বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার, নওগাঁ: আহসান হাবিব ওরফে শুকুর আলী নামে এক ভূমিদস্যুর অত্যাচারে পৈত্রিক জমিতে পরবাসী হয়ে আছেন নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলার শ্রীকৃষ্ণপুর গ্রামের প্রায় ২০টি পরিবারের শতাধিক মানুষ। যেকোন উছিলায় এলাকার লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে চালানো হয় অত্যাচার ও নির্যাতন। কোর্টে ও থানায় মিথ্যা মামলা দিয়ে করা হয় হয়রানি।
বাপ-দাদার আমল থেকেই এসব অত্যাচার সহ্য করে আসছে শ্রীকৃষ্ণপুর গ্রামের বিশু সরকার ও তাদের সম্পৃক্ত পরিবারের সদস্যরা। শুকুর আলীর অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে বুধবার নওগাঁ জেলা প্রেসক্লাবে প্রায় অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ ও শিশু কিশোর উপস্থিত হয়ে সংবাদ সম্মেলনে তাদের উপর নির্যাতনের বর্ননা দেন।
লিখিত বক্তব্যে বিশু সরকার জানান, উপস্থিত এই ২০টি পরিবারের লোকজন একই বংশের সদস্য। বিশুর বাবা এফাজ উদ্দীন সরকারেরা ৪ ভাই। উপজেলার ননুজ মৌজায় তাদের নামে জমিদারী খতিয়ান ও প্রজা খতিয়ানে ৬.৮৯ একর জমি রয়েছে। ১৯২০, ৬২ ও ৭২ সালে এফাজউদ্দীনের বাবা ও ভাইদের নামে রেকর্ড রয়েছে। বর্তমানে এদের নামেই খাজনা খারিজ রয়েছে। কিন্তু আহসান হাবীব শুকুর আলী জোরপূর্বক এই ৬.৮৯ একর জমি সহ এলকার প্রায় ৩৬৫ বিঘা খাস জমি (ছাহাম) জবর দখল করে রেখেছে এবং চাষ আবাদ করে আসছে।
১৯৭২ সাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে নানান কুটকৌশলে শুকুর আলী এই নির্যাতিতদের নিজ জমি থেকে উচ্ছেদ শুরু করে। সবশেষ ২০০১ সালে এসকল পরিবারের নারী ও শিশু সহ সকলের উপর লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে নির্যাাতন চালিয়ে তাদের নিজেদের জমি থেকে উচ্ছেদ করে। তখন থেকেই বিষু সরকার সহ অন্যরা নিজ জমি থেকে উচ্ছেদ হয়ে সরকারী খাস জমিতে, রেলের জায়গায় মাথা গোজার ঠাঁই করেছে। অপরদিকে শুকুর আলী দখলকৃত বসতবাড়ি ভেঙ্গে ফেলে ধানী জমিতে রুপান্তরিত করে আবাদ করে আসছে।
পরবর্তীতে নিজেদের জমির কাগজপত্র সংগ্রহ করে স্থানীয় মাতব্বর, ইউপি সদস্যদের নিকট সুষ্ঠু বিচারে দাবিতে ঘুরে ঘুরে কোন সুবিচার পান নাই। সেই সময় তাদের উপর বিভিন্ন মিথ্যা মামলা, চুরি মামলা দিয়ে তাদের উপর নানা ভাবে অত্যাচার করা হয়েছে। জেল হাজতে একাধিকবার প্রেরণ করা হয়েছে। এসব অকথ্য নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বিষু সরকার নিজে বাদী হয়ে ২০২২ সালে বদলগাছী সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলার বিবাদী আহসান হাবীব ওরফে শুকুর আলী সহ অন্যরা। গত বছরের ২৪ এপ্রিল উক্ত আদালতের বিচারক কাগজপত্র বিশ্লেষণ করে উভয় পক্ষের যুক্তি তর্ক বিশ্লেষণ শেষে বিষু সরকারদের পক্ষে একতরফা রায় প্রদান করেন। শুকুর আলীর অবৈধ দখলকৃত বাঁকি ৩৬৫ বিঘা সরকারী খাস জমির উপর বিষু সরকার স্ট্যাটাসকো চাইলে আদালত উক্ত জমির উপর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি স্ট্যাটাসকো দেয়। এখন পর্যন্ত ঐ জমির উপর স্ট্যাটাসকো বহাল রয়েছে।
উক্ত জমিতে শুকুর আলী আদালতের রায় অমান্য করে স্ট্যাটাসাকো ভ্যাকেট না করে বে আইনী ভাবে সরকারের খাস জমি দখল করে চাষ আবাদ করে আসছে। এরমধ্যে গত বছরের ২৪ এপ্রিল আদালতের রায় পাওয়ার পর বিষু সরকাররা তাদের বাপ দাদার জমি দখলে নেয় এবং ভোগ দখল করে আসছে।
সবশেষ গত ১৬ আগস্ট বিষু সরকার তাদের জমিতে ধান রোপন করতে গেলে আহসান হাবিব শুকুর তার দলবল নিয়ে বিষু সরকারের লোকজনের উপর হামলা করে একাধিক মহিলা সহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বর জখম করে।
এ ঘটনায় বিষু সরকার বাদী হয়ে বদলগাছী থানায় অভিযোগ করলেও পুলিশের পক্ষ হতে কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করে নাই বলে উল্লেখ করেন। সংবাদ সম্মেলনে বিষু সরকার ছাড়াও অফেলা, মাসুদা, তোতা ও ফরিদা তাদের উপর নির্যাতনের ঘটনা বর্ণনা করেন।
বিষু সরকার তাদের উপর নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচারের দাবি ও তাদের বৈধ পৈত্রিক জমির উপর যাতে আর কোন হামলা ও মিথ্যা মামলা না হয় সেজন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।