দু’শত ঘুঘু পাখি ফেলে বিক্রেতা চম্পট পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা ক্রেতার

স্টাফ রিপোর্টার, বাঘা: রাজশাহীর বাঘায় দুইশত ঘুঘু পাখি বিক্রি করতে এসে পালিয়ে গেছেন বিক্রেতা। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি পালিয়ে যান। অবশেষে আইন প্রয়োগ করা হয় পাখির ক্রেতার বিরুদ্ধে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বুধবার ৬ আগস্ট সন্ধ্যায় উপজেলার বাঘা বাজারে অবস্থিত আজাদ পোল্ট্রি ফার্মের মালিক আজাদ আলী সহ অপর এক ব্যবসায়ীকে পাঁচ হাজার টাকা করে সর্বমোট দশ হাজার টাকা খেসারত গুনতে হয়।
স্থানীয় লোকজন জানান, বুধবার সন্ধ্যার পূর্বে বাঘা বাজারে অবস্থিত আজাদ পোল্ট্রি ফার্মে ৯ খাঁচা (দুইশত) ঘুঘু পাখি বিক্রির জন্য আসেন বহিরাগত একজন ব্যবসায়ী। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে উপস্থিত হন বাঘা উপজেলার ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাম্মি আখতার এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) সাবিহা সুলতান ডলি সহ সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স।
এদিকে অবস্থা বেগতিক দেখে তাৎক্ষণাৎ সেখান থেকে ঘুঘু ফেলে সটকে পড়েন বিক্রেতা। এরফলে বিপাকে পড়েন আজাদ পোল্ট্রি ফার্মের মালিক আজাদ আলী। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাৎক্ষণাৎ তার পাঁচ হাজার টাকা জরিমান করেন এবং উপস্থিত লোকজনের সামনে পাখিগুলোকে অবমুক্ত করেন। এতে নির্বাহী কর্মকর্তাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন উপস্থিত লোকজন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, পাখি শিকার দণ্ডনীয় অপরাধ। ১৯৭৪ সালে বন্য প্রাণী রক্ষা আইন ও ২০১২ সালে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে দণ্ডের বিধান রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পাখি নিধনের সর্বোচ্চ শাস্তি এক বছর জেল, এক লাখ টাকা দণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত। একই অপরাধ আবার করলে শাস্তি ও দ্বিগুন জরিমানারও বিধান রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে পাখি বিক্রেতা পালনোর ফলে মানবিক চিন্তা করে দোকানে হাস-মুরগীর মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা সহ অন্যান্য অপরাধে আজাদ আলী সহ দুই ব্যবসায়ীকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর আওতায় পাঁচ হাজার টাকা করে সর্বমোট দশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
একই সাথে বাজারের সকল হাস-মুরগী ব্যবসায়ীদের পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা সহ পাখি ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কে সতর্ক করা হয়।


প্রকাশিত: আগস্ট ৮, ২০২৫ | সময়: ৫:০৪ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ