সর্বশেষ সংবাদ :

বাঘায় দুই মাসে ১৭৫ ব্যবসায়ী পেলেন বাংলা কিউআর

স্টাফ রিপোর্টার,বাঘা :
ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানো ও নগদ টাকার ব্যবহার কমাতে রাজশাহীর বাঘায় ব্যবসায়ীদের বাংলা কিউআর (কুইক রেসপন্স) সুবিধার আওতায় আনছে সোনালী ব্যাংক। গত দুই মাসে ব্যাংকটির বাঘা শাখা থেকে প্রায় ১৭৫ জন ব্যবসায়ী কিউআর কোড পেয়েছেন। পর্যায়ক্রমে শাখার আওতাধীন সব ব্যবসায়ীকে এ সুবিধার মধ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সোনালী ব্যাংক বাঘা শাখার ব্যবস্থাপক ও সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার আতিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। এটি চলমান প্রক্রিয়া। ব্যবসায়ী গ্রাহকেরা ব্যাংকে এলে তাঁদের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কিউআর কোড দেওয়া হচ্ছে।

ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বাঘা শাখার আওতায় বর্তমানে প্রায় দেড় হাজার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী রয়েছেন। এর বাইরে স্থানীয় বাজারগুলোতে অসংখ্য ক্ষুদ্র ও ছোট ব্যবসায়ী রয়েছেন। তাঁদেরও পর্যায়ক্রমে বাংলা কিউআরের আওতায় আনার কাজ চলছে।

বাংলা কিউআরের মাধ্যমে একজন ব্যবসায়ী একটি কোড ব্যবহার করেই বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) ব্যবহারকারী গ্রাহকের কাছ থেকে ডিজিটাল পেমেন্ট নিতে পারবেন। গ্রাহক তাঁর ব্যাংক বা এমএফএসের অ্যাপ দিয়ে কিউআর কোড স্ক্যান করে সরাসরি অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন। ফলে ব্যবসায়ীদের জন্য একাধিক প্রতিষ্ঠানের আলাদা কিউআর কোড রাখার প্রয়োজন কমবে।
আতিকুর রহমান বলেন, আগে অনেক ব্যবসায়ীর কাছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আলাদা আলাদা কিউআর থাকত। বাংলা কিউআরের ফলে একটি কোডের মাধ্যমে বিভিন্ন মাধ্যমে টাকা গ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের লেনদেন আরও সহজ হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণ ও নগদ টাকার ব্যবহার কমানোর অংশ হিসেবে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে দেশে বাংলা কিউআর ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছে। এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সব মার্চেন্ট পয়েন্টে নিজস্ব বা প্রোপ্রাইটারি কিউআরের পরিবর্তে বাংলা কিউআর চালুর নির্দেশ দেয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল পর্যন্ত দেশের ৪৬টি ব্যাংক, সাতটি মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান ও চারটি পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার বাংলা কিউআর ব্যবস্থায় যুক্ত হয়েছিল। তখন প্রায় ৯ লাখ ৬৩ হাজার মার্চেন্ট এ ব্যবস্থার আওতায় ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, উপজেলা পর্যায়ে বাংলা কিউআরের ব্যবহার বাড়লে ব্যবসায়ীদের নগদ টাকা বহনের ঝুঁকি কমবে। একই সঙ্গে লেনদেনের হিসাব সংরক্ষণ সহজ হবে এবং ব্যবসায়ীদের আর্থিক কর্মকাণ্ড আরও স্বচ্ছ ও নথিভুক্ত হবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য এটি ডিজিটাল আর্থিক সেবায় যুক্ত হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

বাঘার স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে প্রতিদিনের ছোটখাটো কেনাকাটায় ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার বাড়ছে। তবে অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এখনো নগদ টাকার ওপর নির্ভরশীল। তাঁদের মধ্যে বাংলা কিউআর ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ানো গেলে ডিজিটাল লেনদেন আরও বিস্তৃত হবে।
ব্যাংকারদের প্রত্যাশা, বাঘার ব্যবসায়ীদের মধ্যে বাংলা কিউআর ব্যবহারের পরিধি বাড়লে স্থানীয় বাজারে নগদনির্ভরতা কমবে। পাশাপাশি দেশের ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ার উদ্যোগে উপজেলা পর্যায় থেকেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।


প্রকাশিত: August 19, 2026 | সময়: 1:21 pm | Daily Sunshine

আরও খবর