বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার,তানোর: রাজশাহীর তানোরে চিত্তরঞ্জন (২৭) নামে এক ব্যক্তির গলা কাটা বস্তা বন্দি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার সকাল ৮টার দিকে শিবো নদীর তানোর পৌর সভার কালিগঞ্জ শ্মশানঘাটি এলাকার কচুরিপানার মধ্যে এলাকাবাসি বস্তা বন্দি লাশটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশ ঘটনা স্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।
এঘটনায় চিত্তরঞ্জনের বাবা মনোরঞ্জন বাদি হয়ে হত্যা মামলা করেছে। দুপুরে থানা পুলিশ স্বপন পাল (৫৮) ও তার স্ত্রী ছবি রানী (৫০) এবং কাজলী রানীকে (৩০) আটক করেছে।
জানা গেছে, তানোর পৌর এলাকার কালিগঞ্জ রায়তান বড়শো হাবিবনগর পালপাড়া গ্রামের চিত্তরঞ্জনের প্রেম হল গলার কাঁটা। পাশের বাড়ির স্বপন পালের কলেজ পড়ুয়া মেয়ে (ডিগ্রী ১ম বর্ষের) কামনা পালের সঙ্গে চিত্তরঞ্জেনের প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। চিত্তরঞ্জন রাজমিত্রীর কাজ করতেন। মেয়ের বাবা ও বড় ভাই তাদের সম্পর্ক মেনে নিবে না বলে চিত্তরঞ্জনকে প্রাণ নাশের হুমকি দেয়। ২৭ এপ্রিল চিত্তরঞ্জন বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। অনেক খোজাখুজির পর চিত্তরঞ্জনকে না পেয়ে তার বাবা মনোরঞ্জন তানোর থানায় জিডি দায়ের করেন। জিডি নং ১৩৫৩। চিত্তরঞ্জন নিখোঁজের দিন থেকে তার প্রেমিকা কামনা পাল ও মেয়ের বড় ভাই সুবোত পাল বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। সেই থেকে তারা দুই ভাইবোন পলাতক রয়েছে। পুলিশ তাদের দুই জনকে খুজে পাচ্ছেনা।
অবশেষে চিত্তরঞ্জন নিখোজের ২০ দিন পর তার বস্তা বন্দি গলা কাটা গলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এদিকে এঘটনায় ঘটনায় ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেছেন রাজশাহী জেলার (গোদাগাড়ী সার্কেল) সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুর সালাম।
মামলার বাদি মনোরঞ্জন বলেন, স্বপন পালের মেয়ে কামনার সঙ্গে আমার ছেলের সর্ম্পকটা মেনে নেয়নি স্বপন ও তার ছেলে সুবোত। আমার ছেলের গলা কেটে মেরে ফেলেছে তারা। লাশ গুম করতে আমার ছেলের মৃত দেহ বস্তা বন্দি করে নদীতে কচুরীপানা মধ্যে পুতে রেখেছিলো। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
তানোর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবজাল হোসেন বরেন, বস্তা বন্দি লাশটি চিত্তরঞ্জনের বলে সনাক্ত করা হয়েছে। বস্তার মধ্যে লাশের মাথা কাটা অবস্থায় রয়েছিল। থানায় মামলা হয়েছে তিন জনকে গ্রেফপ্তার করা হয়েছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছি।