বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার তানোর: রাজশাহীর তানোরে ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথিকে বরণ করা নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে বিএনপির কর্মী গানিউল হক (৫০) নামে একজনের নিহতের ঘটনায় জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির স্বাক্ষরিত প্যাডে এক বিজ্ঞপ্তিতে তানোরের দুই বিএনপির নেতাকে বহিষ্কার আদেশ দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফেসবুকে বহিষ্কার আদেশটি ছড়িয়ে পড়ে। বহিস্কারকৃতরা হলেন, জেলা বিএনপির সদস্য ও তানোর পৌরসভার সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিজান ও পাঁচন্দর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মজিবুর রহমান। জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির আহবায়ক আবু সাইদ চাঁদ, যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম মার্শাল ও সদস্য সচিব বিশ্বনাথ সরকারের স্বাক্ষতির বহিষ্কার আদেশে বলা হয়, দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাদের দুই জনকে বহিস্কার করা হলো।
এদিকে তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে ইফতার মাহফিল উপলক্ষে কৃষ্ণপুর মোড়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। বুধবার মধ্যরাতে থানায় মামলাটি দায়ের করেন নিহত বিএনপি কর্মী গানিউল হকের বড় ভাই পাঁচন্দর ইউনিয়নের বিএনপি’র (সাবেক) সভাপতি মোমিনুল হক মমিন। সেই মামলায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়ি থেকে উপজেলার কচুয়া আইডিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ ফুল মোহাম্মদকে (৬০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলায় মোট ৩৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ জনকে।
মামলার এক নম্বর আসামি রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও তানোর পৌরসভার সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিজানকে সংঘর্ষের হুকুম দাতা হিসাবে আসামি করা হয়েছে। দুই নম্বর আসামী করা হয়েছে পাঁচন্দর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মজিবুর রহমানকে। এছাড়াও পাঁচন্দর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাামের দলীয় নেতা-কর্মীদের আসামী করা হয়েছে।
মঙ্গলবার তানোর উপজেলার কৃষ্ণপুর আদর্শ মহিলা কলেজের মাঠে পাঁচন্দর ইউনিয়ন বিএনপির ওই ইফতারে প্রধান অতিথি ছিলেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও রাজশাহী-১ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দিন। ওই ইফতারে শরীফ উদ্দিন আসার আগে তাকে বরণ করে নিতে বিএনপির দুই গ্রুপের নেতাকর্মীরা আগে থেকেই কৃষ্ণপুর মোড়ে অপেক্ষা করছিলেন। ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মোমিনুল হকের অনুসারী ও বর্তমান সভাপতি মুজিবুর রহমানের অনুসারীরা। প্রধান অতিথিকে বরণ করাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় গানিউল হক আহত হন। তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। বুধবার সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত গানিউলের ছেলে মুকিমাত বলেন, আমি দশ বছর দেশের বাহিরে ছিলাম। আমার বাবার সঙ্গে কথা হয়েছিল ঈদের আগে দেশে ফিরব। বাবার মৃত্যুর খবর শুনে জরুরী ভাবে আগে দেশে ফিরলাম কিন্তু বাবাকে জীবিত দেখতে পেলাম না। আমি দেশে ফিরলাম কিন্তু বাবাকে আমি আর জড়িয়ে ধরতে পারবো না। কাকে আমি বাবা বলে ডাকবো কার বুকে আমি মাথা রাখবো। কান্না জড়িত কন্ঠে কথাগুলো বলেন মৃত গানিউলের একমাত্র ছেলে কাতার প্রবাসী মুকিমাত (২৫)। রাজনীতির প্রতিহিংসার ফলে আমার বাবাকে দিতে হয়েছে প্রাণ। আমি এর বিচার চাই।
এদিকে সদ্য বহিস্কার জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিজান বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে শত প্রতিকুলের মধ্যে ও শহীদ জিয়ার সৈনিক হিসেবে রাজপথে ছিলাম, আজ আছি এবং থাকবো। পাচন্দর ইউনিয়নে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সঙ্গে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই। মারামারি ঘটনার পর আমি ইফতারিতে উপস্থিত হয়েছি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে গুটি কয়েকজন নেতা আমাকে মিথ্যা ভাবে মামলায় জড়িয়েছে।
তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আফজাল হোসেন বলেন, মামলার প্রেক্ষিতে একজন আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামীদের গ্রেপ্তারের জোর চেষ্টা চলছে।