, , ।
মান্দা প্রতিনিধি: নওগাঁর মান্দায় কারাগারে থাকা ছোট ভাইয়ের হৃদরোগের ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে এবং জরুরি চিকিৎসার নাম করে ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে সাইফুল ইসলাম সহ অজ্ঞাতনামা ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে মান্দা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম (৪০) উপজেলার মৈনম ইউনিয়নের মধ্যমৈনম ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৈনম ইউনিয়নে গ্রাম পুলিশে চাকরি করেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মান্দা উপজেলার মধ্যমৈনম সরদারপাড়া গ্রামের জসিম উদ্দিন সরদারের ছেলে হাফিজুর রহমান সবুজ একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে সম্প্রতি জেলহাজতে রয়েছেন। গত ১৭ আগস্ট সবুজের ভাই শফিকুল ইসলাম এবং তাঁর সঙ্গীরা নওগাঁ জেলখানায় তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। দুপুর ২টার দিকে মৈনম ডাকাতের মোড়ে পৌঁছালে গ্রাম পুলিশ সাইফুল ইসলাম তাঁদের পথ আটকিয়ে সবুজ হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সংবাদ জানায়।
ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলাম দাবি করেন, জেলে অবস্থানরত হাফিজুর রহমান হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁকে প্রথমে নওগাঁ সদর হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জরুরি চিকিৎসার জন্য দ্রুত ২০ হাজার টাকা পাঠানোর কথা বলে তাঁকে চিকিৎসক, জেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও পুলিশের একজন এসআই পরিচয়ে তিনটি বিকাশ নম্বর দেন গ্রাম পুলিশ সাইফুল ইসলাম।
ভাইয়ের জীবন বাঁচানোর আকুলতায় ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে কথিত চিকিৎসকের বিকাশ নম্বরে ২০ হাজার টাকা পাঠান। পরবর্তীতে প্রতারক চক্রটি কৌশলে আরও টাকা দাবি করলে শফিকুলের সন্দেহ হয়। পরে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, তাঁর ভাই সুস্থ আছেন এবং চিকিৎসাজনিত তথ্যাদি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো।
ঘটনার বিষয়ে পরবর্তীতে গ্রাম পুলিশ সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করছেন। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি আপস-মীমাংসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলাম মান্দা থানায় অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম সহ ৩-৪ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযুক্ত গ্রাম পুলিশ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘যেসব মোবাইল ফোনে সবুজের অসুস্থতার কথা আমাকে জানানো হয়েছে সবগুলো নাম্বার তাঁর ভাই শফিকুল ইসলামকে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে চিকিৎসার জন্য টাকা দেওয়া হয়েছে কি-না আমি বলতে পারছি না।’
এ বিষয়ে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।