ঈদের বাজারে যানজটে ভোগান্তি

স্টাফ রিপোর্টার: ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে কেনাকাটায় ব্যস্ত রাজশাহীর মানুষ। ক্রেতাদের ঢল নেমেছে শহরের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা সাহেব বাজার, রাণীবাজার, গণকপাড়া ও রেশমপট্টি এলাকায়। তবে এ বছর বাজার করতে এসে ভোগান্তির মাত্রা যেন কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। যানজটের কারণে বাজারের প্রধান সড়ক ও আশপাশের এলাকা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
শনিবার (১৫ মার্চ) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গাড়ির দীর্ঘ সারি, মানুষের প্রচণ্ড ভিড় এবং দোকানিদের ফুটপাতে পসরা সাজানোর কারণে হাঁটাচলাও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। যানজটের ফলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ ও শিশুদের নিয়ে আসা অভিভাবকরা। এমনকি রোগীদের হাসপাতালেও পৌঁছাতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বাজারের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, ঈদে আমাদের বেচাকেনা ভালো হচ্ছে, কিন্তু যানজটের কারণে ক্রেতারা ঠিকমতো বাজারে ঢুকতে পারছেন না। অনেকেই বিরক্ত হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এটা আমাদের বিক্রিতেও প্রভাব ফেলছে।
আরেক ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, বছরের সবচেয়ে বড় ব্যবসা হয় এই সময়টায়। কিন্তু যানজটের কারণে ক্রেতারা আমাদের দোকানে আসতেই পারছেন না। প্রশাসনের উচিত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।
বাজার করতে আসা মানুষদের দুর্ভোগ এখন চরমে পৌঁছেছে। সকাল থেকেই যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে, আর সন্ধ্যার দিকে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জন্য এই ভোগান্তি আরও বেশি।
ক্রেতা শারমিন আক্তার বলেন, আমি সকাল ১০টায় বের হয়েছি, কিন্তু মাত্র দুই-তিনটা দোকান ঘুরতেই দুপুর হয়ে গেছে। প্রচণ্ড ভিড়, গরম আর যানজটের মধ্যে হাঁটতেই কষ্ট হচ্ছে।
আরেক ক্রেতা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী তামান্না আক্তার বলেন, আমরা কয়েকজন বান্ধবী মিলে ঈদের শপিং করতে এসেছি। কিন্তু এই যানজট ও ভিড়ের কারণে খুব সমস্যা হচ্ছে। রাস্তার পাশে দাঁড়ালেও ধুলো-বালি আর যানবাহনের শব্দে দম বন্ধ হয়ে আসছে।
বয়স্ক ক্রেতা মোহাম্মদ আনিস বলেন, আমি বয়স্ক মানুষ, হাঁটতে কষ্ট হয়। কিন্তু এখানে তো হাঁটারও জায়গা নেই। সবাই ধাক্কাধাক্কি করছে, গাড়ি-রিকশা যেখানে-সেখানে দাঁড়িয়ে আছে। কীভাবে কেনাকাটা করব?
শুধু ক্রেতা-বিক্রেতাই নয়, সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন রোগীরা। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বেশ কয়েকটি হাসপাতালের রোগীরা সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে পারছেন না।
অ্যাম্বুলেন্স চালক মতিউর রহমান বলেন, জরুরি রোগী নিয়ে আসতে গেলে ভয় লাগে, কখন যে কোথায় আটকে যাব। বিশেষ করে সাহেব বাজার এর সামনের অংশটুকু পার করা খুবই কষ্ট সাধ্য।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম জানিয়েছে, অতিরিক্ত রিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ, ফুটপাত দখল, এবং অবৈধ পার্কিংই যানজটের প্রধান কারণ। ঈদকে কেন্দ্র করে রাস্তার পাশে গড়ে ওঠা অস্থায়ী দোকানগুলো যান চলাচলে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, আমরা যানজট নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছি। রাস্তায় যানবাহন চলাচল ঠিক রাখতে চেষ্টা করছি। কিন্তু মানুষজন আইন মানছেন না, ফলে সমস্যাটা আরও বাড়ছে।
তবে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা চান আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তারা মনে করেন, অস্থায়ী দোকানগুলোর জন্য নির্দিষ্ট স্থান বরাদ্দ করা, অবৈধ পার্কিং নিয়ন্ত্রণ, ফুটপাত দখলমুক্ত করা ও যানবাহনের বিকল্প রুট চালু করা হলে যানজট কমে আসবে।
শহরের একাধিক বাসিন্দা বলেছেন, প্রশাসন শুধু আশ্বাস দেয়, কিন্তু বাস্তবে কোনো পরিবর্তন হয় না। প্রতি বছর ঈদের সময় একই সমস্যা হয়, কিন্তু সমাধান আসে না।


প্রকাশিত: মার্চ ১৬, ২০২৫ | সময়: ৪:০৬ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ

আরও খবর