রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার: কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এম. এম. আরিফ পাশা বলেছেন, কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা না গেলে তারা ভবিষ্যতে চাষাবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন। তাই কৃষি ও কৃষককে বাঁচাতে সবাইকে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।
শনিবার রাজশাহী ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে অনুষ্ঠিত ‘আঞ্চলিক বিপণন কর্মশালা-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। রাজশাহী কৃষি বিপণন দপ্তরের উদ্যোগে এবং ‘প্রোগ্রাম অন অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্ট্রাপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার)’ প্রকল্পের আওতায় কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।
মহাপরিচালক বলেন, এতদিন আমরা গুরুত্ব দিয়েছি উৎপাদনে। কিন্তু শুধু কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করলেই হবে না, উৎপাদিত পণ্যের দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ, আধুনিক হিমাগার স্থাপন এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে পণ্যের গুণগত মান ও বাজারমূল্য বৃদ্ধি করতে হবে। তিনি জানান, সরকার এমন একটি ব্যবস্থার বিষয়ে চিন্তা করছে, যেখানে কৃষকরা গুদামে পণ্য সংরক্ষণ করে তার বিপরীতে ঋণ সুবিধা পাবেন। এতে তারা মৌসুমে কম দামে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হবেন না।
তিনি আরও বলেন, ‘পার্টনার’ প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের দোরগোড়ায় ডিজিটাল বিপণন সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি রাজশাহী অঞ্চলে সরকারিভাবে একটি কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এসময় তিনি তিনি দীর্ঘমেয়াদে সুফল পেতে ব্যাবসায়িক নৈতিকতা ও মূল্যবোধ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রাজশাহী কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহানা আখতার জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ‘পার্টনার’ প্রকল্পের এজেন্সি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ড. মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল-ফারুক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. আজিজুর রহমান, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার ড. চিত্রলেখা নাজনীন এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোনমি অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন, সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. সানোয়ার হোসেন এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, সিনিয়র মনিটরিং অফিসার মো. বায়েজিদ বোস্তামী।
দিনব্যাপী কর্মশালায় রাজশাহী বিভাগের কৃষি বিপণন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, সফল উদ্যোক্তা ও অংশীজনসহ প্রায় ৮০ জন অংশগ্রহণ করেন। এতে বিভাগের কৃষি বিপণন কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরা হয় এবং উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন মতামত ও সুপারিশ প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকার, বিশ্বব্যাংক এবং আইএফএডি -এর যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত ‘পার্টনার’ প্রকল্পের মোট ব্যয় ৭৬০ কোটি টাকা, যার মধ্যে বৈদেশিক অর্থায়ন ৫৯৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে ২০ হাজার যুবক ও নারী উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ, ইনকিউবেশন সাপোর্ট এবং ম্যাচিং গ্র্যান্ট সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হলো ভ্যালু চেইন প্রমোশনাল বডি গঠন। আম, আলু, কাঁঠাল, টমেটো ও সুগন্ধি চালককে কেন্দ্র করে জাতীয় পর্যায়ে পণ্যভিত্তিক সংগঠন গড়ে তোলা হচ্ছে। রাজশাহী বিভাগের ২৯টি উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।