বদলগাছীতে নদী পাড়ের ফসলি জমির মাটি কেটে অবাধে বিক্রি

বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ছোট যমুনা নদী। এ নদীর বুক বালু শুন্য হলেও বন্ধ হচ্ছে না সরকারিভাবে লিজ প্রক্রিয়া। নদীতে বালু না থাকায় নদী লিজের নামে বালু ব্যবসায়ীরা ফসলসহ কেটে নিয়ে যাচ্ছে নদীর দু’পারের তিন ফসলি জমির মাটি। নদীপাড়ের কয়েক জন ভুক্তভোগী বলেন, বালুমহাল লিজ কাকে বলে তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে নদী পাড়ের মানুষ।
সরজমিনে তথ্য সংগ্রহকালে দেখা যায়, কাষ্টডোব খাগড়া মৌজায় বালুমহাল ইজারাদার গাছপালা উপড়ে ফেলে আলুক্ষেত, পটলক্ষেতসহ ৩ ফসলি জমির মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং গভীর করা হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ফুট। তাতে আশপাশের ফসলি জমি ভেঙে পড়ছে। এলাকাবাসী হতাশায় ভুগছেন।

ঘটনাস্থলে হাতে ব্যাগ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় শরিফুল নামে এক ব্যক্তিকে। তিনি জানান, তার বাড়ি ঢেকড়া গ্রামে। তিনি বালুমহাল ইজারাদারের কর্মচারী। প্রতিদিন কত গাড়ি মাটি বালু বিক্রি হচ্ছে এ হিসেব তিনি করেন। গাছপালা, ক্ষেত ফসলসহ জমির মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে শরিফুল জানান, এক সময় এখানে নদী ছিল, এখন ফসলি জমি। এ জমি এসিল্যান্ড মাপজোঁক করে দিয়েছেন কাটার জন্য। সেখানে ফসলি জমির মাঝে মাঝে খুটির মাথায় লাল ফ্লাগ ঝুলানো রয়েছে। লাল ফ্লাগ কিসের জানতে চাইলে তিনি জানান, জমি মাপজোক করে কাটার জন্য চিহ্নিত করে দেয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কৃষক সাইফুল জানন, স্যার নাকি তাদের কাটার আদেশ দিয়েছেন। তাই তারা ফসলসহ মাটি কাটছে। মালিকানা জমি নষ্ট হচ্ছে কোন বাধা নিষেধ তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। দোনইল গ্রামের হাবিল জানান, তার পিতার নামে ৮৫ শতক জমি চিরস্থায়ী পত্তন। তাদের খাজনা খারিজ রয়েছে।

সে জমি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা বলেন, ভূমি অফিসসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, নওগাঁ জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না। অপরদিকে নালুকাবাড়ী গুচ্ছগ্রামের পাশেই বালু কাটার মহোৎসব চলছে। ভেকু মেশিন দিয়ে প্রতিদিন ২০/৩০টি ট্রাক্টর একই ভাবে মাটি বহন করছে। সেখানেও কাটা হচ্ছে ফসলি জমি। দৃশ্য দেখে মনে হবে মাটি কাটা নয় সেখানে হয় ট্রাক্টর কেনা বেচার বাজার লেগেছে। এলাকার রাস্তাঘাট নষ্ট করছে। বেপরোয়া ট্রাকের ধুলোবালি উড়ে জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ছে। নালুকা বাড়ি গুচ্ছগ্রামের সভাপতি বক্কর বলেন, আমরা বিভিন্ন কর্মকর্তা ব্যক্তির কাছে ঘুরছি কোন প্রতিকার পাচ্ছি না। এভাবে মাটি কাটলে গুচ্ছগ্রাম রক্ষা হবে না। বর্ষা মৌসুমে নদী ভরে গেলে পানির স্রোত সরাসরি গুচ্ছগ্রামে এসে আঘাত হানবে তখন এখানকার আবাস   নিশ্চিহ্ন হয়ে পড়বে।
জানতে চাইলে ছোট যমুনা নদীর বালু মহাল ইজারাদার সহিদুল ইসলাম বলেন, আমি মোটা অংকের অর্থ দিয়ে বালুমহাল লিজ নিয়েছি। নদীতে বালু নেই ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার যেখানে মাপজোগ করে দিচ্ছেন সেখানেই মাটি কাটছি। এখানে আমার দোষ কোথায়।

বদলগাছী উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার গোলাম মোস্তফার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানা, নদীর সীমানা দাগ নম্বর ধরে জমি মাপজোক করে দেওয়া হয়েছে। মাটি ও বালুমহাল ইজারা নীতিমালা অনুসারে নদীর যেখানে বালু আছে সেই জায়গাটা বালুমহাল হিসেবে চিহ্নিত করতে হয় এ প্রশ্নের জবাবে সার্ভেয়ার বলে, সেটা নিয়ম। কিন্তু সময় সুযোগের অভাবে আগে যেভাবে দাগ নম্বর খতিয়ান ধরে বালুমহাল চিহ্নিত করা হয়েছে এখনও সেই নিয়মে করা হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলপনা ইয়াসমিন বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উচিৎ নদীর সিমানা নির্ধারণ করা। তাহলে এই সমস্যার সৃষ্টি হতো না। এ বিষয়ে গত মঙ্গলবার নওগাঁ জেলা প্রশাসক খালিদ মেহেদী হাসানের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন রিসিভ হয়নি। তারপর বুধবার অনুরূপভাবে চেষ্টা করে তাকে না পাওয়ায় তার মতামত পাওয়া যায়নি।

সানশাইন/তৈয়ব


প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২২ | সময়: ৬:৫৯ অপরাহ্ণ | সুমন শেখ