, , ।
স্টাফ রিপোর্টার, নওগাঁ: নওগাঁর সাজ্জাদ হোসেন গত কয়েক বছরের ব্যবধানে রিকসা চালক থেকে চাঁদাবাজি, জমি দখলবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাজ্জাদ হোসেন ওরফে টোকাই সাজ্জাদ শহরের চকবিরাম মহল্লার মৃত কছির সরদারের ছেলে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এরাকাবাসীরা জানায়, সাজ্জাদ ছোট বেলা থেকে বেয়াদব, উৎশৃংখল প্রকৃতির ছিল। এলাকায় সে টোকাই সাজ্জাদ হিসাবে পরিচিত ছিল। তার বাবা ছিল দিনমজুর। ৫ সন্তানের ভাতের জোগান দিতে অভাবের সংসারে বাবার সংসার চালাতে হিমসিম খেতো। সাজ্জাদ বড় হয়েও প্রথমে রিকসা চালাতো। পরে তার কাজ ছিল সন্ত্রাসী করে অন্যের জমি দখল ও সরকারী খাস জমি দখল করা। সে যুবলীগের রাজনীতি করত। তার এই কর্মকান্ডে পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি দেওয়ান ছেকার আহমেদ শিষানের নজরে পড়ে যায়।
আওয়ামী লীগের শেষের ৫ বছরে যুবলীগের ক্যাডার হয়ে শহরের বালুডাঙ্গা বাসস্টান্ডে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। তার ভয়ে কেও মুখ খূলতে সাহসা পায় না। তার বিরুদ্ধে থানায় কেহ অভিযোগ করলেও কোন লাভ হয় না। দিনে দিনে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে। জমি দখলের জের ধরে নিজ হাতে নিজের চাচাকে খুন করে খুনী সাজ্জাদ হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। হত্যা মামলার আসামী হয়েও পুলিশ প্রথমে গ্রেপ্তার করতে পারে না। প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে। কারণ তার খুটির জোর ছিল খুব শক্ত।
অনেক পরে ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরন করে। এলাকাবাসী কিছু স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলে। সে সময় শিষানের মদদে তার ক্যাডার সাজ্জাদ বিপুল পরিমান অর্থের বিনিময়ে বড় ধরনের তদবিরে তার জামিন করিয়ে দেয়। পরে সাজ্জাদ একই গ্রামের আজিজুল ও তার পুত্র আরাফাত নিয়ে ক্যাডার বাহিনী গড়ে তোলে। তার নেতৃত্ব দেন সাজ্জাদ।
ক্যাডার থাকাকালীন নিজ বাড়ী বহুতল বিশিষ্ট আধুনিক ভবন, বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে বহুতল বিশিষ্ট ভবন, হাজীর আমবাগানে মার্কেট নির্মান, স্ত্রীর নামে একাধিক প্লট সহ অনেক সম্পদ ও সম্পত্তি কিনেন এবং বহুখাস জমি দখল করে নেন। জেল থেকে বের হওয়ার পর তাকে আর পিছনে ফিরে যেতে হয়নি। দিনে দিনে সম্পদের পাহাড় তৈরী করেছেন। গত ৫ আগস্টের পর দলীয় রং পরিবর্তন করে টাকার বিনিময়ে বিএনপি নেতাদের ম্যানেজ করে আবারও শুরু করে চাঁদাবাজি দখলবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। বাসস্ট্যান্ডের সামনে প্রায় দুই শত বিঘার উপরে নান্দনিক ও দৃষ্টি নন্দন নওগাঁ মডেল টাউন নামে বিশাল সিটি আছে। তার মালিক বিশিষ্ট সমাজ সেবক আব্দুল কুদ্দুছের নিকট থেকে বহু ফিন্দি ফিকির করে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অজুহাতে লাখ লাখ টাকা নিত। এক সময় টাকা বন্ধ করে দেয়ায় ওই মডেল টাউনের প্রবেশ দ্বার বন্ধ করে দিয়ে সরকারী খাস জমিতে জোর পূর্বক দোকান ঘর নির্মাণ করে।
পুলিশ প্রশাসন ও সিভিল প্রশাসনকে বার বার লিখিত অভিযোগ করেও কোন লাভ হয় নাই। কোন প্রশাসনই তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেন নাই বা সরকারী খাস জমিতে স্থাপনা ভেঙ্গে দেয় নাই। ফলে মডেল টাউনের প্রবেশ পথ বিকল্প স্থান দিয়ে চলাচল করছে। ওই মডেল টাউনে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির অফিস আছে। ওখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কাজকর্ম পরিচালনা করেন।
এছাড়াও ওই মডেল টাউনে বহু পরিবার বাসাবাড়ী করে আছে, বহু পরিবার ভাড়া আছে। ওই খানে অনেক এ্যাপার্টমেন্ট তৈরী হচ্ছে। তার মালামালসহ সবাই বিকল্প পথে যাচ্ছে। প্রশাসন এখনও পর্যন্ত ওই দখলদারের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। এখনও সে বহাল তবিয়তে আছে। আগে ছিল আওয়ামী লীগের ছাত্রছায়ায়, এখন বিএনপির ছত্রছায়ায়। এলাকাবাসীরা ওই অবৈধ দখলদারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে কোন লাভ হয় নাই। এলাকাবাসীরা অবৈধ দখলদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করে দখল মুক্ত করে নওগাঁ মডেল টাউনের সৌন্দর্য ফিরে দেয়ার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষে নিকট দাবী জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে সাজ্জাদের মোবাইল ফোনে বার বার কল দিলে সাংবাদিক শুনে ফেন কেটে দেন।