স্টেডিয়ামে বসেই ইংল্যান্ডকে কালো-জাদু করেছে ঘানা

স্পোর্টস ডেস্ক: ইংল্যান্ড-ঘানা ম্যাচ শেষ হয় গোলশূন্য সমতায়। তবে ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে কেবল ফুটবল ছিল না। বরং ঘানার এক ওঝার ভবিষ্যদ্বাণী, গ্যালারিতে এক সমর্থকের রহস্যময় আচার এবং হ্যারি কেইনের অবিশ্বাস্য মিস। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে জন্ম দিয়েছে নতুন এক বিতর্ক। বোস্টনের স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত গ্রুপ পর্বের ম্যাচটিতে বলের দখল, আক্রমণ এবং সুযোগ তৈরিতে স্পষ্ট আধিপত্য ছিল ইংল্যান্ডের। কিন্তু আধিপত্যকে গোলে রূপ দিতে পারেনি থ্রি লায়ন্সরা। বিশেষ করে ম্যাচের ৮৬তম মিনিটে আসে সবচেয়ে বড় সুযোগ। হ্যারি কেইনের শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন ঘানার গোলরক্ষক বেঞ্জামিন আসারে। ফিরতি আক্রমণে বদলি খেলোয়াড় নিকো ও’রেইলির শক্তিশালী হেডও ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।
ম্যাচের আগে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি স্টারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঘানার আলোচিত ওঝা নানা কিয়াঙ্কু বোন্সাম দাবি করেছিলেন, তিনি হ্যারি কেইনের ওপর এমন এক ‘স্পেল’ প্রয়োগ করেছেন, যার ফলে ইংল্যান্ড অধিনায়ক এই ম্যাচে গোল করতে পারবেন না। এরপর ম্যাচ চলাকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, গ্যালারিতে থাকা কিছু ঘানিয়ান সমর্থক সাদা পাউডার ছিটিয়ে নিজেদের দলের সাফল্যের জন্য প্রার্থনা করছেন। আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচলিত ‘জুজু’ সংস্কৃতির সঙ্গে মিল থাকায় ভিডিওগুলো দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।
ঘটনাগুলো যেন আরও নাটকীয় হয়ে ওঠে যখন ম্যাচজুড়ে গোলের দেখা পাননি কেইন। এমনকি শেষ মুহূর্তে পাওয়া সহজ সুযোগটিও কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন ইংলিশ অধিনায়ক। তাঁর শট অনেক ওপর দিয়ে বাইরে চলে গেলে বিস্মিত হয়ে যায় গ্যালারির দর্শকেরাও। ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ড মিডফিল্ডার ডেকলান রাইস বিষয়টি নিয়ে রসিকতা করে বলেন, ‘আমরা সবকিছুই চেষ্টা করেছি। শট নিয়েছি, হেড করেছি, সেট পিস থেকেও চেষ্টা করেছি, কিন্তু কিছুই কাজ করেনি। জানি না, হয়তো কালো জাদুই আজ মাঠে কাজ করছিল!’
রাইসের মন্তব্য নিছক মজা হলেও সেটিই যেন আরও উসকে দেয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনা। মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে অসংখ্য মিম। অনেকেই হাস্যরস করে লিখতে শুরু করেন, ‘ঘানার ওঝা যা বলেছিলেন, সেটাই তো হলো!’ তবে বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়ালে গল্পটা ভিন্ন। ইংল্যান্ডকে আটকে দেওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল ঘানার দুর্দান্ত রক্ষণভাগের। উদ্বোধনী ম্যাচে পানামাকে ১-০ গোলে হারানোর পর এবারও ক্লিন শিট ধরে রেখেছে ব্ল্যাক স্টারস। দুই ম্যাচ শেষে কার্লোস কুইরোজের দল এখনো কোনো গোল হজম করেনি।
তাই ম্যাচ শেষে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি হয়তো অন্য জায়গায়। সত্যিই কি কোনো ‘জুজু’ কাজ করেছে? নাকি বিশ্বকাপের অন্যতম শক্তিশালী আক্রমণভাগকে থামিয়ে দেওয়া ঘানার রক্ষণই ছিল আসল জাদু? উত্তরটা যে দ্বিতীয়টির দিকেই বেশি ঝুঁকে আছে, সেটি হয়তো মাঠের ৯০ মিনিটই সবচেয়ে ভালোভাবে বলে দিয়েছে।


প্রকাশিত: জুন ২৫, ২০২৬ | সময়: ৫:৪৭ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ