সর্বশেষ সংবাদ :

বৃষ্টিতে কৃষকের স্বস্তি, নগরজুড়ে জলাবদ্ধতা

স্টাফ রিপোর্টার: কয়েক দিনের তীব্র খরায় পানির সংকটে পড়েছিল রাজশাহীর আমনখেত। ধানে ফুল আসার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির দেখা না পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় ছিলেন কৃষকেরা। অবশেষে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ভোর থেকে শুরু হওয়া টানা অঝোর বৃষ্টিতে সেই দুশ্চিন্তা অনেকটাই কেটেছে। তবে কৃষকের মাঠে স্বস্তি নিয়ে আসা এই বৃষ্টিই নগরবাসীর জন্য তৈরি করেছে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার ভোগান্তি।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ভোর থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ ৯৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
চলতি বর্ষা মৌসুমে রাজশাহীতে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় আমন চাষাবাদ নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন কৃষকেরা। বৃষ্টির অভাবে অনেক কৃষককে সেচের মাধ্যমে জমির পানির চাহিদা মেটাতে হচ্ছিল। এতে একদিকে যেমন উৎপাদন খরচ বেড়েছে, অন্যদিকে ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়েও তৈরি হয়েছিল উদ্বেগ।
রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকার আমন ধানের জমিতে ইতোমধ্যে ফুল এসেছে। কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধানের ফুল আসা ও দানা গঠনের সময়ে পর্যাপ্ত পানি পাওয়া ফলনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় ধানের দানা পরিপুষ্ট হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে আমনের ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়েছে।
বৃষ্টিতে স্বস্তি ফিরেছে সবজি চাষিদের মধ্যেও। পবা উপজেলার দামকুড়া এলাকার আগাম সবজি চাষি মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমি ২৫ বিঘা জমিতে আগাম জাতের বাঁধাকপি ও ফুলকপি চাষ করেছি। কয়েক দিন ধরে বৃষ্টি না হওয়ায় জমির আর্দ্রতা নিয়ে চিন্তায় ছিলাম। আজকের বৃষ্টিতে সবজির অনেক উপকার হবে। পাশাপাশি সেচের খরচও কমবে।’
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেন বলেন, ‘এ সময়ে বৃষ্টি হলে আমন ধানের বৃদ্ধি ও ফলন ভালো হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। বিশেষ করে ধানে ফুল আসা ও দানা গঠনের সময়ে পর্যাপ্ত পানি পাওয়া ফলনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’
নগরজুড়ে জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে মানুষ কৃষকের জমিতে স্বস্তি এলেও একই বৃষ্টিতে নগরজীবনে নেমে আসে ভোগান্তি। বুধবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, টানা বৃষ্টিতে রাজশাহী নগরের বিভিন্ন প্রধান সড়ক, অলিগলি ও নিচু এলাকায় পানি জমে গেছে।
বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সামনে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের সড়ক, বর্ণালী মোড়, হেতেমখা, লক্ষ্মীপুরসহ নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। কোথাও কোথাও হাঁটুসমান পানিও জমে থাকতে দেখা গেছে।
সড়কে পানি জমে যাওয়ায় আটকে পড়ে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগীর স্বজন ও সাধারণ পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অনেককে ভিজে কাপড়েই গন্তব্যে ছুটতে দেখা যায়। বৃষ্টি থামার পর ধীরে ধীরে পানি নেমে গেলেও সকালজুড়ে ব্যাহত হয় নগরের স্বাভাবিক চলাচল।
বর্ণালী মোড় এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘রাজশাহীকে দেশের অন্যতম পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর শহর বলা হয়। কিন্তু একটু বেশি বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমে যায়। তখন চলাচল করাই কষ্টকর হয়ে পড়ে। সময়মতো ড্রেন পরিষ্কার না করায় এ সমস্যা হচ্ছে।’
কলেজ শিক্ষার্থী আনিকা তাবাসসুম বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টিতেই ক্লাসে যেতে সমস্যা হয়। রাস্তার পানি অনেক সময় ড্রেনের ময়লার সঙ্গে মিশে দুর্গন্ধ ছড়ায়। সিটি করপোরেশনকে এ সমস্যা সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে।’
একই দিনের বৃষ্টি তাই রাজশাহীতে তুলে ধরেছে দুই বিপরীত চিত্র কৃষকের মাঠে
স্বস্তি ও ভালো ফলনের আশা, আর নগরজীবনে জলাবদ্ধতার পুরোনো দুর্ভোগ। কৃষকেরা যেখানে বৃষ্টিকে দেখছেন আশীর্বাদ হিসেবে, সেখানে নগরবাসীর প্রত্যাশা পরিকল্পিত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তুলে বর্ষায় জলাবদ্ধতার এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেওয়া হবে।


প্রকাশিত: September 3, 2026 | সময়: 4:54 am | সুমন শেখ

আরও খবর