বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার, শিবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে ভোট পরবর্তী ফলাফলের সময় কেন্দ্রে ভোট কম পাওয়াকে কেন্দ্র করে অবিশ্বাস থেকে হামলা ও পাল্টা হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় দুই দফায় ২টি বাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের। ভোটের দিন বৃহষ্পতিবার সন্ধ্যায় এবং পরদিন সকালে ২ দফা হামলা পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সুত্র জানায়, আওয়ামী লীগ অধ্যুাষিত দুলর্ভপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বও ওয়ার্ডের জগন্নাথপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পিয়ালিমারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে বরাবরই দ্বিগুনের বেশি ভোট পায় বিএনপি। সদ্য শেষ হওয়া নির্বাচনে জগন্নাথপুর কেন্দ্রে বিএনপি ১৪ ’শ এবং জামায়াত ১ হাজার ভোট পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। আর উৎফুল্ল হয়ে জামায়াতের পক্ষে উল্লাশ করে জামায়াত সমর্থকরা।
বৃহষ্পতিবার ফলাফল ঘোষণার পর জামায়াত সমর্থিতদের উদেশ্যে ইট পাটকেল ছুঁড়া হয়। জামায়াতের দাবী বিএনপি নেতাকর্মীদের এ কাজে বেধে যায় সংঘর্ষ। পরে প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনলেও সকালে বাবর আলী ও তার চাচাত ভাই সাদিকুলের বাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটলে আবারো প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তবে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
এ ঘটনায় উভয় পক্ষের ৩-৪ জন আহত হয়েছে। আহতরা চিকিৎসাধীন রয়েছে। আহতদের মধ্যে সাদিকুল ইসলাম (৫৯) ও তার ছেলে এবং ইউসুফ আলি (২৭) ও তার মেয়ে আদরীর নাম জানা গেছে।
ক্ষতিগ্রস্থ বাড়ির মালিক বাবর আলী জানান, তিনি ৭৮ সাল থেকে বিএনপির রাজনীতি করার পরও তার বাড়িতে বিএনপির লোকজন ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। যা লজ্জাজনক ও মেনে নেয়ার নয়।
বাবরের ছেলে মিজানুর রহমান জানান, তার বাবা বিএনপি করেন। তারা ৫ ভাইয়ের ৪ জনই বাইরে থাকেন। ছোট ভাই মোতাহার আলী শিবির করায় বিএনপির ধারনা তাদের পরিবার জামায়াতকে ভোট দিয়েছে। এ কারণে তাদের ও তার চাচার বাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট করেছে এম মেম্বারের লোকজন। তার দাবী এ ঘটনায় একটি মোটরসাইকেল, সোফা সহ ১৪ লাখ টাকার সম্পদ ভাংচুর ও পোড়ানো হয়েছে।
মিজানের বোনের দাবী পলাশ, মনির, বিসিক সহ বিশ্বাসপাড়া মহল্লার শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মী হাসুয়া ও দেশি অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে চড়াও হয়।
অন্যদিকে অভিযুক্ত ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোশারফ হোসেন এম বলেন, বাবর আলী ছেলেদের কথায় এখন জামায়াতের রাজনীতি করে। তারা এলাকায় ভোট কিনে জামায়াতকে সহায়তা করছে।
তারা বিএনপির সাথে থেকে দলের সব তথ্য জামায়াতকে পাচার করায় দালাল। সন্ধ্যায় জামায়াত রেজাল্ট ঘোষণার পর জগন্নাথপুর বাজার দখলে নেয়ার চেষ্টা করে। এসময় পলাশ সহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা প্রতিহত করে। এতে ব্যর্থ হয়ে বাবরের বড় ছেলে মিজান নিজেদের সোফায় নিজেরাই আগুন দিয়ে নাটক করছে।
এ ব্যাপারে ঘটনাস্থল পরিদর্শণ শেষে শিবগঞ্জ থানার এস আই দেলোয়ার হোসেন বলেন, জগন্নাথপুর ও পিয়ালিমারি কেন্দ্রে কম ভোটের ব্যবধানে বিএনপি বিজয়ী হওয়ায় বাবর আলীর পরিবারকে দায়ী করে হামলা চালায় বিএনপি। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এ ঘটনায় এখনও কোন মামলা হয়নি বলে জানান তিনি।
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশিক আহম্মেদ জানান, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ বিজিবি ঘটনাস্থলে আছে। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রনে।
এ ব্যাপারে দূর্লভপুর ইউপি চেয়ারম্যন আযম আলি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন জামায়াত ইসলামকে ভোট দিয়েছে বলে সন্দেহ করে জগন্নাথপুর গ্রামের বিশ্বাসপাড়া ও ডাঘাটোলা মহল্লার মধ্যে ২ দফা সংঘর্ষ হয়েছে। স্থানীয় ভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে। কয়েকজন আহত হয়েছে বলে শুনেছি।