বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর ভারত সীমান্ত ঘেষা আম রাজ্য পোরশা আম বাগানের চৌকিগুলোয় সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তদের হানায় চরম আতংকে পড়েছেন বাগান গুলোর মালিক ও কর্মচারি। সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তরা প্রত্যন্ত অঞ্চলের গহীন আম বাগানে গভীর রাতে বাগানের চৌকি অফিস গুলোয় অতর্কিত হামলা চালিয়ে সেখানে পাহারারত বাগানের কর্মচারিদের মারপিট করে হত্যার হুমকি দিয়ে বাগান রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যার মূল্যবান কৃষি প্রযুক্তি উপকরণ ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। সেই সাথে হুমকিও দিচ্ছে ঘটনা কাউকে বা থানাকে জানালে হত্যা করা হবে। হাজার হাজার হেক্টর জুড়ে সৃজিত গহীন বাগান গুলোয় জানমাল নিয়ে আতংকে আছেন বাগান মালিক-কর্মচারি। ইতোমধ্যে বাগানের আম লুট করার মত ঘটনাও ঘটেছে।
এমন অভিযোগ করেছেন একাধিক বাগান মালিক। দীর্ঘ সময় ধরে বরেন্দ্র অঞ্চলে প্রচন্ড পরিশ্রম করে ধীরে ধীরে গড়ে তোলা লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করে সৃজিত বাগানগুলো থেকে উন্নত প্রজাতির বিভিন্ন প্রকার আম দেশের অর্থনীতিতে রাখছে ব্যাপক ভূমিকা। ফলে বাগান গুলোর নিরাপত্তার জন্য থাকতে হবে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এমন দাবী উঠেছে বাগান মালিকদের পক্ষ থেকে।
পোরশা এক আম বাগানের মালিক মোশাররফ হোসেন বলেন, গত ১১ জুন রাত ৩টার দিকে পোরশা উপজেলার জাফরপুর (মর্শিদপুর হাটের পূর্বপার্শ্বে) আমার ১১০ বিঘার গৌরমতি আম বাগানের প্রতিদিনের মত ২জন পাহারাদার কর্মরত ছিলেন। হঠাৎ করে অজ্ঞাত ৭-৮জন দুর্বৃত্ত বাগানের চৌকি অফিসে জোড় পূর্বক ঢুকে ব্যাটারি, চার্জার স্প্রে মেশিন, ফ্যানসহ বাগান পরিচর্যায় ব্যবহৃত জরুরি মূল্যবান কৃষি প্রযুক্তির উপকরন লুট করে নিয়ে যায়।
এসময় বাগানের ২ পাহারাদার তাদের বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে হত্যার হুমকি দেয়। অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা এর আগেও বড় স্প্রে মেশিন সেট, বৈদ্যুতিক ট্রান্সেফরমার সহ বিভিন্ন জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে ১৩ জুন পোরশা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি।
একই উপজেলার তানিয়া এগ্রোর সত্ত্বাধীকারী বদর উদ্দিন জানান, আম, পিয়ারা, ড্রাগন ও মাল্টার ২৭৮ বিঘার একটি মিশ্র ফল বাগান আছে। ঈদের আগে পর্যন্ত তাঁর বাগানে ৫ দফায় লুটের ঘটনা ঘটেছে। বাগান চৌকির অফিস থেকে ঝড় মেশিন (স্প্রে মেশিন), হাসকিং মেশিন, ফ্যান, ট্রান্সেফরমারসহ বিভিন্ন কৃষি প্রযুক্তি উপকরণ লুট করে নিয়ে যায়। এমন কি সেচ কাজে ব্যবহৃত শত শত ফুট পাইপ ও লুট করে নিয়ে যায়।
এসময় দুর্বত্তরা সেখানে বাগানে কর্মরত সকলের মোবাইল ফোনও নিয়ে গেছে। বাধা দিতে গেলে হত্যার হুমকি দেয়। সর্বশেষ ঈদের ৩-৪ দিন আগেও তাঁর বাগানে লুটের ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন কিনা জানাতে চাইলে তিনি বলেন, ফাঁকা জায়গা বড় বড় বাগান, দুর্বৃত্তদের ভয়ে থানায় কোন অভিযোগ দেইনি।
ওই উপজেলার সরাইগাছি মোড় ফায়ার সার্ভিসের পূর্ব পাশে খাইরুল ইসলাম ও জিয়াউর রহমানের আম্রপালী আম বাগানে দুর্বৃত্তরা হানা দিয়ে আম লুটের চেষ্টা চালায়। খাইরুল ও জিয়াউর জানান, জনৈক ব্যক্তির কাছ থেকে কাতিপুর মৌজার ২ একর ৫৩ শতাংশ জমি সাব লীজ নিয়ে তারা আম চাষ করে আসছেন। এবছর বাগানটিতে প্রচুর পরিমানে আম ছিল।
হঠাৎ করে শুক্রবার দুর্বৃত্তরা গাছ থেকে অপরিপক্ক আমগুলি নামিয়ে চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন দেখতে পেয়ে তাদের ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায়। এসময় তারা ঘটনাস্থল আম বাগানে বিপুল পরিমান আম ছড়িয়ে ছিটিয়ে এবং ৩৮ ক্যারেট আম ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে সেগুলো মালিক পক্ষের লোকজন উদ্ধার করে। এতে তাদের ৬ লক্ষাধীক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তারা জানান। এ বিষয়ে তারা পোরশা থানায় এজাহার করেছেন বলে জানান।
পোরশা থানার অফিসার ইনচার্জ আতিয়ার রহমান জানান, এসব বিষয়ে তিনি অবগত আছেন। দোষিদের সনাক্ত করে গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে। পুলিশের টহল অব্যাহত আছে।
পোরশার বেজোড়া মোড় আম বাগান মালিক সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মহববত হোসেন বলেন, পোরশার আম বাগান মালিকরা চরম আতংকে আছেন। মাঝে মধ্যেই দুর্বৃত্তদের হানায় বাগানের আম এবং প্রয়োজনীয় কৃষি সরঞ্জাম লুট হয়ে যাচ্ছে। মারধর করে আহত করে টাকা মোবাইল সেটসহ বাগান অফিসে রক্ষিত মালামাল নিয়ে যাচ্ছে। বধা দিলেই সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তদের হাতে নির্মম নির্যাতনে শিকার হতে হচ্ছে।
এভাবে চলতে থাকলে কষ্টের তৈরী বাগান গুলো ছেড়ে চলে যেতে হবে। বাগান করার কাজ বন্ধ হয়ে যাবে। ইতোমধ্যে আমার এই এলাকার এক বাগান মালিক বাগান বিক্রি করে চলে গেছেন। এই অবস্থায় বাগানে প্রহরীর কাজ কেউ করতে চাচ্ছে না। তিনি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।