সর্বশেষ সংবাদ :

বিশ্ব শিক্ষক দিবসে বিভাগীয় কমিশনার শিক্ষক ব্যতীত জগৎ জ্ঞানহীন

স্টাফ রিপোর্টার: শিক্ষক ব্যতীত জগৎ হচ্ছে জ্ঞানহীন বলে মন্তব্য করেছেন বিভাগীয় কমিশনার ও রাজশাহী সিটি করপোরেশন প্রশাসন ড. দেওয়ান মোঃ হুমায়ুন কবির প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।রাজশাহী কলেজের উদ্যোগে ও জেলা প্রসাশনের আয়োজনে রাজশাহী কলেজ অডিটরিয়মে ” শিক্ষকের কন্ঠস্বর, শিক্ষায় নতুন সামাজিক অঙ্গিকার” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে উৎসবমূখর পরিবেশে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়।
শনিবার (৫ অক্টোবর) সকাল ১০ টায় দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালির আয়োজন করা হয়। র‌্যালি শেষে সকাল সাড়ে দশটায় কলেজ মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৪ উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের মাধ্যমে আলোচনা সভা শুরু হয়। এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন এ কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ যুহুর আলী।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) ড. দেওয়ান মোঃ হুমায়ুন কবির। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, শিক্ষক ব্যতীত জগৎ হচ্ছে জ্ঞানহীন। আজকের এই প্রেক্ষাপটে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটা বিরাট পরিবর্তন এসেছে। বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে আবু সাঈদের মৃত্যু সবাইকে অত্যন্ত ব্যতীত করেছে এবং গণঅভ্যুত্থানে প্রাণশক্তি জুগিয়েছে। আমাদের এই অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থা ব্যতীত সারা বিশ্বের শিক্ষা ব্যবস্থা ছিল বহুমুখী। শিক্ষকদের পালা পরিবর্তন এর মাধ্যমে সমাজে পরিবর্তন হবে। এই পরিবর্তনটা হচ্ছে গুণগত পরিবর্তন, এইগুলো গত পরিবর্তনের জন্য আমল পারা পরিবর্তন করতে হবে। এই পরিবর্তনের জন্য সামাজিক কাঠামো থেকে শুরু করে শিক্ষক শিক্ষার্থীর মানসিকতার পরিবর্তনের প্রয়োজন।
যতক্ষণ না এই পরিবর্তন সম্ভব ততক্ষণ পর্যন্ত এই অবস্থা কোন পরিবর্তন হবে না। আন্দোলন হবে রক্তে যাবে, কিন্তু অবস্থার পরিবর্তন হবে না।
শিক্ষক দিবসে বক্তব্য রাখেন, রাজশাহী অঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের পরিচালক প্রফেসর ড. বিশ্বজিৎ ব্যানার্জী। রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান (অবসর) প্রফেসর শিরিন সুফিয়া খানম। রাজশাহী নিউ গভ: ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর কালাচাঁদ শীল। রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আমিনা আবেদীন। রাজশাহী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. জুবাইদা আয়েশা সিদ্দীকা। এছাড়াও রাজশাহী জেলার আরো অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও শিক্ষকবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
আলোচকগণ তাদের আলোচনায় বিশ্ব শিক্ষক দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিয়ে তথ্য ও উপাত্তমূলক বক্তব্য প্রদান করেন। অনুষ্ঠানের সভাপতি রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ যুহুর আলী তাঁর আলোচনায় শিক্ষকদেরকে তাঁদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সচেতনতার সাথে পালন এবং বৈশ্বিক পরিবর্তনের সাথে নিজেকে পরিবর্তন করে নতুন প্রজন্মকে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্মার্ট নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান। আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে সভাপতি মহোদয়ের অনুমতিক্রমে উপস্থাপক অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

রাজশাহীসহ বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচীর মধ্যদিয়ে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হলো বিশ্ব শিক্ষক দিবস। শনিবার ‘শিক্ষকের কণ্ঠস্বর: শিক্ষায় নতুন সামাজিক অঙ্গীকার’- প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কর্মসূচীর মধ্যেছিল র‌্যালি, শোবাযাত্রা, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও গুণি শিক্ষক সম্মাননা।
রাবি: শিক্ষকের কণ্ঠস্বর: শিক্ষায় নতুন সামাজিক অঙ্গীকার” শীর্ষক প্রতিপাদ্য নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) নানা কর্মসূচির মাধ্যমে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ পালন করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলো শোভাযাত্রা,আলোচনা সভা,গুণী শিক্ষক সম্মননা,দিবসটি উপলক্ষ্যে আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ।
শনিবার (৫ অক্টোবর) সকাল ১০টায় এক শোভাযাত্রা শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনের সামনের চত্বর থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রায় উপাচার্যসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, হল ও বিভাগসমূহ থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
পরে বেলা ১১টায় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা, শিক্ষক সম্মাননা ও দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার প্রদান। উপাচার্য প্রফেসর সালেহ্ হাসান নকীবের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাবি অর্থনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়ার সাবেক উপাচার্য মো. রফিকুল ইসলাম।
এই আয়োজনে ৩ জন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ড. দাস বাসুদেব কুমার (রসায়ন বিভাগ), ড. এ কে এম আজহারুল ইসলাম (পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ এবং প্রফেসর ইমেরিটাস ও সাবেক উপাচার্য, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম) ও প্রফেসর মু. শামসুল আলম, বীর প্রতীক (ভুগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগ) কে সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। উপাচার্য তাঁদের সম্মাননাসূচক উত্তরীয় ও স্মারক ক্রেস্ট প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কারও প্রদান করা হয়। প্রতিযোগিতায় স্নাতক পর্যায়ে ‘আমার দেখা সেরা শিক্ষক’ শীর্ষক বিষয়ে মো. শামিম আলম (সমাজকর্ম বিভাগ) প্রথম স্থান, রাফায়েতুল আহম্মেদ (নাট্যকলা বিভাগ) দ্বিতীয় স্থান ও মোসা. ফাহিমা খাতুন (উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ) তৃতীয় স্থান অধিকার করে। স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ‘আমার শিক্ষককে আমি যেভাবে দেখতে চাই’ শীর্ষক বিষয়ে মো. বায়েজিদ (আরবী বিভাগ) প্রথম স্থান, মো. মিনহাজুল আবেদীন (শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট) দ্বিতীয় স্থান ও মো. হাবিবুর রহমান (রসায়ন বিভাগ) তৃতীয় স্থান অধিকার করে।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, শিক্ষকেরা জাতি গঠনের কারিগর। শিক্ষাদান একটা আদান-প্রদানের বিষয়।
শিক্ষকরা ভালো কিন্তু ছাত্ররা ভালো নয় তাহলে হবে না। একজন শিক্ষক তখনই ভালো হবেন যিনি তার শিক্ষার্থীর জ্ঞানচক্ষুকে উন্মীলিত করতে পারেন; তিনিই ভালো শিক্ষক, যিনি তার শিক্ষার্থীকে প্রশ্ন করতে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন। সামগ্রিকভাবে একজন শিক্ষকের মূল্যায়ন করতে গেলে তার শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে তা হবে না। জাতি গঠনে শিক্ষকতার সম্মান ও মর্যাদা অত্যন্ত উঁচুতে। শিক্ষকদের প্রতি আমরা আমাদের দায়িত্বের ব্যাপারে সচেতন না হলে শিক্ষকদের সঠিক মূল্যায়ন হবে না।
প্রসঙ্গক্রমে, উপাচার্য বলেন, সাম্প্রতিক জুলাই-আগস্ট গণআন্দোলনে যে অশুভ, অপশক্তির শৃঙ্খল ভেঙ্গে গেছে এই শৃঙ্খল ফিরে আসার আর সম্ভাবনা নাই। সেই বাস্তবতা মেনে নিয়ে আমাদের এই আন্দোলনের শুভ চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ গড়ায় কাজ করে যেতে হবে।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, যে দেশে গুণীদের সম্মান করা হয় না সে দেশে গুণী জন্মায় না। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় গুণী শিক্ষকদের সম্মাননা প্রদান করে প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্মানিত করলো। একজন শিক্ষক সর্বদাই শিক্ষক। একজন শিশুর প্রথম শিক্ষক তার মা-বাবা। তারা একজন শিশুকে আগামী দিনের জন্য প্রাথমিকভাবে প্রস্তুত করে। একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীর মানস গঠনের কুশলী কারিগর। শিক্ষকরা জলন্ত মোমের মতো। নিজেরা জ্বলে, আলো দিয়ে শিক্ষার্থীদের জীবনকে আলোকিত করেন। শিক্ষকরাই শিক্ষার্থীদের জীবনে স্থায়ী প্রভাব ফেলেন। শিক্ষাদান একটি মহাযাত্রা। আদর্শ শিক্ষক হতে হলে শিক্ষকদের হতে হবে দক্ষ, সৎ, নীতিনিষ্ঠ। আদর্শ জাতি গঠনে এমনই শিক্ষক প্রয়োজন।
রাবি শহীদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক প্রফেসর মুর্শিদা ফেরদৌস বিনতে হাবীব অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানে সম্মাননাপ্রাপ্ত শিক্ষকবৃন্দ ও আলোচক আলোচনা রাখেন।
রুয়েট: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের ভূমিকা ও শিক্ষকদের প্রতি শিক্ষার্থীসহ সকলের শ্রদ্ধাবোধ এবং সম্মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে সচেতনতা তৈরিতে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) উদযাপন করা হয়েছে বিশ্ব শিক্ষক দিবস।
র‌্যালি শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল রুমে দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রুয়েটের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. তারিফ উদ্দীন আহমেদ। ইন্সটিটিউশনাল কোয়ালিটি এ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) পরিচালক ও বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০২৪ উদযাপন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. ইদাদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন করেন- রুয়েটের সাবেক উপাচার্য ও মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (এমই) বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল আলম বেগ, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মো. রোকনুজ্জামান, ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ফারুক হোসেন, ছাত্র-কল্যাণ দপ্তরের পরিচালক ও বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০২৪ উদযাপন কমিটির সদস্য-সচিব অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং (সিই) বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. বুলবুল আহমেদ, ম্যাটেরিয়ালস্ সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (এমএসই) বিভাগের ২০২২ সিরিজের শিক্ষার্থী তৌহিদ আহমেদ জিহাদ। বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে রুয়েটের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. তারিফ উদ্দীন আহমেদ ০৩ জন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে রুয়েটের বিভিন্ন অনুষদের ডীন, সকল পরিচালক, বিভাগীয় প্রধান, দপ্তর ও শাখা প্রধানবৃন্দ সহ প্রাক্তন এবং বর্তমানে কর্মরত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অংশীজনগণ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
পবা উপজেলা: শনিবার সকাল ১০ টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সোহরাব হোসেন। এর আগে, একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। এটি প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে শেষ হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সোহরাব হোসেন বলেন, ‘শিক্ষকতা একটি অনন্যসাধারণ মর্যাদাপূর্ণ পেশা। এটি শুধু পেশা নয় বরং তার চেয়েও বেশি কিছু। এখনো আমাদের সমাজের সব পেশার মানুষ শিক্ষকদেরকেই বেশি ভক্তি ও শ্রদ্ধা করে থাকেন। মা-বাবার পরের স্থান হচ্ছে শিক্ষকের। সমাজ ও দক্ষ মানব সমাজের বিনির্মাণে শিক্ষকের ভূমিকা অপরিসীম। সকল পেশার জননী শিক্ষকেরা সমাজকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার কারিগর। শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের মাঝে নৈতিকতা সৃষ্টি এবং নিজস্ব সৃজনশীলতা তৈরীতে উদ্বুদ্ধ করে থাকেন। যার ফলে শিক্ষার্থী সুনাগরিক হয়ে গড়ে ওঠে। সমাজ ও দেশের প্রতি তারা দায়িত্বশীল ও শ্রদ্ধাশীল হয় থাকে। এইসব কৃতিত্বের বিচারে শিক্ষকের গুরুত্ব অনস্বীকার্য।শিক্ষক হচ্ছেন একজন শিক্ষার্থীর বন্ধু, সঠিক পথপ্রদর্শক এবং জীবনবোধ তৈরির দার্শনিক। তাঁদের সম্মানার্থে প্রতিবছর বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়ে থাকে।’
আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, অনুষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. মোতাহার হোসেন। নওহাটা সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক শিরিন আক্তার এলিচ, হাট রামচন্দ্রপুর ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ আরিফুল ইসলাম, খিরসিন মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক মাসুম আলম, দামকুড়া হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফেরদৌস আলী, সারাংপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার হাবিবুর রহমান, বশিরাবাদ আলিম মাদ্রাসার সুপার মোহাম্মদ ইয়াহিয়া। এছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন, পবা উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ।
বড়াইগ্রাম: নাটোরের বড়াইগ্রামে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে ইউএনও লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌসের সভাপতিত্বে সভায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রউফ, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, উপজেলা প্রকৌশলী রবিউল আলম, বনপাড়া শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব সরকারি মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক শ্রী গোপাল মিত্র, রয়না ভরট সরকার বাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রফিকুল হাসান ও তিরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজাহার আলী। পরে অনুষ্ঠানে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসাবে তিনজনকে সম্মাননা পত্র ও ক্রেষ্ট দেয়া হয়।
গোদাগাড়ী: শনিবার সকালে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে উপজেলার সকল স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার উপজেলা শিক্ষক শিক্ষিকারা এক বর্ণাঢ্য র‌্যালীতে অংশগ্রহণ করেন। বর্ণাঢ্য র‌্যালীটি উপজেলা চত্ত্বর থেকে বের হয়ে উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রক্ষিণ শেষে পুন:রায় উপজেলা চত্ত্বরে এসে শেষ করেন।
গোদাগাড়ী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সহয়োগিতায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস, আলোচনা সভা ও গুণী শিক্ষক সম্মাননা অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: আবুল হায়াতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রেমতুলি দাখিল মাদরাসার শিক্ষক গাজী উদ্দীন, কাশিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সুলতানা রাজিয়া, রাজাবাড়ীহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মসিউর রহমান, ললিতনগর ভুষনা দাখিল মাদরাসার সুপার মাহবুবুল আলম, বাসুদেবপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মজিবুর রহমান, গোদাগাড়ী মহিলা কলেজের সহকারি অধ্যাপক আসফাক আলী, শাহসুলতান কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ হায়াত আলী, গোদাগাড়ী সরকারি কলেজের অক্ষধ্য মাসুদ আলম সিদ্দিকী, অনুষ্ঠানে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন মাও. দুরুল হোদা।
অনুষ্ঠানে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: আবুল হায়াত তার বক্তব্য বলেন আগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্য হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ বাণিজ্য হলেও কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন হয়নি। আমি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপত্বির দায়িত্ব পালন করলেও আমি শিক্ষার উন্নয়নে শিক্ষকদের সাথে থেকে কাজ করতে চাই। কোন শিক্ষকের কোন সমস্যা হলে সরাসরি আমার সাথে কথা বলবেন। সকল শিক্ষকের জন্য আমার দোয়ার সব সময় খোলা।
শিক্ষকদের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোন প্রকার অনিয়ম হবে না। কোন শিক্ষক অনিয়ম করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনিয় ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে। শিক্ষকদের পড়ার ব্যাপারে আরো যত্নবান ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে বলেন। তিনি আরো বলেন শিক্ষকদের মাঝে একে অপরের মধ্যে যদি বিবাদ বিদ্যমান থাকে সেগুলো ভুলে গিয়ে শিক্ষায় মনোযোগ দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে অন্য বক্তারা বলেন শিক্ষকদের বেতন, ভাতা, বাড়ী ভাড়া, চিকিৎসা, উৎসব ভাতা ইত্যাদিতে বৈষম্য করা হচ্ছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গঠিত অন্তবর্তীকালীন সরকার যেন তাদের এ বৈষম্য দুর করনসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয় করনের জোর দাবি জানান শিক্ষা দিবসের এই দিনে। শিক্ষক দিবস ১৯৬৬ সালে প্যারিসে ৫ অক্টোবর শুরু হয়েছিল। তখন থেকেই প্রতিটি দেশে এই শিক্ষক দিবস যথারীতি পালিত হয়ে আসছে।
জয়পুরহাট: এ উপলক্ষে শনিবার সকালে জেলা প্রশাসন ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ উদ্যোগে- শহরের শহীদ ডাক্তার আবুল কাশেম ময়দান থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে জয়পুরহাট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে- অন্যান্যের মধ্যে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমিন, জয়পুরহাট রামদেও বাজলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এমদাদুল হক সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকরা বক্তব্য রাখেন।
গোমস্তাপুর: চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে শনিবার উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে র‌্যালী ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
র‌্যালি শেষে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুসাহাক আলী। বক্তব্য রাখেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইসাহাক আলী, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুশান্ত বর্মন, মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের একাডেমিক সুপারভাইজার আসমা খাতুন, রহনপুর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আজিজুর রহমান, প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম, এনামুল হক, ইলিয়াস আলী,প্রভাষক মাসুদ আলী, শিক্ষার্থী নওসিন তাসফিয়া ও নাসিরুদ্দিন প্রমুখ।
পোরশা: শনিবার উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের অংশ গ্রহণে একটি র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। এতে নেতৃত্ব ও উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ইউএনও মো: আরিফ আদনান। বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম ওলিউল ইসলাম, একাডেমিক সুপার ভাইজার কনক রায়, নিতপুর মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুল করিম, নিতপুর সরকারি স্কুল এন্ড কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল খালেক ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজমুল ইসলাম এবং সুহাতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান। সহকারি শিক্ষক গোলাম রাব্বানীর সঞ্চালনায় এতে প্রধান শিক্ষক আকবর আলী, মোশারফ হোসেন, আসফাকুল আসেকিন, আব্দুর রইচ উদ্দিন, সহকারি শিক্ষক মতিউর রহমান, সাইফুল ইসলাম সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ উপস্থিত ছিলেন।
বদলগাছী: র‌্যালী শেষে উপজেলা পরিষদ হল রুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুব হাসান এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শফিউল আলম, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আমিনুল ইসলাম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক, উপজেলা সরকারী মডেল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মোজাফফর হোসেন উকিল, উপজেলা কারিগরী কলেজের প্রভাষক গোলাম কিবরিয়া, মহিলা কলেজের প্রভাষক নজরুল ইসলাম, বদলগাছী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম, প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রশিদুল ইসলাম সহ প্রমূখ। এসময় উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ: জেলা প্রশাসন ও জেলা শিক্ষা অফিসের সকাল দশটায় জেলা প্রশাসন চত্বর হতে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালী শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে গিয়ে শেষ হয়।
নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের এম এন খান অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভায় নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ সৈয়দ মোঃ মোজাহারুল ইসলাম তরুর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক আব্দুস সামাদ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ বিপ্লব কুমার মজুমদার, সিভিল সার্জন ডাঃ এস এম মাহমুদুর রশিদ, জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুর রশিদ, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ জেহের আলী ।
বক্তব্য রাখেন নবাবগঞ্জ সিটি কলেজের অধ্যক্ষ তরিকুল আলম সিদ্দিকী নয়ন, নবাবগঞ্জ কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. মোঃ ইমরান হোসেন, রেহাইচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তোজাম্মেল হক জামিল,নবাবগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক শিক্ষক লিনস হাঁসদা।
দুর্গাপুর: উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের যৌথ আয়োজনে দিবসটি উদযাপনে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। উপজেলা পরিষদের মিনি হলরুমে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাবরিনা শারমিন।
উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন, দুর্গাপুর ফাযিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আলতাফ হোসেন, দুর্গাপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রকাশ কুমার সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বৃন্দ। সভায় উপস্থিত শিক্ষকরা তাদের নানা প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন।
দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে ইউএনও সাবরিনা শারমিন বলেন, শিক্ষা একটি জাতির মেরুদন্ড। শিক্ষা একটি দেশ ও জাতিকে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত করে। শিক্ষার আলো ব্যক্তিকে, সমাজকে তথা দেশকে আলোকিত করে। এই আলো জ্বালানোর প্রধান কারিগর আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকগণ। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জীবনে তিনিই আশার বাতিঘর যিনি সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে শিক্ষার্থীদের উন্নতির পথে নিয়ে যান।
কাজেই শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই আলোচনা সভার মাধ্যমে দেশের সকল স্তরের শিক্ষকদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি এবং কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। সেই সাথে যে কোনো অবস্থায় শিক্ষকদের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন তিনি। আলোচনা সভা শেষে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।


প্রকাশিত: October 6, 2024 | সময়: 5:23 am | সুমন শেখ