শিবগঞ্জে বিএনপির দুগ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা পাশ কাটিয়ে শান্তি সমাবেশ করায় ক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার, শিবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে একটি চায়ের দোকানের সামনে মোটরসাইকেল রাখাকে কেন্দ্র করে ককটেল ফাটিয়ে আতঙ্ক সুষ্টির মাধ্যমে দুদফা হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটলেও এ ঘটনার ২ দিন পার হলেও আইনী কোন পদক্ষেপ নেয়নি কেউ। উল্টো বিএনপির স্থানীয় দুটি গ্রুপের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার বিষয়টি পাশ কাটিয়ে শান্তি সমাবেশের আয়োজন করায় ক্ষোভ ঝেড়েছে অনেকে। তবে স্থানীয় নেতাদের দাবী ভবিষ্যতে যেন কেউ সন্ত্রাসী কার্যক্রম আর করতে না পারে সেজন্য গঠন করা হবে একটি শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি। তবে স্থানীয়দের চাপে মতবিনিময় শেষে আয়োজন করা হয় একটি মানববন্ধন।
সোমবার সকালে উপজেলার সত্রাজিতপুর গোরস্থান চত্বরে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে এমন চিত্র দেখা গেছে।
শান্তি সমাবেশে অংশগ্রহনকারীরা জানায়, গোরস্থান কমিটি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে শনিবার সত্রাজিতপুর বাজারে বহিরাগতরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে ৩ জনকে আহত, ৩টি মোটরসাইকেল ভাংচুর এবং ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক মিন্টু রহমানের বাড়িতে হামলার ঘটনায় এক সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
এ সমাবেশে অধিকাংশরাই শনিবারের ঘটনায় অভিযুক্তদের বিচারে হাজিরের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলার পাল্টা জবাব দেয়ারও আহবান জানানো হয়। তবে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এসব বিষয়কে পাশ কাটিয়ে আগামীতে যেন এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড না ঘটে সেজন্য বিশিষ্টজনদের নিয়ে একটি শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সমাবেশ শেষ করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সত্রাজিতপুর গোরস্থান কমিটির সভাপতি আব্দুস সালাম, সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি নেতা মিন্টু রহমান, ঈদগাহ কমিটির সদস্য মাওলানা আকবর হোসেন, সত্রাজিতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাদিকুল ইসলাম, বিএনপি নেতা তারিফ হোসেন।
শেষে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়কের সত্রাজিতপুর গোরস্থানের সামনে ৫ মিনিট ব্যাপি সংক্ষিপ্ত মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এদিকে মাত্র ১ সপ্তাহের ব্যবধানে ২ বার ৩ দফা ককটেল ফাটিয়ে হামলার ঘটনায় সত্রাজিতপুরের নেতারা কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।
এ ব্যাপারে ইউনিয়ন বিএনপি আহবায়ক মিন্টু রহমান জানান, এটি কোন দলীয় কোন্দল নয়। একদল সন্ত্রাসী অতর্কিত হামলা চালিয়েছে এবং তার বাড়ি ও বাজারের কয়েকটি দোকানে লুটপাট চালানোর উদ্দেশ্যে এ সন্ত্রাসী কার্যক্রম করেছে। তাই তাদের রুখতে ও ভবিষ্যতে সন্ত্রাসী কার্যক্রম রুখতে প্রতি পাড়া থেকে ২ জন করে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একটি শান্তি-শৃঙ্খলা কমিটি গঠন করা হবে।
আইনী ব্যবস্থা কেন নেয়া হচ্ছেনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, উপর মহল থেকে এ নিয়ে কাজ চলছে।
অন্যদিকে শিবগঞ্জ থানার ওসি গোলাম কিবরিয়া জানান, যেহেতু ভুক্তোভোগীদের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ আসেনি তাই পুলিশ এ নিয়ে আগায়নি। তবে পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম চলছে।
প্রসঙ্গত: ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক মিন্টু রহমানের ভাতিজার দোকানের সামনে মোটরসাইকেল রাখাকে কেন্দ্র করে শনিবার রাতে ছত্রাজিতপুর বাজারে ককটেল ফাটিয়ে ২ দফা হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। এতে এক পক্ষের নেতৃত্ব দেয় উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আশরাফুল হকের অনুসারী আসলাম ও সাহেব আলী সহ কয়েকজন। অন্যপক্ষে মিন্টু রহমান। এ ঘটনায় ৩ জন আহত এবং ৩টি মোটরসাইকেল ভাংচুর করা হয়। বিক্ষুব্ধদের মহাসড়ক অবরোধের কারণে উভয় পাশে আটকে যায় পণ্যবোঝাই ট্রাকসহ শতাধিক যানবাহন।
এর এক সপ্তাহ আগে সত্রাজিতপুর বাজারে বালুর ঘাট ও কাঁচাবাজারকে কেন্দ্র করে আধিপাত্য বিস্তারের জেরে ককটেল ফাটিয়ে একই ধরনের হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় আহত হয় ২ জন।


প্রকাশিত: এপ্রিল ২২, ২০২৫ | সময়: ৪:৫৮ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ