প্রার্থী শাহরিয়ার আলম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর চলতে থাকে একটানা ১৬ বছর আ’লীগের শাসন আমল । তবে শেষবার ২০২৩ সালে দেশে জাতীয়পাটি-সহ ছোট-খাটো দু’একটি রাজনৈতিক দল ছাড়া বড়-বড় দলকে মুল্যায়ন না করে নিজেদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী বানিয়ে ভোট করে বড় রকমের ভুল করেন আ’লীগ। এর ফলে এই দলটির মধ্যে দেখা দেয় ফাটল। এই মন্তব্য, দেশের সু-শীল সমাজ ও বিশ্লেষকদের।

 

রাজশাহী জেলা বিএনপির আহবায়ক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সদস্য আবুসাইদ চাঁদ বলেন, স্বৈরাচারী সরকারের দিন শেষ । অর্ন্তবর্তীকালিন সরকার আমলে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে তাতে আমি পুর্ণ আশাবাদি দল আবারও আমাকে মনোনয় দিবেন। কারণ অত্র এলাকার তৃণমূল-সহ অসংখ্য মানুষ আমার সাথে রয়েছেন।

 

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, চারঘাট-বাঘা থেকে কেন্দ্রীয় কর্মসুচির অংস হিসাবে আন্দোলন করতে গিয়ে আমার সমান জেল-জুলুম কেউ খাটেনি। আমি গত আ’লীগ সরকারের শেষ ৫ বছরের অধিকাংশ সময় হাজতবাস করেছি। এরি মাঝে, আমি আমার প্রিয় মা’ জননী এবং স্ত্রীকে হারিয়েছি। তারা চলে গেছেন না ফেরার দেশে। বিষয় গুলো আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া অবগত আছেন।

 

এদিকে বাঘা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও ধনাঢ্য ব্যবসায়ী নুরুজ্জামান খান মানিক বলেন, একটি বিশেষ কাজে গতমাসে লন্ডন গিয়ে ছিলাম। এরপর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এসেছি । একটি বড় রাজনৈতিক দলের মধ্যে লবিং-গ্রুপিং -সহ মতভেদ থাকবে এটা খুই স্বাভাবিক বিষয়। আমার জানা মতে, অনেকেই দলীয় মনোনয়ন চাইবেন এই আসনে। তবে দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয়,তাহলে নির্বাচন করবো।

 

এদিক থেকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সংকটময় অবস্থানে রয়েছে আওয়ামী লীগ ও তাদের সংযোগী সংগঠন গুলো। ইতোমধ্যে সংস্কারের নামে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের সকল কার্যক্রম অন্তবর্তীকালীন (তত্বাবধায়ক) সরকারের হাতে চলে যাওয়ায় বিপাকে রয়েছেন জনপ্রতিনিধিরা। এদের অনেকেই এখন আত্নগোপনে। একই সাথে বিভিন্ন মামলার শিকার হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন দলের সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

 

নাম প্রকাশ না করার সর্তে একজন সিনিয়র আ’লীগ নেতা বলেন, আমরা এই মুহুর্তে মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে হাজার-হাজার নেতা-কর্মী পুরো বিচ্ছিন্ন অবস্থার মধ্যে দিন পারকরছি। আ’লীগ স্বচ্ছ নির্বাচনে বিশ্বাসী। তবে বি.এন.পির’ দায়ের করা মিথ্যা মামলা পরিহার করতে হবে। এরপর আমাদের দলীয় প্রধান জনেনেত্রী শেখ হাসিনা চাইলে বাংলাদেশ আ’লীগ ভোটে অংশ গ্রহন করবে।


প্রকাশিত: October 23, 2024 | সময়: 12:53 pm | Daily Sunshine