, , ।
স্টাফ রির্পোটার, মোহনপুর: রাজশাহী মোহনপুর উপজেলার অসাধু পেঁয়াজ বীজ ব্যবসায়ীদের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে উষায়ের হাটরা গ্রামের মৃত ছাবের আলী ছেলে আবেদ আলী ও আরিফুর রহমান আরিফ বাদী হয়ে মোহনপুর থানা সহ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছেন। এছাড়া প্রতারিত হয়েছেন বেলাল হোসেন, ইলিয়াস আলী, আবুল কালাম আরিফ হোসেন, মিলন, আয়েজ উদ্দিন, রুবেল মোরশেদ আলী, শামসুল দিং।
উপজেলার রায়ঘাটি ইউনিয়নের হাটরা, ওয়ায়ের হাটরা অধিকাংশ পেঁয়াজ চাষি এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন। যে কারণে এসব এলাকার কৃষকেরা এখন লোকসানের দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন। কৃষকদের অভিযোগ একই ইউনিয়ন মকিনপুর হাটরা গ্রামের মৃত বাবু ছেলে এনামুল হক নামের এক বীজ ব্যবসায়ীর প্রলোভনে প্রতারণার শিকার হয়েছেন তারা।
জানা গেছে, আবেদ আলী মকিনপুর হাটরা গ্রামের এনামুল হক কাছ থেকে ৭-৮ জন কৃষক ২১ কেজি পেঁয়াজ বীজ সংগ্রহ করে বপন করা চাষিদের বীজতলার বেশিরভাগ পেঁয়াজ গাছ হলুদ ও লালবর্ণ ধারণ করে শুকিয়ে মরতে শুরু করেছে। যা রীতিমত কৃষকদের বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান এনামুল থেকে নেওয়া বীজকেই দায়ী করছেন।
পেঁয়াজ চাষি আসাদুল হক শেখ অভিযোগ করে জানান, অসাধু ব্যবসায়ী এনামুল প্রলোভনে পড়ে তিনি পাঁচ কেজি বীজ ক্রয় করে বপন করেন। সেই বীজ থেকে চারা গজানোর কিছুদিন পর হটাৎ ক্ষেতের পেয়াজ গাছ হলুদ ও লালচে বর্ণ ধারণ করে শুকিয়ে মরতে শুরু করে। বিষয়টি এনামুলকে জানালে তিনি আমাদের কোনো সঠিক সমাধান দিচ্ছে না। আমার মতন বহু কৃষক এখন মহা বিপদের মধ্যে রয়েছে।
এলাকার আরেক পেঁয়াজ চাষি হেলাল হোসেন বলেন, এনজিওর ঋণ ও ধারদেনার টাকায় এনামুল কাছ থেকে বীজ ক্রয় করি। এনামুল আমাকে ভালোমানের বীজের প্রলোভন দেখিয়ে আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার এলাকার চাষী লোকমান দেওয়ান জানান, এনামুল কাছ থেকে ১ লক্ষ ৭৬ হাজার টাকার বীজ কিনে এই কাজ আমাদেরে অধিকাংশ পেয়াজ চাষী এখন পথে বসে গেছে।
অপর পেঁয়াজ চাষি আরিফ হোসেন বলেন, এনামুল বীজ ছাড়াও আমি বিভিন্ন কোম্পানির বীজ বপন করেছি। সেখানে কোনো সমস্যা পাইনি। শুধু এনামুলের কাছ থেকে কেনা বীজের চারাগুলো মরে হলুদ হয়ে যাচ্ছে। এনামুল হক আমাদের অধিক ফলনের প্রলোভন দেখিয়ে আমাদের কাছে নিম্নমানের দুই নম্বর বীজ বিক্রি করেছে। এই এলাকার কৃষকবৃন্দ প্রায় ৩ লক্ষ টাকা ক্ষতির হয়েছে।
অভিযুক্ত এনামুল বলেন, চারা মরে যাওয়ার খবর শুনেছি। কিন্তু বীজ তো আমি তৈরি করিনি। আমি তাহেরপুর থেকে এক সীড কোম্পানি আমাকে যে বীজ দিয়েছে, আমি তাই বিক্রি করেছি। এ সময় তার কাছে বীজ বিক্রয়ের ছাড়পত্র দেখতে চাইলে তিনি কোন ছাড়পত্র দেখাতে পারেনি। যার কিছু অংশ আমার নিজের খামারে উৎপাদিত এবং বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা। এ সময় তার বীজ কিনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
মোহনপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে বুধবার দুপুরে আমার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হাটরা মরা বিলা মাঠে গিয়ে পরিদর্শন করি। তখন কিছু কৃষক বীজ নিয়ে প্রতিারিত হওয়ার বিষয়টি আমাদের মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। এ ঘটনায় কৃষকরা ডিলারে বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।