বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুরের ৪৩ কেন্দ্রে বিশেষ নজরদারী, থাকবে সিসিটিভি

বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষ্যে জমজমাট প্রচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসন। বিএনপি-জামায়াতসহ অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা নিজ নিজ প্রার্থীকে বিজয়ী করতে বিরামহীন প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এবারই প্রথমবারের মত পোষ্টার বিহীন এ নির্বাচনে কাপড়ের ব্যানার ও মাইকিংয়ের মাধ্যমেই প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা। তবে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ও তাদের কর্মীদের মাঝে নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেমন থাকবে সেটা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সুষ্ঠ ভোট নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিকভাবে রাজনৈতিক বিবেচনায় বড়াইগ্রামের ৯৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৯টি এবং গুরুদাসপুরে ৬৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৪টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়েছে। নির্বাচনের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেনি। তবে নির্বাচনের দিন কেন্দ্র দখল বা ভোটারদের বাধা দেয়া সহ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংঘাত সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন সাধারণ ভোটাররা।
তবে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থাকলেও ইতিমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রসহ সব কেন্দ্রে অন্তত চারটি করে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে বলে জানান সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউএনও লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস।
তিনি বলেন, পুলিশ, আনসার সদস্য, র‌্যাব, বিজিবি সার্বক্ষণিক মোতায়েন থাকবে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে। বিশেষ করে ঝুঁকির কথা বিবেচনায় রেখে বিশেষ নজরদারির জন্য সেনা সদস্যদের টহলও জোরদার করা হবে। এছাড়া ইউনিয়ন এবং পৌরসভা হিসাবে নির্বাচনী ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়োজিত থাকবেন।
সূত্র জানিয়েছে, দুই উপজেলার ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৬০০ ভোটার ১৬৭টি কেন্দ্রে ভোট প্রদান করবেন। এর মধ্যে বড়াইগ্রামের ৯৯টি কেন্দ্রে ২ লাখ ৫৩ হাজার ৩৭২ জন ভোটার এবং গুরুদাসপুরের ৬৮টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৯০ হাজার ২২৮ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এই আসনে জামায়াত-বিএনপিসহ জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন ও এবি পার্টির মোট ৫ জন প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউএনও লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘন প্রতিরোধ, ঝুঁকিমুক্ত ভোট গ্রহণ এবং রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা এড়াতে নির্বাচনী টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে। প্রার্থীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, আচরণবিধি ভাঙ্গলে রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একটি সুষ্ঠও পরিচ্ছন্ন নির্বাচন উপহার দিতে নির্বাচনী টিম যথাযথভাবে কাজ করছে। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন সেজন্য আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। কোনো প্রার্থী বা সমর্থকদের সুষ্ঠু ভোট নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই।
তিনি বলেন, ইতিপূর্বে বিভিন্ন হাট-বাজারসহ প্রত্যন্ত গ্রামের তৃণমূল ভোটারদের গণভোট সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হচ্ছে। দলমত নির্বিশেষে ভোটাররা যাতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পছন্দের প্রার্থীর পাশাপাশি গণভোটেও ঝুঁকিমুক্ত ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন সে জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।


প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬ | সময়: ৪:১৭ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ

আরও খবর