সেপটিক ট্যাংক থেকে নারীর লাশ উদ্ধার, স্বামী আটক

স্টাফ রিপোর্টার, শিবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে সেপটিক ট্যাংক থেকে নাসিমা বেগম নামে এক গৃহবধূর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর আগে অভিযুক্ত স্বামী স্ত্রীকে নির্যাতনের পর হত্যা করে রাতের কোন একসময় নিজের বাড়ির পেছনের সেপটিক ট্যাংকে মরদেহ গুমের চেষ্টা করে।
ঘটনাটি বুধবার ১১ মার্চ সকালে উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের রাণীনগর-হঠাৎপাড়া গ্রামের।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ অভিযুক্ত স্বামী কে আটক এবং স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত নাসিমা বেগম রাণীনগর-হঠাৎপাড়া গ্রামের মিজানুর রহমান ভেজুর স্ত্রী এবং পাশের গ্রামের মৃত আব্দুস সালামের মেয়ে।
এদিকে স্থানীয়রা জানায় অভিযুক্ত ব্যক্তি নেশাগ্রস্থ এবং মাঝেমধ্যেই সে তার স্ত্রীকে নির্যাতন করত। ঘটনার পর গ্রামবাসীর ভীড় ছিল উপচে পড়া। প্রতিবেশীদের মধ্যে ছিল হতাশা এবং আর্তনাদ। সবার মধ্যে ছিল মিজানের প্রতি ঘৃণা।
একই এলাকার ফেরদৌসী বেগম জানান, মহিলার উপর অত্যাচার করা হতো প্রায়ই। তাই মিজানের কঠোর যেন শাস্তি হয়। তার শাস্তি দেখে আর কেউ যেন এভাবে মেয়েদের গায়ে হাত না তোলে।
পাশের জমিতে কাজ করতে আসা শহিদুল ইসলাম বলেন, মিজান এ নিয়ে ৩টি বিয়ে করেছে। প্রায়ই সে গাঁজা খেত এবং স্ত্রীদের অত্যাচার করত। নেশাখোর মিজান স্ত্রীকে হত্যার পর পায়খানার ট্যাঙ্কিতে ফেলে দেয়। এরকম ঘটনা যেন এ এলাকায় ভবিষ্যতে আর না হয়, সেজন্য তার কঠোর বিচার হওয়া উচিত।
ইউপি সদস্য আলী জেম জানান, প্রায় ১০ বছর আগে তাদের বিয়ে হয় পাশের গ্রামের মৃত সালামের মেয়ের সাথে। ৩ টা মেয়ে এক ছেলে নিয়ে তাদের সংসার। মিজান মাদকাসক্ত। কিন্তু মাঝে মধ্যেই সে তার স্ত্রীকে নির্যাতন করত বলে শোনা গেছে। বুধবার ভোরের দিকে পারিবারিক কলহের জেরে বাড়ির ভেতরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নাসিমা বেগমকে হত্যা করে মিজানুর। পরে তার মরদেহ বাড়ির বাইরে এনে সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেন।
সকালে বাড়ির পেছনে তার সেপটিক ট্যাংকের পাশে রক্ত এবং এর ঢাকনাটি যথাস্থানে না থাকায় স্থানীয়দের সন্দেহ হলে এক পর্যায়ে জানা যায় সে তার স্ত্রীকে হত্যার পর মরদেহ গুম করতে পায়খানার সেফটিক ট্যাংকে ফেলে দিয়ে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দেয়ার চেষ্টা করে।
এসময় অনেকে বাড়ির ভেতরে খাটের পাশে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ দেখতে পেয়ে মিজানকে গাছের সাথে বেঁধে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত মিজানাকে আটক করে থানায় নিয়ে গেছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, সকালে খবর পেয়ে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নাসিমা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে। তার শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। এ সময় আটক করা হয়েছে তার স্বামী মিজানুর রহমান ভেজুকে। তিনি প্রাথমিকভাবে নাসিমা বেগমকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
ওয়াসিম ফিরোজ আরও বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।


প্রকাশিত: মার্চ ১২, ২০২৬ | সময়: ৪:০৩ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ