, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যাপক জোবায়েদ হোসেনের উপর হামলার ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ও মনগড়া, ভিত্তিহীন সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপি নেতা জার্জিস হোসেন সোহেল।
শুক্রবার সকাল ১১টায় রাজশাহী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় উপজেলা বিএনপির সদস্য জার্জিস হোসেন সোহেল সহ অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি বজলুর রশিদ, পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আয়লান হক, জেলা যুবদলের সদস্য ও উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মাহাবুর রহমান ও জেলা যুবদলের সদস্য রেন্টু।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জার্জিস হোসেন সোহেল বলেন, দুর্গাপুর উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির উদ্যোগে ৪৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালনের প্রস্তুতি সভায় যে হট্টগল সৃষ্টি হয়েছিল তার প্রেক্ষিতে আমাকে নিয়ে যে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। সেদিনের ঘটনার সাথে আমি কোনভাবেই জড়িত নউ। আমি ঘটনার সময় সভাস্থলে ছিলামই না এবং আমার কোনরুপ প্ররোচনা ছিল না।
তিনি আরও বলেন, ওইদিনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংবাদ সম্মেলনে প্রকৃত ঘটনা সম্পূর্ণ আড়াল করা হয়েছে। রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য বিভ্রান্তিকর সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।
প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরে বিএনপি নেতা সোহেল বলেন, প্রস্তুতি সভার প্রাককালে দুর্গাপুর বাজারে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ইসফা খায়রুল হক (শিমুল) পৌরসভা বিএনপির সদস্য সচিব আহম্মেদ রেজাউল হক স্বপনের সদ্য প্রয়াত স্ত্রীর কবর জিয়ারত করে ফেরার পথে বাজার মসজিদে আসরের নামাজ আদায় করেন। এরপর তিনি এনসিডিপি মার্কেটের সামনে অবস্থান করছিলেন। ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় আমার সঙ্গে হঠাৎ তাঁর দেখা হয়। তিনি (শিমুল) এ সময় আমাকে বলেন ভাই কোথায় যাচ্ছেন। আমি তাঁকে জানাই পৌরসভা হলরুমে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর প্রস্তুতি সভায় যাচ্ছি।
তিনি সকল নেতৃবৃন্দকে সেখানে উপস্থিত হয়ে সালাম বিনিময়ের মনোভাব প্রকাশ করলে আমি তাঁকে বলি আপনি বিএনপির একজন মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে সেখানে উপস্থিত হয়ে সালাম বিনিময় করতেই পারেন। তারই প্রেক্ষিতে তিনি সেখানে উপস্থিত হন। তাঁর উপস্থিতির পর পরই আমি সেখানে উপস্থিত হই এবং নির্ধারিত আসনে বসি। আমার উপস্থিতির পরপরই প্রস্তুতি সভার সঞ্চালকের (অধ্যাপক জোবায়েদ হোসেন) আমন্ত্রণে শুভেচ্ছা বক্তব্য ও সালাম বিনিময় করে উপস্থিত সকলের নিকট থেকে বিদায় নিয়ে শিমুল সাহেব সভাস্থল ত্যাগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, এর পরপরই জেলা কৃষক দলের সদস্য দুলাল হোসেন সামনে এসে টেবিল চাপড়িয়ে নেতৃবৃন্দের কাছে প্রশ্ন করেন, তাদের মূল্যায়ন করা হয়না কেন এবং আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করা হচ্ছে মর্মে উপস্থিত নেতৃবৃন্দের কাছে জবাবদিহিতা চান।
সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক আলাউদ্দিন, উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক আব্দুল হান্নান সহ অঙ্গসংগঠনের সকল নেতৃবৃন্দ একই সুরে কথা বলতে থাকে। ওই সময় আমার বাসা থেকে জরুরি ফোন আসলে প্রস্তুতি সভার সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামরুজ্জামান আয়নালকে জানিয়ে এবং তার অনুমতি নিয়ে আমি সভাস্থল ত্যাগ করি। এরপর সেখানে আদৌ কি ঘটেছে তা আমি ওয়াকিবহাল ছিলাম না। বাদ মাগরিব জানতে পারি যে, সভাস্থলে সামান্য হট্টগোল হয়েছে।
দলের সকল নেতৃবৃন্দের সাথে ঐকমত্য পোষণ করে একই সাথে দলীয় কর্মসূচি পালন করে আসছি। দলীয় নেতৃবৃন্দের সাথে আমার কখনোই কোনো বৈরিতা ছিল না। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় ওইদিনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমাকে নিয়ে যে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। আমাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ঘটনাটি খতিয়ে দেখে জেলা বিএনপির দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ এবং সাংবাদিকবৃন্দের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ ও প্রচারের আহ্বান জানান বিএনপি নেতা সোহেল।
দুর্গাপুর পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আয়নাল হক বলেন, ওইদিনের ঘটনার সঙ্গে জার্জিস হোসেন সোহেলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সভার সময় যে হট্টগোল সৃষ্টি হয়েছে, তা রাজনৈতিক প্ররোচনা।
দুর্গাপুর পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি বজলুর রহমান বলেন, প্রস্তুতি সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন। সেখানে ব্যক্তিগত বিরোধ বা হানাহানির কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।