, , ।
নুরুজ্জামান, বাঘা:
রাজশাহীর বাঘায় সরিষা চাষে ভরে গেছে ফসলের মাঠ। বিশেষ করে পদ্মার চরাঞ্চলের দিগন্তজুড়ে হাতছানি দিচ্ছে সরিষা ফুল। এই ফুলের হলুদ রং এবং পবিত্র সৌন্দর্য প্রতিটি দর্শনীয় মানুষের মনকে প্রশান্তি দিচ্ছে। সরিষা ক্ষেতের মাঝে এই ফুলের উপস্থিতি যেন প্রকৃতির এক অনবদ্য রূপ। যা উপভোগ করছেন মানুষ। আর মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌমাছি।
বাঘার বিস্তীর্ণ পদ্মার চরাঞ্চলে গিয়ে দেখা যায়, নীল আকাশের নিচে বিস্তৃত ফসলের মাঠজুড়ে হলুদ সরিষা ফুল। সকালের সূর্যের কিরণ প্রতিফলিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সরিষা ফুলের সমারোহে হেসে ওঠে চারদিক। মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌমাছিরা। পড়ন্ত বিকেলের মিষ্টি রোদে সরিষা ফুলগুলো বাতাসে দোল খেতে থাকে। এই ফুলগুলো তাদের কলি ভেদ করে সুবাস ছড়িয়ে দিচ্ছে চারদিক। আর এই সুবাস নিচ্ছেন বিনোদনপ্রিয় আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা। এ যেন প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের লীলা ভূমি।
বাঘার একাধিক কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় রাজশাহী জেলায় ব্যাপক পরিমাণে সরিষার চাষাবাদ হতো। সয়াবিনের উপর নির্ভরতা বাড়ায় বর্তমানে অনেকটাই কমে গেছে সরিষার চাষাবাদ। তবুও ধান চাষের পাশাপাশি ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সরিষার চাষ নিয়ে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। তাঁরা মনে করছেন, এ বছর সয়াবিনের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় তার বিকল্প হিসাবে মানুষ সরিষাকে ভোজ্যতেল হিসাবে ব্যবহার করবেন।
বাঘা শাহদৌলা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস দিপা বলেন, বাংলা ভাষায় একটি প্রচলিত প্রবাদ হচ্ছে- চোখে সর্ষে ফুল দেখা। প্রবাদের এই চোখে সরষে ফুল কেউ দেখতে না চাইলেও শীতের সময় দিগন্তজোড়া সরষে ক্ষেতে হলদে সরষে ফুল দেখে মুগ্ধ হবেনা এমন মানুষ মেলা-ভার। নিজ চোখে শীতের প্রকৃতিতে সরষে ক্ষেতে সরষে ফুল দেখার অভিজ্ঞতা যার হয়েছে, সেটি তার মানসপটে চিরস্থায়ী হয়ে রবে।
প্রাণী বিজ্ঞানীদের মতে, ফুলের মধ্যে এক প্রকার মিষ্টি তরল পদার্থ থাকে যার নাম নেক্টার। মৌমাছিরা ফুল থেকে এ নেক্টার প্রথমে নিজেরা পান করে এবং তাদের দেহের মধু থলিতে করে মৌচাকে নিয়ে যায়। যা মধু মানব দেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী বলে জানান চিকিৎসকগণ।
বাঘা উপজেলা কৃষি অফিসার শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, সরিষা একটি তৈলফসল অর্থাৎ তেল বীজ। সরিষা বর্ষজীবী উদ্ভিদ। এর আদি নিবাস আমাদের এশিয়াতেই। সরিষা দানা পিষে সরিষার তেল বের করা হয়। সরিষার দানা মশলা হিসেবেও ব্যবহার হয়। সরিষা পাতা শাক হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। শীতকালে বাংলাদেশে প্রায় সব অঞ্চলে এই সরিষা চাষাবাদ হয়ে থাকে। এ দিক থেকে এ বছর বাঘা উপজেলার দু’টি পৌরসভা এবং সাতটি ইউনিয়নে প্রায় ১০ হাজার বিঘা জমিতে সরিষা চাষ হচ্ছে।
এদিকে চলতি মৌসুমে আবহাওয়া ভালো থাকায় অত্র উপজেলায় সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। বিশেষ করে পদ্মার চরাঞ্চলে মাঠের পর মাঠ সরিষার হলুদ ফুলে ভরে গেছে। সরিষা ফুলের রাজ্যে মৌমাছির গুঞ্জনে মুখর হয়ে উঠেছে। মৌমাছি প্রাকৃতিকভাবে মধু সংগ্রহ করে অনেক আগে থেকে। এর সাথে নতুনভাবে যুক্ত হয়েছে ভ্রমণপ্রিয় মানুষের সম্পৃক্ততা।
সানশাইন/রাজ