রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
কালাই প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার জিন্দারপুর ইউনিয়নের বেগুনগ্রাম পশ্চিম মাঠে যাতায়াতের একমাত্র সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে পড়ে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শত শত কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দা। প্রায় এক বছর ধরে ব্রিজটি অকেজো হয়ে থাকলেও পুনর্র্নিমাণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে। গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় প্রায় ৫০০ বিঘা কৃষিজমির সঙ্গে যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে কৃষিকাজ, ফসল পরিবহন ও মাঠে যাতায়াতে প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে কৃষকদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় ২০২১-২২ অর্থবছরে ছোট নদী ও খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের পর ওই এলাকায় পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। পরবর্তীতে কয়েক দফা ভারী বর্ষণ ও অতিবৃষ্টির কারণে ব্রিজের দুই পাশের মাটি ধসে যেতে শুরু করে। একপর্যায়ে ব্রিজটির মাঝের অংশ ভেঙে নিচে দেবে যায়। এরপর থেকে সেতুটি সম্পূর্ণভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ব্রিজটির দুই পাশের সংযোগ সড়ক ধসে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। মাঝখানের লোহার কাঠামো নিচে ঝুলে পড়ায় সেতুটি এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। ঝুঁকি নিয়েই স্থানীয়রা বাঁশ ও কাঠ দিয়ে অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণ করে পারাপারের চেষ্টা করছেন। তবে কৃষিযন্ত্র, মোটরচালিত ভ্যান কিংবা ফসলবোঝাই যানবাহন ওই পথে চলাচল করতে পারছে না।
স্থানীয় কৃষক আমিরুল ইসলাম বলেন, এই ব্রিজ দিয়েই আমরা প্রতিদিন মাঠে যেতাম। এখন অনেক দূর দিয়ে ঘুরে যেতে হয়। ধান, আলু ও সবজির ক্ষেত দেখাশোনা করতে বাড়তি সময় ও খরচ লাগছে। ফসল কাটার পর বাড়িতে আনতেও ভোগান্তির শেষ নেই।
কৃষক আব্দুল মোমিন জানান, ব্রিজটি ছিল মাঠে যাওয়ার সবচেয়ে সহজ ও গুরুত্বপূর্ণ পথ। বর্ষাকালে খালে পানি বেড়ে গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তখন জমিতে যাওয়া, সেচ দেওয়া কিংবা ফসল ঘরে তোলা খুবই কঠিন হয়ে পড়ে।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, বেগুনগ্রাম পশ্চিম মাঠের শতশত বিঘা জমিতে ধান, আলু ও বিভিন্ন মৌসুমি ফসল উৎপাদিত হয়। ব্রিজটি সচল থাকাকালে খুব সহজেই কৃষিপণ্য মাঠ থেকে বাড়ি কিংবা বাজারে নেওয়া যেত। বর্তমানে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হওয়ায় পরিবহন ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে সময়মতো ফসল সংগ্রহ করতে না পারায় উৎপাদন ক্ষতির ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, একাধিকবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বিষয়টি জানানো হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। সামনে বর্ষা মৌসুম শুরু হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এ বিষয়ে কালাই উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সুমন কুমার দেবনাথ বলেন, ভেঙে পড়া ব্রিজটি পিআইও অফিসের মাধ্যমে বরাদ্দ দিয়ে যাতে নতুন করে নির্মাণের কাজ শুরু করা যায়, সেই বিষয়ে ইউএনও মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা করেছি।
কালাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম আরা বলেন, বেগুনগ্রাম পশ্চিম মাঠের ব্রিজ ভেঙে যাওয়ার বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ কমাতে বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পিআইও অফিস থেকে একটা বরাদ্দ দিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।