, , ।
আক্কেলপুর প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি ওয়েবসাইটে এখনো বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার বিভিন্ন কর্মসূচির ছবি ও তথ্য প্রদর্শিত হচ্ছে। ওয়েবসাইটে সর্বশেষ হালনাগাদের তারিখ দেখানো হয়েছে ২০২৬ সালের ২৯ এপ্রিল। অথচ সেই হালনাগাদের পরও পুরোনো সরকারের বিভিন্ন ছবি বহাল থাকায় সরকারি তথ্য ব্যবস্থাপনা, ওয়েবসাইট রক্ষণাবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
সরকারি ওয়েবসাইটগুলো নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান নিজেরাই তথ্য হালনাগাদ করবে। সেই লক্ষ্যে প্রত্যেকটি সরকারি দপ্তরকে আলাদা আলাদা ব্যবহারকারী আইডি এবং পাসওয়ার্ড দেওয়া আছে বলে জানিয়েছে উপজেলা আইসিটি অফিস।
সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি ওয়েবসাইট ঘুরে দেখা যায়, ‘ফটো ও গ্যালারী’ অংশে এখনো ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ’, ‘স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে জাতির পিতার ম্যুরালে সম্মান প্রদর্শন’, ‘কোভিড-১৯ জনসচেতনতা ও মাস্ক বিতরণ’ এবং ‘সিভিল সার্জন ও ইউএইচএফপিও স্যারের নিয়মিত পরিদর্শন’ শিরোনামের পুরোনো ছবি প্রধানভাবে প্রদর্শিত হচ্ছে।
অথচ বর্তমান সময়ে হাসপাতালের চিকিৎসক তালিকা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা সেবা, ওষুধের প্রাপ্যতা, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, নতুন সরকারি কর্মসূচি কিংবা রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় কোনো হালনাগাদ তথ্য ওয়েবসাইটে দৃশ্যমান নয়। ফলে সরকারি ওয়েবসাইটটি জনসেবার তথ্যভান্ডারের পরিবর্তে কার্যত পুরোনো সরকারের কার্যক্রমের সংরক্ষণাগারে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয়রা।
এদিকে গত ১৬ জুন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের আইসিটি শাখার সহকারী কমিশনার বাদল মিয়া স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় জেলার সব সরকারি দপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট আবশ্যিকভাবে হালনাগাদ ও প্রয়োজনীয় সংশোধন করার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশনায় ওয়েবসাইটে অপ্রাসঙ্গিক, পুরোনো ও বিভ্রান্তিকর তথ্য অপসারণ করে জনসেবাসংশ্লিষ্ট তথ্য নিয়মিত প্রকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
তবে ওই নির্দেশনার পরও আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওয়েবসাইটে এখনো বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার বিভিন্ন কর্মসূচির ছবি ও তথ্য বহাল রয়েছে। ফলে জেলা প্রশাসনের স্পষ্ট নির্দেশনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগও উঠেছে।
স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণকারী আব্দুর রহিম বলেন, সরকারি ওয়েবসাইটে চিকিৎসকের তালিকা, কোন ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে, জরুরি সেবা ও নাগরিকদের প্রয়োজনীয় তথ্য থাকার কথা। কিন্তু সেখানে বছরের পর বছর আগের ছবি পড়ে আছে। এতে সাধারণ মানুষ কোনো উপকারই পাচ্ছে না। হাল নাগাদের সরকারি নির্দেশনা থাকলেও তা না হওয়াই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেছেন।
জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি এস এম রাশেদুল আলম সবুজ বলেন, সরকারি ওয়েবসাইট জনগণের সম্পদ। সেখানে রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তে জনসেবার তথ্যই অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। ফ্যাসিবাদের প্রেতাত্মা এখনো এদের মধ্যে আছে। সরকারি পদে থেকে ফ্যাসিবাদকে প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখছে। এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফ ইফতেখার আহম্মেদ রানা বলেন, সরকারি ওয়েবসাইটে বর্তমান সরকারের নির্দেশনা, স্বাস্থ্যসেবা ও নাগরিক সুবিধার তথ্য থাকার কথা। অথচ বছরের পর বছর পুরোনো রাজনৈতিক কর্মসূচির ছবি বহাল রয়েছে। এটি দায়িত্বে অবহেলার স্পষ্ট উদাহরণ।
এ বিষয়ে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু শফি মাহমুদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওয়েবসাইট হালনাগাদ করার জন্য আমাদের পরিসংখ্যানবীদকে দায়িত্ব দেওয়া আছে। ৮০ শতাংশ হালনাগাদ হয়েছে বলে তিনি আমাকে জানিয়েছেন। আমি বিষয়টি এখনো দেখিনি। দেখে বিস্তারিত বলতে পারবো।
বিষয়টি জানা নেই, তবে খোঁজ নিয়ে দেখা হবে বলে জানান সিভিল সার্জন আল মামুন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন নাহার বলেন, ওয়েবসাইটে তথ্য হালনাগাদ সংশ্লিষ্ট দপ্তরই করবে। আমরা জেলা প্রশাসন থেকে একটি চিঠি দিয়ে সরকারি সকল দপ্তরকে তাদের ওয়েবসাইট হালনাগাদ করার নির্দেশনা দিয়েছিলাম। তারপরও হালনাগাদ না হওয়া দুঃখজনক। আমরা বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেব।