এলো খুশির ঈদ

স্টাফ রিপোর্টার: সৌদি আরবে পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে। দেশটিতে রোববার (৩০ মে) পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। শনিবার (২৯ মার্চ) এমন তথ্য জানিয়েছে মক্কা ও মদিনার নিয়মিত আপডেট দেওয়া পেজ ‘ইনসাইড দ্য হারামাইন’।চাঁদ দেখা যাওয়ায় এবার দেশটিতে ২৯ রোজা সম্পন্ন হলো। এমন হিসেবে দেশে ঈদ হওয়ার সম্ভাবনা সোমবার।
দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর আবার এলো খুশির ঈদুল ফিতর। সাম্য-মৈত্রী-শান্তি আর মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের সওগাত নিয়ে প্রতি বছর আমাদের মাঝে উপস্থিত হয় এই খুশির ঈদ। এটি মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। এ দিন হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে যায় মানুষ।
ঈদুল ফিতর একই সঙ্গে উৎসব ও ইবাদতের আধ্যাত্মিক স্বাদ দিয়ে যায় প্রতিটি মুমিনের মনে। ধর্মীয় মূল্যবোধে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা শৃঙ্খলিত করে। ঈদের আনন্দ-চেতনার ছোঁয়া মানবিকতা জাগ্রত করে।
‘ঈদ’ শব্দটির আরবি শব্দমূল ‘আউদ’। এর অর্থ যা ফিরে ফিরে বারবার আসে। প্রচলিত অর্থে ঈদ মানে আনন্দ বা খুশি। যেহেতু এ আনন্দ বা খুশি বছর ঘুরে আসে, এ জন্য ‘ঈদ’ বলে নামকরণ করা হয়েছে। ‘ফিতর’ শব্দের অর্থ ভেঙে দেওয়া, ইফতার করা। ঈদুল ফিতর মানে সে আনন্দঘন উৎসব, যা দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর আসে।
ঈদ মানে ঘরে ফেরার উৎসব। ঈদের সময় শহর ছেড়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ গ্রামে যান স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে। ইতিমধ্যে অনেকে ঢাকা ছেড়েছেন। এবার সড়কপথ, নৌপথ কিংবা আকাশপথে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করছেন ঘরমুখো মানুষ। ঢাকার প্রধান সড়কসহ অলিগলিতে নেই চিরচেনা যানজট। শপিংমল ও বাজার বাদে বেশিরভাগ জায়গায় নেই মানুষের জটলা। ঢাকা যেন অন্য এক ঢাকা। ‘ফাঁকা’ ঢাকায় শুরু হয়েছে ঈদের আমেজ।
ঈদ শুধু নিছক আনন্দ আর ফুর্তির নয়; এ থেকে আমাদের জীবনের জন্য শিক্ষণীয় আছে অনেক কিছুই। ঈদুল ফিতর মুসলমানদের ধর্মীয় ও জাতীয় জীবনের শ্রেষ্ঠতম আনন্দ উৎসব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। পবিত্র রমজানের রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের শেষেই আসে খুশির ঈদ। পশ্চিমাকাশে উদিত শাওয়ালের রুপালি চাঁদ আনন্দের বারতায় উদ্বেলিত করে আমাদের মন ও প্রাণ। রোজাদারের মনে এর চেয়ে খুশি ওই মুহূর্তে আর কিছুই থাকে না। শাওয়ালের চাঁদ উদিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিটি মুমিন মুসলমানের ঘরে আনন্দের ঢল নামে। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক জাতিরই আনন্দ রয়েছে। আমাদের আনন্দ হলো ঈদ।’
ঈদের আগে প্রত্যেক মুসলমান নরনারী, শিশু, এমনকি সদ্য জন্ম লাভকারী শিশুর জন্যও নির্ধারিত ফিতরা আদায় করা জরুরি। যেহেতু ফিতরার টাকা দিয়ে দুস্থ-অসহায়রা ঈদ করেন, সেহেতু ঈদের কিছুদিন আগে এ টাকা আদায় করা সবচেয়ে উত্তম। ফিতরা দেওয়া কারও ওপর কোনো অনুগ্রহ নয়। এটি আমাদের জন্য ইবাদতের অংশ। যাদের মহান আল্লাহ ধন-সম্পদ দিয়েছেন, তারা আল্লাহর রাস্তায় ও গরিব-অসহায়দের প্রতি যতই দান করুক না কেন, এতে তার ধন-সম্পদ কমবে না; বরং বৃদ্ধি পেতে থাকবে।


প্রকাশিত: মার্চ ৩০, ২০২৫ | সময়: ৩:১৯ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ