, , ।
অহিদুল হক, বড়াইগ্রাম: নাটোরের বড়াইগ্রামের অদম্য মেধাবী সুমনা খাতুন দারিদ্র্যের লড়াইকে জয় করে এইচএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে। কিন্তু এই আনন্দের চেয়ে এখন তার পরিবারে আশঙ্কার মেঘই বেশি। সুমনার লক্ষ্য উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ‘জজ’ (বিচারক) হওয়া। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের চৌকাঠে পা রাখার এই স্বপ্ন যখন দুয়ারে কড়া নাড়ছে, তখনই থমকে গেছে পুরো পরিবার। কারণ, উচ্চশিক্ষার আকাশছোঁয়া খরচ মেটানোর সাধ্য যে তার ভ্যানচালক বাবার নেই।
সুমনা উপজেলার দোগাছি গ্রামের দরিদ্র ভ্যানচালক আব্দুর রাহিম বিশ্বাস ও গৃহিনী তাহমিনা খাতুন দম্পতির দ্বিতীয় মেয়ে। সে ধানাইদহ খলিশাডাঙ্গা ডিগ্রি কলেজ থেকে এবার উচ্চ মাধ্যমিকে এই কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল করেছে। পাঁচ সদস্যের এই পরিবারটিতে প্রতিবেলার আহার জোটানোই একেকটি যুদ্ধ। বাবা দিনভর রিকশাভ্যানের প্যাডেল চেপে আর মা হিসেবী হাতে কোনোমতে সংসার টিকিয়ে রেখেছেন। এমন অভাবী সংসারে তিন ছেলে-মেয়ের পড়াশোনার খরচ চালানো বড় দুরুহ ব্যাপার।
তবে সুমনা প্রমাণ করেছে, দৃঢ প্রত্যয় থাকলে ভাঙা ঘরে থেকেও সাফল্য ছোঁয়া যায়। তার এই অন্তহীন সংগ্রামের প্রধান অনুপ্রেরণা বড় বোন জান্নাতুল ফেরদৌস টুম্পা, যিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। টুম্পার উচ্চশিক্ষার পথও মসৃণ ছিল না; হোটেলের থালাবাসন ধোয়া থেকে শুরু করে বাজারে সেদ্ধ ডিম বিক্রি করে নিজের পড়ার খরচ জুগিয়েছেন তিনি। বড় বোনের সেই লড়াই সুমনাকে অসম্ভবকে জয় করার সাহস জুগিয়েছে। এছাড়া, তাদের স্বপ্ন পূরণের পথে প্রতিবেশী সাবেক সেনা সদস্য মাইনুল ইসলাম অভিভাবকের ছায়ায় আগলে রেখেছেন।
সুমনার এই কৃতিত্বে শিক্ষক, স্বজন ও এলাকাবাসী আনন্দিত হলেও নিষ্ঠুর বাস্তবতা এখন সামনে। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা, ফরম ফিলাপ ও থাকার খরচ কীভাবে আসবে সেই চিন্তায় আকুল পরিবার। ভ্যানচালক বাবার ঘামে ভেজা উপার্জনে সুমনার বিচারক হওয়ার যে স্বপ্ন, তা কি তবে অর্থের অভাবে অঙ্কুরেই বিনষ্ট হবে?