, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: বরেন্দ্র অঞ্চলের সেচব্যবস্থা আধুনিকায়ন ও জ্বালানি ব্যয় কমাতে প্রায় ১৭ হাজার সেচযন্ত্রে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)। পাশাপাশি উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ, অনলাইনে সেচের টাকা পরিশোধের জন্য ক্যাশলেস ব্যবস্থা চালু এবং স্মার্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে সেচযন্ত্র পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের সম্ভাবনা যাচাইয়ে শনিবার বিএমডিএর রাজশাহী সদর দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় নেট মিটারিং প্রযুক্তির মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ, মোবাইল ফোনে সেচের অর্থ পরিশোধ এবং কেন্দ্রীয়ভাবে সেচযন্ত্রের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম খান। এ সময় চীনের উইলফার ইনফরমেশন টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেডের প্রতিনিধি ঝাং ঝেনহুয়া ও উইলিয়াম লু এবং ঝেজিয়াং কিবিন টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লু চুনহংয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা নেট মিটারিং ও স্মার্ট সেচপ্রযুক্তির কার্যকারিতা, বাস্তবায়ন পরিকল্পনা, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়ে আলোচনা করেন।
এ ছাড়া সানাকোশ অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. শহীদ উল্লাহ, পরিচালক (ব্যবসা) আব্দুল্লাহ আল নাফীজ এবং মহাব্যবস্থাপক মো. তুরজাউল হক সভায় উপস্থিত ছিলেন। সভায় বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি ও সেচব্যবস্থার উন্নয়নে কৃষকের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের ক্ষেত্রে কৃষকেরা কতটা উপকৃত হবেন, সেচ খরচ কমবে কি না এবং প্রয়োজনের সময় সহজে সেচসেবা পাবেন কি না, তা বিবেচনায় নিতে হবে। কৃষকের কল্যাণ নিশ্চিত না করে কোনো প্রযুক্তি বাস্তবায়ন করা বিএমডিএর উদ্দেশ্য নয়।
মতবিনিময় সভায় বিএমডিএর আওতাধীন সেচযন্ত্রগুলোতে সৌর প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন, উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ, কৃষকদের সেচসেবা সহজ করা এবং স্মার্ট সেচপ্রযুক্তির মাধ্যমে সদর দপ্তর থেকে সেচযন্ত্রের কার্যক্রম, বিদ্যুৎ ব্যবহার, রিচার্জ ও আর্থিক লেনদেন পর্যবেক্ষণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় বিএমডিএর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শিবির আহমেদ, মো. জিন্নুরাইন খান, মো. নাজিরুল ইসলাম ও মো. আব্দুল লতিফ; নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হারুন-অর-রশিদ, মো. তোফাজ্জল আলী সরকার, এ এস এম দেলোয়ার হোসেন, মো. আতিকুর রহমান ও মুহাম্মদ মতিউর রহমান এবং মনিটরিং কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।