, , ।
বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি: নাটোরের বড়াইগ্রামে ২০ বছরের দাম্পত্য জীবনের অবসানের পর স্বামী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে নির্যাতন, স্বর্ণালংকার চুরি, মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ করেছেন লাকী খাতুন (৩৮) নামে এক নারী। মঙ্গলবার রাতে এই ঘটনায় তিনি বড়াইগ্রাম থানায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। লাকী খাতুন বড়াইগ্রাম পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বড়াইগ্রাম পশ্চিমপাড়ার খলিলুর রহমানের স্ত্রী।
অভিযুক্তরা হলেন, লাকী বেগমের স্বামী খলিলুর রহমান (৪৫), রেজা আলী (৪৫), সেলিম হোসেন (৫০), আব্দুল মালেক (২৩), কামরুল ইসলাম (২৫), আতিক হোসেন (২৩) ও আমিরুল মিয়া (২৪)।
লাকী বেগম জানান, তার বাবার বাড়ি লালমনিরহাট জেলায়। ২০ বছর আগে ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকুরি করার সময় খলিলুর রহমানের সাথে তার বিয়ে হয়। সেই ঘরে জন্ম নেয় নুর ইসলাম বিজয় (১৩) ও নুসরাত আফরিন জয়া (৩) নামে দুই সন্তান। বিয়ের কিছুদিন পর তার স্বামী বিদেশে যায়। স্বামী বিদেশে থাকার সময় তিনি শ্বশুর শাশুরির যাবতীয় দেখভাল করেন। কিন্তু বিদেশ থেকে ফিরে খলিলুর রহমান মাদক সেবন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। অভিযুক্ত অন্য ব্যক্তিরাও তার স্বামীর সঙ্গে মাদক সেবন করেন। এমনকি অভিযুক্তরা তার শয়নকক্ষে ঢুকে মাদক সেবন করতেন। তাদের এসব কর্মকান্ডে বাধা দিলে তাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন ও হয়রানি করা হয়।
এক পর্যায়ে সহযোগীদের প্ররোচনায় দুই সপ্তাহ আগে খলিলুর রহমান লাকিকে তালাক নোটিশ পাঠান। এরপর থেকে তাদের সহযোগিতায় খলিলুর রহমান তাকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করছেন।
তিনি আরো বলেন, গত সোমবার দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে অভিযুক্তরা তার বসতবাড়ির চারপাশে ঘোরাফেরা করছিলেন। এ সময় তিনি তাদের চলে যেতে বললে অভিযুক্তরা তাকে মারপিট করাসহ গলায় ধারালো চাকু ধরে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য খলিলুর রহমানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে অভিযুক্ত সেলিম হোসেন বলেন, আমার আলাদা বাড়ি। মারপিটের কোন ঘটনা ঘটে নি। আমরা চেষ্টা করছি সংসার যাতে না ভাঙ্গে।
বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।