বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার, বাগমারা: রাজশাহীর বাগমারায় গ্রাহকের জমানো তিন কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়েছেন বেসরকারী এনজিও আল-বায়া সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেডের পরিচালক আক্কাছ আলী মাস্টার ও তার দুই ছেলে। এমন ঘটনায় বেকায়দায় পড়েছে সঞ্চয় জমাদানকারী ভুক্তভোগীরা।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ভবানীঞ্জ পৌরসভায়। ওই ঘটনায় রোববার বিকেলে বাগমারা প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে ভুক্তভোগীরা এমন অভিযোগ করে সাংবাদিক সম্মলেনে তুলে ধরেন। তারা অবিলম্বে সরকারের আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্য সহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
জানা যায়, গত ২০১৬ সালে উপজেলার ভবানীগঞ্জ বাজারে আল-বায়া সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেড স্থাপিত করেন গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের তেলিপুকুর গাঙ্গোপাড়া গ্রামের মাস্টার আক্কাছ আলী। তিনি ২০১৭-১৮ সালে উপজেলা সমবায় অধিদপ্তর থেকে ক্ষুদ্র সঞ্চয় জমা নেয়ার জন্য অনুমতি পান। সমবায় থেকে অনুমতি নেয়ার পর থেকে আল-বায়া সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেডের নির্বাহী ও সভাপতির দায়ীত্ব নেন মাস্টার আক্কাছ আলী।
এছাড়াও তিনি তার ছেলে রায়হান আলী শেখকে উক্ত প্রতিষ্ঠানের সাধারণ সম্পাদকের দায়ীত্ব দেন। অপরদিকে একই প্রতিষ্ঠানের ক্যাশিয়ার হিসেবে নিয়োগ দেন তার আপন ভাগিনা সোহরাব হোসেনকে। শুরু হয় প্রতারণার বিভিন্ন কলা কৌশল। এক পর্যায়ে তারা শতাধিক গ্রাহকের তিন কোটি টাকা নিয়ে উধাও হন আল-বায়া সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেডের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। বেকায়দায় পড়েন সঞ্চয় জমাদানকারী গ্রাহকেরা। তারা নিরুপায় হয়ে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
সঞ্চয় বিনিয়োহকারী দেউলিয়া গ্রামের অধ্যাপক হাবিবুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, আল-বায়া সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি অতিরিক্ত মুনাফার লোভ দেখিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে পাশ বই ও মানি রিসিভের মাধ্যমে তিন কোটি টাকার জামানত গ্রহন করেন। গ্রাহকের মুনাফার টাকা সময় মত পরিশোধ করে তাদেরকে আকৃষ্ট করেন। এক সময়ে গ্রাহকদের টাকার প্রয়োজনের তাগিদে তাদের জমানো টাকা ফেরৎ চাইতে গেলে তারা নানা ভাবে টালবাহনা শুরু করেন।
গ্রাহকদের চাপে পড়লে এক পর্যায়ে আল-বায়া সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি তাদের অফিস বন্ধ করে কর্মকর্তা, কর্মচারীরা উধাও হয়ে যান। অফিস বন্ধের কারণে গ্রাহকদের মধ্যে চরম হতাশা লক্ষ করা যায়। ওই ঘটনায় তারা টাকা ফেরৎ পাওয়া ও প্রতারক আক্কাছ আলী শেখ, ছেলে রায়হান আলী শেখ ও ভাগিনা সোহরাব হোসেনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানিয়েছেন সাংবাদিক সম্মেলনে।
যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত আক্কাছ আলী শেখ টাকা পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আস্তে আস্তে সকল গ্রাহকের টাকা পরিশোধ করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। মাঠ পর্যায়ে টাকা আটকা পড়ার কারণে গ্রাহকের সঞ্চয় ফেরত দিতে বিলম্ব হচ্ছে বলে তিনি দাবী করেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে ভুক্তিযোগীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলার বাজেকোলা গ্রামের শাহাদৎ হোসেন, মতলেবুর রহমান, মিন্টু, মুনসুর রহমান, আব্দুর রাজ্জাক, সেফাতুল্লাহ, মনিরুল ইসলাম, জোসনা বেগম উত্তরএকডালা গ্রামের আনোয়ার হোসেন, মোজাহার আলী, সোহেল রানা, ভবানীগঞ্জের মাহাবুর রহমান, হাসানপুরের রফিক, মচমইলের জাকির হোসেন, পলাশীর রহিদুল ইসলাম।