, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন ঘিরে রাজশাহীতে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। আগামীকাল (২০ অক্টোবর) ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে জনসভায় যোগ দেওয়ার পাশাপাশি শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন রাজশাহীর সাধারণ মানুষ।
এ সফরে উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে আখচাষিদের জন্য প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বার্তা দেবেন বলে জানিয়েছেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন। রোববার প্রধানমন্ত্রীর জনসভাস্থল ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান। শফিকুল হক মিলন বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতি নিতে হলেও রাজশাহীর মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আবেগ কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এটিই প্রথম রাজশাহী সফর। তাঁর আগমনকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সন্তান হিসেবে তারেক রহমানের এ আগমন রাজশাহীর মানুষের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। দীর্ঘ ১৭ বছরের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তারেক রহমান দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। এ সফরে রাজশাহীর দীর্ঘদিনের বিভিন্ন দাবি ও প্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হবে বলে জানান সংসদ সদস্য মিলন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—বীজ সংরক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, রাজশাহী বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করা, কৃষিভিত্তিক রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) স্থাপন, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করা এবং পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা। পাশাপাশি রাজশাহী নগরীকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শিক্ষা নগরী’ ঘোষণা করার দাবিও জানানো হবে। শিল্পমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের উপস্থিতিতে রাজশাহীর উন্নয়নসংক্রান্ত এসব দাবি উত্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
অতীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকাকালে রাজশাহীর উন্নয়নে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন উল্লেখ করে মিলন বলেন, তাঁরা আধুনিক রাজশাহী মহানগরী গঠনে ভূমিকা রেখেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সময়ের স্বল্পতার কারণে মাইকিং বা বড় ধরনের প্রচার-প্রচারণা চালানো সম্ভব হয়নি। তবে সাংগঠনিকভাবে সব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। রাজশাহীর সর্বস্তরের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্মরণীয় সংবর্ধনা জানাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে একই দিন মাদ্রাসা মাঠ পরিদর্শন করেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম রাজশাহী সফরকে কেন্দ্র করে মহানগর বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত ও উচ্ছ্বসিত। রাজশাহীবাসীও প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নগরীতে উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। কিছু প্রকল্প সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমনে রাজশাহীর উন্নয়ন-অগ্রযাত্রা আরও ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করছেন তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো সরকারপ্রধান ঢাকার বাইরে শারদীয় দুর্গোৎসব পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে রাজশাহীতে আসছেন। রাজশাহী সফরের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি মহানগরবাসীর মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।
রাসিক প্রশাসক আরও বলেন, বর্তমান বিএনপি সরকার জনগণের সরকার। প্রধানমন্ত্রী নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় রাজশাহীতেও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত উন্নয়ন পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে—বিমান চত্বর থেকে কাশিয়াডাঙ্গা পর্যন্ত চার লেনের সড়ক নির্মাণ, কুমারপাড়া গুলগফুর পেট্রোল পাম্প থেকে বড়কুঠি হয়ে বরেন্দ্র জাদুঘর ও ফায়ার ব্রিগেড মোড় পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণ, নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে খেলার মাঠের উন্নয়ন ও ফুটসাল গ্রাউন্ড নির্মাণ এবং সিনিয়র সিটিজেন পার্ক নির্মাণ। মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বলেন, অতীতে বিএনপি সরকারের আমলে রাজশাহীতে স্কুল-কলেজ, রাস্তাঘাট, রেলস্টেশনসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর উন্নয়ন হয়েছিল। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর আবারও উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নগরীর উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বলেও জানান।
দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে থাকা হেতেমখাঁ-বর্ণালী সড়কের উন্নয়নকাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নেও কাজ চলছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রাজশাহী মহানগরীকে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে সেজেছে রাজশাহী নগরী। মহানগরীর পথে পথে রঙের ছোঁয়া, সড়ক বিভাজকে নতুন প্রলেপ আর পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যস্ত কর্মীরা। কোথাও পুরোনো স্থাপনায় লাগছে নতুন রং, কোথাও চলছে সড়ক সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর ঘিরে এভাবেই নতুন সাজে সেজে উঠছে উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগরী রাজশাহী।
এর আগে ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে মঞ্চ নির্মাণসহ প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সার্বিক প্রস্তুতি ও অগ্রগতি পরিদর্শন করেন রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন শওকত। এদিন মাদ্রাসা মাঠ পরিদর্শন করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার হাবিবুর রহমান, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা। তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে সার্বিক প্রস্তুতি ও মাঠের কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন।