সর্বশেষ সংবাদ :

রাজশাহী বিভাগে বর্তমানে ডেঙ্গু রোগির সংখ্যা কম, বর্ষা বাড়লে চিত্র পাল্টানোর আশঙ্কা

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী বিভাগে বর্তমান সময়ে ডেঙ্গু রোগির সংখ্যা কম। দেশের অন্যসব এলাকায় বর্ষা শুরু হলেও রাজশাহীতে এখনো তেমন বৃষ্টি নেই। তবে, বর্ষার বৃষ্টি শুরু হলে ডেঙ্গু বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে স্বাস্থ্য বিভাগ সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গুর বিস্তার নির্ভর করে তিনটি বিষয়ের ওপর এডিস মশার ঘনত্ব, ডেঙ্গু ভাইরাসের উপস্থিতি এবং আক্রান্ত মানুষের চলাচল। বর্ষা মৌসুম আগেভাগে শুরু হওয়ায় জুন থেকেই বিভাগে ডেঙ্গু রোগির সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নভেম্বর পর্যন্ত সংক্রমণ অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তাঁরা।
স্বাস্থ্য বিভাগ সংশ্লিষ্টরা জানান, মশা, ভাইরাস ও মানুষের মধ্যে সংযোগ তৈরি হলেই ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটে। মশার বংশবিস্তার রোধ করা গেলে অথবা আক্রান্ত ব্যক্তির মাধ্যমে ভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা গেলে ডেঙ্গুও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। দেশের যেকোনো এলাকার ক্ষেত্রেই এটি প্রযোজ্য।
দেশের অন্যসব এলাকা থেকে রাজশাহীতে তুলনামুলক বৃষ্টি এখনো কম। আর সে কারণে উল্লেখযোগ্যভাবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়নি। আগামীতে বর্ষার বৃষ্টি নামলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলে এডিস মশার ঘনত্ব বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা আছে রাজশাহীতে।
রাজশাহী সিটি করপোরেশন দেশের অন্যসব এলাকার মতো ডেঙ্গু পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায় সে বিষয়ে আগামী সর্তকতা হিসেবে বেশ কিছুদিন থেকে জন সচেতনতামুলক প্রচারণা চালাচ্ছে। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
রাজশাহী বিভাগের আটটি জেলায় চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) পর্যন্ত তথ্য থেকে জানা যায়, গত ৬ মাসে ৪৩৪ জন ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৪১৪ জন রোগি হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। মারা গেছেন তিনজন। বর্তমানে ১৭ জন রোগি বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের পরিসংখ্যানবিদ হরিষ চন্দ্র প্রামানিক এসব তথ্য জানিয়েছেন।
হরিষচন্দ্র জানান, বিভাগে সবচেয়ে বেশি ৮২ জন ডেঙ্গু রোগি পাওয়া গেছে সিরাজগঞ্জে। এছাড়া রাজশাহীতে তিনজন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২২, নওগাঁয় ২০, নাটোরে ১৮, জয়পুরহাটে ২ ও বগুড়ায় ১০ জন রোগি ভর্তি হন। এর বাইরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ৭৩ জন, বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৪৪ জন ও সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪২ জন ভর্তি হন।
এছাড়া রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলার হাসপাতালে ভর্তি থাকা ১৭ জন রোগির মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে ৪ জন, সিরাজগঞ্জে ১, পাবনায় ৩, রামেক হাসপাতালে ৪ ও এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫ জন রয়েছেন।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, রাজশাহী বিভাগে ডেঙ্গু রোগির সংখ্যা কম। রোগি দিনে দিনে আরও কমছে। ডেঙ্গু নিয়ে উদ্বেগের আপাতত কোনো কারণ নেই। তারপরও রোগি বাড়লে আমাদের প্রস্তুতি আছে।


প্রকাশিত: জুলাই ৪, ২০২৬ | সময়: ৪:২০ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ