চুরি হওয়া ১৪ বৈদ্যুতিক মিটার উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে গভীর নলকূপের বৈদ্যুতিক মিটার চুরির ঘটনায় অবশেষে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে সিরাজগঞ্জ জেলার সলঙ্গা থানার চড়িয়া মধ্যপাড়া গ্রাম থেকে রাশিদ হাসান নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থান থেকে চুরি হওয়া ১৪টি বৈদ্যুতিক মিটার উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার বিকেলে রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও বিশেষ শাখার (ডিএসবি) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১১টার দিকে পরিচালিত অভিযানে রাশিদ হাসানকে আটক করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বাগমারা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে চুরি হওয়া মিটারগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার রাশিদ হাসান দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে গভীর নলকূপের বৈদ্যুতিক মিটার চুরি করে আসছিলেন। তিনি সাধারণত রাতের আঁধারে নির্জন এলাকায় থাকা নলকূপের মিটার খুলে নিয়ে যেতেন। এরপর ঘটনাস্থলের আশপাশের ঝোপঝাড় বা গোপন স্থানে মিটারগুলো লুকিয়ে রাখতেন। চুরির পর মিটার যেখানে লাগানো থাকত সেখানে নিজের মোবাইল নম্বর লেখা একটি চিরকুট রেখে যেতেন। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পরে মিটারের মালিকরা যোগাযোগ করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রতিটি মিটার ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে সাত হাজার টাকা করে দাবি করতেন। টাকা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রহণের পর তিনি মিটারের অবস্থান জানিয়ে দিতেন। এভাবে তিনি বিভিন্ন কৃষক ও নলকূপ মালিকের কাছ থেকে অর্থ আদায় করছিলেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি মোয়াজ্জেম হোসেন নামে এক ব্যক্তি বাগমারা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তার গভীর নলকূপের মিটার চুরির পর একইভাবে মোবাইল নম্বর লেখা চিরকুট পাওয়া যায়। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মোবাইল নম্বর ট্র্যাকিং শুরু করে। একপর্যায়ে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা এলাকায় অভিযানের মাধ্যমে রাশিদ হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে তাকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চুরি হওয়া ১৪টি বৈদ্যুতিক মিটার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া মিটারগুলো সংশ্লিষ্ট মালিকদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। স্থানীয় কৃষক ও নলকূপ মালিকরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বাগমারা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গভীর নলকূপের মিটার চুরির ঘটনা বেড়ে গিয়েছিল। এতে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের অতিরিক্ত আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছিল। পুলিশের এই অভিযানে তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, “চুরির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।” পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার রাশিদ হাসানকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে তার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।


প্রকাশিত: মে ১০, ২০২৬ | সময়: ৫:২৭ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ