, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: বিসিক শিল্পনগরী রাজশাহীর প্লট মালিকদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার রাজশাহী বিসিক আঞ্চলিক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আব্দুন নাসের খান।
সভায় বিসিক আঞ্চলিক কার্যালয় আঞ্চলিক পরিচালক জাফর বায়েজীদের সঞ্চালনায় বিসিক শিল্পনগরী রাজশাহীর কার্যক্রমের উপর সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা উপস্থাপন করেন শিল্পনগরী কর্মকর্তা আনোয়ারুল আজিম। সভায় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন বিসিক জেলা কার্যালয় রাজশাহীর উপমহাব্যবস্থাপক মো: রফিকুল ইসলাম। অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি হাসেন আলী, সমাজসেবক ও উদ্যোক্তা লিয়াকত আলী।
বক্তব্য রাখেন রাজশাহী বিসিক-১ ও বিসিক-২ এর প্লট মালিক ও উদ্যোক্তা ইঞ্জিনিয়ার শাকিলুর রহমান শাকিল, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক, আক্তারুজ্জামান, কামরুন্নাহার, মো. আব্দুল গণি, জিয়াউর রহমান, সামশুল আলম, আব্দুস সাত্তার করিম, রফিক হাসান, আশরাফুল ইসলাম, সাইফুজ্জামান জ্যাকি প্রমুখ।
বক্তারা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির কাছে রাজশাহী বিসিক-১ ও বিসিক-২ এর মধ্যে গ্যাস, বিদ্যুৎ-এর বিষয়টি তুলে ধরেন। তারা বলেন রাজশাহী বিসিক-১ প্রাচীর না থাকায় নিরাপত্তাহীনতায় থাকতে হয়। প্রতিনিয়ত চুরি ছিনতাই লেগেই থাকে। নিরাপত্তা প্রহরীর জরুরী প্রয়োজন বলে জানান তারা। বক্তারা প্রধান অতিথি মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপিকে সহজশর্তে ঋণের ব্যবস্থা, কাঁচা ভ্যাট বন্ধ করতে আবেদন জানান। বিসিক এরিয়ায় ড্রেন, রাস্তাঘাট কার্পেটিং, ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের আবেদন করেন।
প্রধান অতিথি মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশের অধিক জনসংখ্যা ও সীমিত ভূমির বাস্তবতায় শ্রমঘন উৎপাদন শিল্পের বিকাশই দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম কার্যকর পথ। তাই স্বল্প মূলধন বিনিয়োগে অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে—এমন শিল্প খাতকে সরকার আগামীতে অগ্রাধিকার দেবে বলে জানিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
অনুষ্ঠানে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিই সরকারের অগ্রাধিকার—উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশে উৎপাদন শিল্পের পরিধি যত বাড়বে, দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবলের চাহিদাও তত বাড়বে। তিনি বলেন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক স্থাপন করতে হলে উৎপাদনশীল খাত ও অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। টেকসই কর্মসংস্থান তৈরি করতে হলে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগগুলো দেশে সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে। তাই এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও বাজার সুবিধা নিশ্চিতে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, সনাতন বা গতানুগতিক শিক্ষার বদলে শিল্পকারখানা ও সেবামুখী খাতের চাহিদার সাথে মিল রেখে তরুণদের কারিগরি প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বাড়াতে হবে। শেষে প্রধান অতিথি রাজশাহী বিসিক-১ ও বিসিক-২ এর সমস্যা সমাধানে সার্বিক উদ্যোগ ও কার্যকরি পদক্ষেপ নিবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।