বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার, গোদাগাড়ী :
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ভিজিএফের চাল পাচারের সময় দু’জন আটক করেছে পুলিশ। আটক কৃত দুজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ২০শে মার্চ গভীর রাতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বাদী হয়ে গোদাগাড়ী মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ উপজেলার গোগ্রাম ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুঃস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত দুই হাজার ৬৩২ কেজি চাল জব্দ করেন। চাল পাচারের অভিযোগে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে জব্দকৃত চালগুলো উপজেলার গোগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে এসব চাল পাচার করা হচ্ছিল। এই ঘটনার পর গোগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আসলাম আলী গা ঢাকা দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে গরীব ও দুঃস্থদের মাঝে বিতরণের লক্ষে গোগ্রাম ইউনিয়নের জন্য ২৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়। এই পরিমাণ চাল দুই হাজার ৩৮০ জন দুঃস্থ ও গরিব মানুষের মাঝে বিতরণের কথা ছিল।
বুধবার একদফা কিছু চাল বিতরণ করা হয় এবং বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সব চাল বিতরণ দেখানো হয়।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে ভ্যানে করে চাল পাচারের সময় এলাকাবাসী দেখতে পেয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ফোন করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই হাজার ৬৩১ কেজি চাল জব্দ করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গোগ্রাম ইউনিয়নের ধাতমা গ্রামের একটি সড়ক থেকে ২৯ বস্তা, ধাতমা খাড়ি ব্রিজের কাছ থেকে ১৭ বস্তা, গোগ্রাম হাটপাড়ার মুকতাদিরের বাড়ি থেকে ৮ বস্তা ও খাদ্য অধিদপ্তরের সীলমোহরকৃত ৮৫টি খালি বস্তায় লেখা আছে “শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ বস্তাগুলো জব্দ করা হয়। চাল পাচারের অভিযোগে তেরোপাড়া গ্রামের আসাদুল ও উ”ছড়াকান্দি গ্রামের মাইনুলকে আটক করা হয়।
গোদাগাড়ী নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ জানান, বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চাল আটক অভিযান চলে। এই বিষয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দপ্তরের একজন কর্মচারী বাদী হয়ে থানায় দুজনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে অভিযোগ দিয়েছেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা একেএম মমিনুল হক জানান, পাচার হওয়া চাল ক্রয়ের অভিযোগে দুই জনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানায় মামলা দায়ের করেছি।
গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ রুহুল আমিন জানান, এ ঘটনায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মমিনুল হক বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেফতারকৃতদের আজ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে এবং তারা দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার মামলায় গোগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান কারাগারে গেলে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য আসলাম আলীকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ঈদ উপলক্ষে দুঃস্থ ও গরিব মানুষদের মাঝে বরাদ্দকৃত বিশেষ ভিজিএফ চালের তালিকা প্রণয়নে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে। যাদেরকে চালের কার্ড দেওয়া হয়েছে তাদের অধিকাংশই সচ্ছল ও বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মী। এই চক্রটি চাল তুলে পরিষদেই বিক্রি করে দিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান আসলাম আলীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।
সানশাইন/সাইফুল/শামি