, , ।
ভোলাহাট প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ ওঠা খোকন (২৫) নামের এক যুবক ভ্রাম্যমাণ আদালতের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোলাহাট উপজেলার আম ফাউন্ডেশনের উত্তরে একটি স্থানে প্রায় ছয় বছর ধরে খোকন নামের ওই যুবক ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে বিভিন্ন জটিল ও কঠিন রোগের চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। প্রতিদিন মাগরিবের পর থেকে রাত প্রায় ১টা পর্যন্ত সেখানে রোগীদের ভিড় হতো। স্থানীয়দের দাবি, ভোলাহাটসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রতিদিন প্রায় শতাধিক মানুষ সেখানে চিকিৎসা নিতে আসতেন।
অভিযোগ রয়েছে, ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়ার নামে রোগীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা নেওয়া হতো। স্থানীয়দের কেউ কেউ তাকে কথিত ‘জিনের বাদশা’ বা ‘কবিরাজ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ১৪ অক্টোবর মাগরিবের পর ভোলাহাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সানাউল মোর্শেদ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার উদ্দেশ্যে ওই স্থানে উপস্থিত হন। তবে কর্মকর্তাদের উপস্থিতির বিষয়টি টের পেয়ে খোকন সেখান থেকে পালিয়ে যান বলে জানা গেছে।
এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত রোগী ও স্থানীয়দের ভন্ড কবিরাজি বা ঝাড়ফুঁকের ওপর নির্ভর না করে অসুস্থ ব্যক্তিদের যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে বিজ্ঞ আলেমের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান এসি ল্যান্ড সানাউল মোর্শেদ।
স্থানীয় কয়েকজন জানান, দীর্ঘদিন ধরে মাগরিবের পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ওই স্থানে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার নামে ঝাড়ফুঁক চলত। শুধু ভোলাহাট নয়, পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন উপজেলা থেকেও মানুষ সেখানে আসতেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে এভাবে চিকিৎসা দেওয়ার মাধ্যমে খোকন বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে খোকনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।