, , ।
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে ষষ্ঠ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তের হুমকি ও চাপ প্রয়োগের কারণে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ভুক্তভোগীর পরিবার।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত অধীর চন্দ্র (৫৫)-এর বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা চেয়ে ধনবাড়ী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগীর বাবা।
ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর অভিযোগ, বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথে প্রতিবেশী অধীর চন্দ্র তাকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত ও কু-প্রস্তাব দিতেন। গত ২৮ জুলাই মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে বাড়ির পাশে বাবার দা-বটির দোকানে পানি নিয়ে যাওয়ার সময় অধীর তাকে অনুসরণ করেন। পরে চৌধুরী কোচিং সেন্টারের কাছে একটি সরু গলিতে নিয়ে গিয়ে তার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওই ছাত্রীর। এ সময় তার চিৎকার ও কান্নার শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত সেখান থেকে চলে যান বলে সে জানায়।
ওই স্কুলছাত্রী আরও অভিযোগ করে, ঘটনার কথা কাউকে জানালে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। ঘটনার পর থেকে সে ভয়ে ঠিকমতো বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না। সে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে।
ভুক্তভোগীর বাবা সজল চন্দ্র কর্মকার বলেন, তার ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ের সঙ্গে এ ঘটনার পর বিষয়টি স্থানীয়দের জানানো হয়। পরে টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি তদন্তের জন্য ধনবাড়ী থানা পুলিশকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের পর অভিযুক্ত পক্ষের লোকজন মামলা তুলে নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার জন্য চাপ দিচ্ছে। একই সঙ্গে মামলা প্রত্যাহার না করলে তার স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে ধর্ষণ ও হত্যার পর লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ অবস্থায় পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে গত ২৯ আগস্ট ধনবাড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন তিনি। তিনি অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
এদিকে স্থানীয়রা ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ভাইঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হক বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে সুষ্ঠু ও ন্যায়সংগত বিচার হওয়া উচিত। অভিযুক্ত অধীর চন্দ্রের বক্তব্য জানতে তার বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি।
ধনবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরুল সালাম সিদ্দিক জানান, এ ঘটনায় টাঙ্গাইল আদালতে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। থানার পক্ষ থেকে সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন আদালতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া মেয়েটির বাবা নিরাপত্তার জন্য থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ১১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করা হয়।