, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর হেলেনাবাদ-১ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) ইংরেজি প্রশ্নপত্র আংশিক পরিবর্তনের জন্য ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়ে বেশ কয়েকটি দপ্তরে আবেদন করেছেন। এই বিষয়টি নিয়ে তাকে নানাভাবে হয়রানি ও তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলেও হলেনাবাদ-১ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুস সামাদ অভিযোগ করেছেন। আর প্রতিকার চেয়ে রবিবার রাজশাহী জেলা প্রশাসক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও থানা শিক্ষা অফিস বরাবর এ আবেদন করেছেন।
আবেদনে তিনি উল্লেখ করেছেন, গত ২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর ৩য় প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষার ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষার দিন অভিভাবকের তথ্যের ভিত্তিতে তিনি জানতে পারেন, ইংরেজি বিষয়ে পরীক্ষার আগের দিন প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। প্রশ্নগুলো ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীর হাতে চলে গেছে। বিষয়টি জানার পর শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে তিনি ইংরেজি বিষয়ে প্রশ্ন আংশিক পরিবর্তন করে পরীক্ষা নেন। পরীক্ষা শুরুর কিছু সময় আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয় তিনি জানার পর সময় কালক্ষেপন না করে অন্য শিক্ষকদের সাথে পরামশ করে প্রশ্নপত্র আংশিক পরিবর্তন করেন। সময় স্বল্পতার কারণে তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারেননি।
আবেদনে তিনি আরো উল্লেখ করেছেন, বিষয়টি তার জানানোর আগেই অতিউৎসাহিত কিছু ব্যক্তি বিষয়টি থানা শিক্ষা অফিসকে জানায়। এ নিয়ে থানা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসকে জানালে তদন্তে নিদের্শ দেয়া হয়। তবে তদন্তে তিনি স্বীকার করেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে প্রশ্নপত্র আংশিক পরিবর্তন করা তার ভুল হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে তিনি এ ভুলের জন্য ক্ষমা চান।
তিনি অভিযোগ করেন, তার বিরুদ্ধে উঠা এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে বেনামে তার বিরুদ্ধে আরো একটি অভিযোগ জেলা প্রশাসক বরাবর দেয়া হয়। যদিও অভিযোগকারীর নাম ঠিকানা নেই। জনি নামে এক ব্যক্তি জেলা প্রশাসক বরাবর এ অভিযোগ করেন। তবে কে এই জনি, কি তার পরিচয়, কেনো তিনি অভিযোগ করেছেন কোনো কিছু স্পষ্ট নয়।
শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা বলছেন, বেয়ারিশ অভিযোগের প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে নিয়ে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি ও শোকজ নোটিশ দিয়েছেন। যদিও প্রশ্নপত্র পরিবর্তনের জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে কৈফিয়ত তলব করার কথা। কিন্তু তা না করে শিক্ষা অফিস সরাসরি তদন্ত কমিটি গঠন করে। এটি প্রধান শিক্ষককে হয়রানি করা ছাড়া আর কিছুই নয় বলে মনে করছেন স্কুলের শিক্ষক ও অভিভাবকরা।
আবেদনে তিনি আরো উল্লেখ করেছেন, ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে তিনি হেলেনাবাদ-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি দায়িত্ব নেয়ার সময় এই স্কুলের দুরাবস্থা ছিল। দায়িত্ব নেবার পর সকলের সহযোগীতায় তিনি বিদ্যালয়টির পড়াশোনার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনেন। একই সাথে সুশৃঙ্খল ভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে এই স্কুলটি। যার কারণে প্রথমবারের মত ভুলের জন্য তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
রাজশাহী হেলেনাবাদ-১ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুস সামাদ বলেন, আমি আমার ভুল স্বীকার করেছি। হত্যা মামলার আসামী কাঠগড়ায় দাড়িয়ে বিচারকের কাছে দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চাইলে বিচারক বিষয়টি বিবেচনা করেন। সেই জায়গা থেকে আমার ভুলের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে আমি ক্ষমা চেয়েছি ও ভুল স্বীকার করেছি। আসা করি বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষ অফিস দেখবে।
তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র পরিবর্তন না করলে দুর্বল ছাত্ররা বেশি নম্বর পেতো ও যারা ভাল ছাত্র তারা কম নম্বর পেতো। কারণ ভাল শিক্ষার্থীরা ফাঁস হওয়া প্রশ্নের অপেক্ষায় থাকবে না। আর দুর্বল শিক্ষার্থীরা যেভাবেই হোক ফাঁস হওয়া প্রশ্ন খুঁজে পরীক্ষা দেয়ার চেষ্টা করবে। এতে শিক্ষার মান ক্ষুন্ন হবে। এই বিষয়টি চিন্তা করে আমি প্রশ্নপত্র আংশিক পরির্বতন করেছি।
বোয়ালিয়া থানা শিক্ষা অফিসার মোখলেছুর রহমান জানান, হেলেনাবাদ-২ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদ ইংরেজি প্রশ্নপত্র আংশিক পরিবর্তনের বিষয়টি ভুল করে আত্মপক্ষ সমর্থন করে আবেদন করেছেন। একটি আবেদন থানা শিক্ষা অফিস ও আর একটি প্রাথমিক জেলা শিক্ষা অফিসে দিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রধান শিক্ষক আবেদন করতেই পারেন। এটি তার অধিকার। তবে তার আবেদন কর্তৃপক্ষ কিভাবে দেখবে সেটা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিষয়।