সর্বশেষ সংবাদ :

ক্ষমতায় ৮ মাস, বাংলাদেশে কতটা পরিবর্তন এনেছে বিএনপি

সানশাইন ডেস্ক: তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করার ১১ দিনের মাথায় যুদ্ধ শুরু হয় মধ্যপ্রাচ্যে। তিনি দায়িত্ব নেন ১৭ ফেব্রুয়ারি আর ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়। মার্চের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে হয়, যা দেশের অর্থনীতিকে আরও চাপের মুখে ফেলে দেয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) শাসনের আট মাস পর সরকারের অর্জিত সাফল্যের চিত্রটি মিশ্র। একদিকে রেমিট্যান্স বেড়েছে অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি কমেছে। তবে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েই চলেছে, ব্যবসায়ীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এখনো উদ্বেগ রয়ে গেছে জনমনে। এ ছাড়াও, মব ভায়োলেন্স বা দলবদ্ধ সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে।
বর্তমান সরকার উত্তরাধিকার সূত্রেই বেশ কিছু জটিল সমস্যা পেয়েছে, তবে তাদের গৃহীত বিভিন্ন সিদ্ধান্তও এখন খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। গত ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত গণভোটে অনুমোদিত সংবিধান সংস্কারের বিষয়টি এখনো আলোচনার টেবিলেই রয়ে গেছে। মানবাধিকার সংক্রান্ত কিছু আইন নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। তবে প্রশ্ন হলো বিএনপি আসলে কতটা পরিবর্তন চায়? তাদের সিদ্ধান্তগুলো কি মানুষের জীবন আগের চেয়ে উন্নত, নিরাপদ এবং স্বাধীন করতে পারছে?
বিএনপি শাসনের আট মাস কেটে গেলেও আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে। বাংলাদেশ পুলিশের মাসিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বরে কম সংখ্যক হত্যা, ডাকাতি এবং অপহরণ মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। তবে চুরির মামলা বৃদ্ধি পেয়েছে, অন্যদিকে মব কিলিং বা দলবদ্ধভাবে পিটিয়ে হত্যা অব্যাহত রয়েছে। এই আট মাসে পুলিশ ২ হাজার ১২২টি হত্যা মামলা রেকর্ড করেছে, যা আগের বছরের ২ হাজার ৩১৭টির চেয়ে কম। ডাকাতির মামলা ১ হাজার ১৫৯টি থেকে ১ হাজার ৭৭টিতে নেমে এসেছে, অপহরণের মামলাও সামান্য কমে ৬২৮ থেকে ৬১৮ হয়েছে। চুরির মামলা ১ হাজার ৭৯৬ থেকে বেড়ে ২ হাজার ৩২টি হয়েছে, অর্থাৎ এ ধরনের মামলা ১৩ শতাংশ বেড়েছে।
নথিভুক্ত মোট মামলার সংখ্যা ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ লাখ ১০ হাজার ২৯৬ থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার ৭৬৩তে দাঁড়িয়েছে। মামলার সংখ্যা বৃদ্ধিতে বড় অবদান রেখেছে মাদক সংক্রান্ত মামলাগুলো; যা প্রায় ৯০ শতাংশ। তবে এই মামলার সংখ্যা বৃদ্ধি থেকে এটা নির্ধারণ করা যায় না যে, মাদক অপরাধ বেড়েছে নাকি পুলিশ মামলা নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রে আগের চেয়ে সক্রিয় হয়েছে। দলবদ্ধ সহিংসতা বা মব ভায়োলেন্স একটি গুরুতর উদ্বেগের বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে। মানবাধিকার সংগঠন ‘আইন ও সালিশ কেন্দ্র’-এর হিসেব অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্টে গণপিটুনিতে ১৩১ জন নিহত হয়েছেন। ১১ এপ্রিল কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে এক ‘পীর’কে পিটিয়ে হত্যা করে একদল লোক। তার দরগা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও হামলা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয় তারা।
সেপ্টেম্বরে ঢাকাতেও এ ধরনের ঘটনা ঘটে। ২৫ সেপ্টেম্বর মিরপুরের মা ও শিশুস্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্র ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে’ ২০০ জনেরও বেশি মুখোশধারী হামলাকারী ভাঙচুর চালায় এবং লুটপাট করে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকলেও লুটপাট থামাতে ব্যর্থ হন।
এর ঠিক একদিন পর কয়েকশ হামলাকারী কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুর চালায়। পুলিশ বলছে জমি নিয়ে বিরোধ থেকে ওই হামলার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের ওপরও হামলা হয়েছে। গত জুনে সাভারে উত্তেজিত জনতা দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করে এক আসামিকে ছিনিয়ে নেয়। জুলাইয়ে কুতুবদিয়ায় এক আসামিকে হেফাজতে নেওয়ার সময় তিন পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলা চালানো হয়। ৫ সেপ্টেম্বর সাভারে স্পেশাল ব্রাঞ্চের সাব-ইন্সপেক্টর আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। আর সর্বশেষ ১০ অক্টোবর খুলনায় ছিনতাইকারীদের হামলায় এক পুলিশ পরিদর্শক গুরুতর আহত হন।
সরকারের দাবি, পুলিশ বাহিনী ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। গত ২৬ আগস্ট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেন যে সরকারের প্রথম ছয় মাসে দায়ের হওয়া প্রায় সব ফৌজদারি মামলার আসামিদের যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান প্রশাসন উত্তরাধিকার সূত্রেই এক নাজুক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পেয়েছিল এবং পুলিশের মনোবল চাঙ্গা করতে তারা কাজ করে যাচ্ছেন। চাঁদাবাজিও একটি উদ্বেগের বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে। গণমাধ্যমে উঠে আসা আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত ঢাকা মহানগরের ৪৯টি থানায় মোট ৭২৩টি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে বিএনপি সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার আগের কয়েক সপ্তাহও অন্তর্ভুক্ত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সোশ্যাল ওয়েলকাম অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং অপরাধ বিশ্লেষক ড. মো. তৌহিদুল হক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের সাফল্য ও ব্যর্থতাকে মিশ্র হিসেবে অভিহিত করেছেন। দ্য ডিপ্লোম্যাটকে তিনি বলেন, ‘গত দেড় বছরের তুলনায় পরিস্থিতির কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে বলে আমরা বলতে পারি না। একই সঙ্গে আমরা বলতে পারি না যে পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে খারাপ হয়েছে।’ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি না হওয়ার পেছনে আংশিকভাবে আইনের অসম প্রয়োগ এবং নিজ দলীয় কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতাকে দায়ী করেন তৌহিদুল হক। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দল যদি নিজের দলের ভেতরের অন্যায়ের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান না নেয়, তবে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।’ মাদকবিরোধী অভিযানের প্রকৃত কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই বিশ্লেষক। তিনি বলেন, ‘মাদকসেবী, খুচরা মাদক বিক্রেতা এবং বাহকেরা গ্রেপ্তার হলেও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা রাজনৈতিক সুরক্ষার সুবিধা পেয়ে যাচ্ছেন। তার মতে, মাদক ব্যবসার মূল পৃষ্ঠপোষক এবং ক্ষমতাধরেরা আইনের আওতার বাইরেই থেকে যাচ্ছে।
এই রাজনৈতিক সুরক্ষাবলয় ভাঙতে হলে পুলিশ বাহিনীতে আরও গভীর পরিবর্তনের প্রয়োজন বলে মনে করেন তৌহিদুল হক। তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশকে এখনো রাজনীতিমুক্ত করা সম্ভব হয়নি। এর অভ্যন্তরীণ কাঠামোও অনেকাংশে অপরিবর্তিত থেকে গেছে।
বিএনপি সরকারের শুরুর মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও সেই অগ্রগতির চিত্র সব জায়গায় সমান ছিল না। মার্চে ভোক্তা মূল্যসূচক এক বছর আগের একই সময়ের তুলনায় ৮.৭১ শতাংশ বেশি ছিল। মে মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.৪২ শতাংশে পৌঁছায়, তবে সেপ্টেম্বরে তা কমে দাঁড়ায় ৮.৩৪ শতাংশে; যা ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের ৮.৩৬ শতাংশের তুলনায় নামমাত্র কম। তবে জিনিসপত্রের দাম বাড়তে থাকায় তা মূল্যবৃদ্ধির চাপ সামলাতে থাকা সাধারণ পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের আয়ও কোনো স্বস্তি দিতে পারেনি। আগস্টে মজুরি সূচক বৃদ্ধি পায় মাত্র ৮.০৫ শতাংশ, যা মূল্যস্ফীতির হারের তুলনায় কম। কৃষি শ্রমিক, নির্মাণ শ্রমিক ও পরিবহন শ্রমিকদের মতো নিম্ন আয়ের নির্বাচিত পেশাগুলোকে নিয়ে এই সূচক তৈরি করা হয়। এসব শ্রমিকের জন্য এই হিসাবের অর্থ দাঁড়ায়, পণ্যের দাম বাড়ার গতি কিছুটা কমলেও তাদের মজুরিতে এক বছর আগের চেয়ে কম পণ্য কেনা যাচ্ছিল। মাদকসেবী, খুচরা মাদক বিক্রেতা এবং বাহকেরা গ্রেপ্তার হলেও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা রাজনৈতিক সুরক্ষার সুবিধা পেয়ে যাচ্ছেন। প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছ থেকে কিছু আশাব্যঞ্জক খবর অবশ্য এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে দেশে আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৮.৯৪ বিলিয়ন ডলারে; যা ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ১৩.১ শতাংশ বেশি। রেমিট্যান্সের এই প্রবাহ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠনে সহায়তা করার পাশাপাশি প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোকে বড় ধরনের স্বস্তি দিয়েছে। এখানে উল্লেখ্য যে, বিএনপি দায়িত্ব নেওয়ার আগে থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা শুরু হয়েছিল। তবে ব্যবসায়িক অঙ্গনে এখনো সতর্কতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ব্যাংক নির্বাহীরা বাজারে দুর্বল চাহিদা, চড়া সুদের ঋণ এবং জ্বালানি সংকটের কথা জানান। ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল আর কে হোসেন বলেন, কারখানাগুলোতে এখনো সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার হচ্ছে না, যার ফলে ব্যবসায়ীদের নতুন করে ব্যবসার সম্প্রসারণে বিনিয়োগ করার জোরালো কারণ নেই। একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় ফেরার পরও ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে শক্তিশালী কোনো পুনরুদ্ধারের চিত্র এখনো দেখা যায়নি।
সরকার উত্তরাধিকার সূত্রেই এই সংকটের সিংহভাগ পেয়েছে। ঋণ বিতরণের সক্ষমতাকে খেলাপী ঋণ সংকুচিত করে রাখার কারণে বাংলাদেশ ব্যাংককে কঠোর সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি বজায় রাখতে হয়েছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদের মুদ্রানীতি বিবৃতিতে স্বীকার করা হয় যে, বাজার ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহ শৃঙ্খলের সমস্যার কারণে তৈরি হওয়া মূল্যস্ফীতি কেবল সুদের হার বাড়িয়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। একই সাথে শিল্প, কৃষি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ৬০ হাজার কোটি (৬০০ বিলিয়ন) টাকার একটি অর্থায়ন প্যাকেজ ঘোষণাও করা হয়। সেপ্টেম্বরে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়া ছিল আরও একটি বড় ধাক্কা। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় সরকার ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করে। জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, রাষ্ট্রায়ত্ত পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের লোকসান কমাতেই এই মূল্যবৃদ্ধি অপরিহার্য ছিল। তবে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ পরিবারগুলোর জন্য এই সিদ্ধান্ত উৎপাদন ও পরিবহন খরচ আরও বাড়িয়ে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। এর ফলে সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে আসার ধারা বজায় রাখা আরও কঠিন হয়ে উঠবে। সরকার তাদের নিজ ব্যয়ের পরিকল্পনা অর্থায়নেও হিমশিম খাচ্ছে। বাংলাদেশি একটি পত্রিকার একটি প্রতিবেদনের সূত্রে এতে বলা হয়, ৯ দশমিক ৩৮ লাখ কোটি টাকার রেকর্ড বাজেট মূলত প্রায় ৭ লাখ কোটি টাকা রাজস্ব সংগ্রহের ওপর নির্ভরশীল। অথচ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ধীরগতি হওয়ায় রাজস্ব আদায়ে ভাটা পড়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সূত্রের বরাত দিয়ে ওই পত্রিকার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট মেয়াদে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৫১ হাজার ৮৯০ কোটি (৫১৮.৯ বিলিয়ন) টাকা; যা আগের বছরের একই সময়ের ৫৪ হাজার ৭০০ কোটি (৫৪৭.৭ বিলিয়ন) টাকার চেয়ে কম এবং দুই মাসের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৯ হাজার ১৬০ কোটি (২৯১.৬ বিলিয়ন) টাকা কম। অন্যদিকে জ্বালানি আমদানির বাড়তি খরচ, ভর্তুকি, সরকারি খাতের বেতন বৃদ্ধি এবং মেগা প্রকল্পগুলোর প্রতিশ্রুতি সরকারের ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
শিল্প অর্থনীতিবিদ, নীতি বিশ্লেষক এবং নলেজ হাব ইনস্টিটিউটের সভাপতি ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, স্থবির প্রবৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব অর্থনীতিতে এক ধরনের মন্থরতা বা স্থবিরতারই ইঙ্গিত দেয়। তার মতে, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কারের বিষয়ে সরকার খুব একটা আগ্রহ দেখায়নি। সরকারের ক্রমবর্ধমান ব্যয় প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ টেনে দ্য ডিপ্লোম্যাটকে তিনি বলেন, সমস্যা হলো, এই বিশাল কর্মকাণ্ডের খরচ চালানোর মতো প্রয়োজনীয় রাজস্ব সহায়তার সক্ষমতা সরকারের নেই।


প্রকাশিত: October 18, 2026 | সময়: 4:25 am | সুমন শেখ

আরও খবর